মঙ্গলবার, ২৯ মে, ২০১৮

দ্রুত ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে কফি ফেস প্যাক


আপনার দিনটি হয়তো শুরু হয় কফির coffee কাপে চুমুক দিয়ে। ক্লান্তি, অবসাদ দূর করতে কফি অতুলনীয়। কিন্তু আপনি জানেন কি রূপচর্চায়তেও কফির ভূমিকা রয়েছে! ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, ত্বককে মসৃণ, কোমল আকর্ষণীয় করতে কফির গুঁড়ো অনেক বেশি কার্যকরী। ত্বকের ধরণ বুঝে কফির প্যাককে ভিন্নতা রয়েছে। আসুন জেনে নিই ত্বকের ধরণ অনুযায়ে কফির কিছু কার্যকরী প্যাক।

১। কফি ও মধুর প্যাকঃ
১ চা চামচ মধু এবং ১ চা চামচ কফি পাউডার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার ভাল করে মুখে এবং ঘাড়ে লাগান। ২০ মিনিট পর প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে কোমল মসৃণ করবে। কফি পাউডারে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামাটোরী যা ত্বককে মসৃণ আর মধু ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে থাকে। এটি স্বাভাবিক ত্বকের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী।

২। অলিভ অয়েল ও কফি প্যাকঃ
অলিভ অয়েল ও কফির প্যাক শুষ্ক ত্বকের অধিকারীদের জন্য অনেক বেশী ফলপ্রসূ। ১ চাচামচ কফি পাউডার এবং ১ চাচামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার এটি মুখ এবং ঘাড়ে ব্যবহার করুন। ৫-১০ মিনিট পর হালকা শুকিয়ে আসলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৩। কফি ও কোকো পাউডারের প্যাকঃ
এটি তৈলাক্ত ত্বকের উপযোগী। ১ চাচামচ কোকো পাউডার, ১ চাচামচ কফি পাউডার এবং কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে নিন। এবার এটি মুখ ও ঘাড়ে ভাল করে লাগান। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কফি এবং কোকো পাউডারে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিক করতে সাহায্য করে। আর মধু আপনার ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে।
৪। দুধ ও কফির প্যাকঃ
এটি সব ধরণের ত্বকের জন্য প্রযোজ্য। ১ চা চামচ কফি পাউডার এবং ১ চা চামচ দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। প্যাকটি ম্যাসাজ করে মুখে লাগান। এটি মূলত ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করে থাকে।

৫। লেবু এবং কফির প্যাকঃ
১ টেবিল চামচ কফি পাউডার, ১ টেবিল চামচ মধু, কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার হালকাভাবে মুখ এবং ঘাড়ে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সব ধরণের ত্বকের অধিকারীরা এই প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮

ব্রণ নিরাময়ে এর চেয়ে সহজ উপায়


একটা বয়সে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে মুখ ভর্তি ব্রণ acne নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন সব বয়েসের মানুষ। শুধু যে বয়সের সন্ধিক্ষণেই এমনটা হয়, তা নয়। অনেক সময় পাঁচন ক্রিয়ার কারণেও ব্রণ সমস্যা দেখা দেয়।

 যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক তাঁবাজারের অনেক ক্রিম, নানান ওষুধপত্রেও হয় না ব্রণ সমস্যার উপশম। তবে একটা ঘরোয়া পদ্ধতিতে খুব সহজেই এই মুশকিল থেকে মুক্তি সম্ভব। সেটা হল, বরফ ঘষা। তবে তা হওয়া উচিত অবশ্যই নিয়ম মাফিক।রাও এই সমস্যায় পড়েন।

কীভাবে? জেনে নিন-
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বরফের ব্যবহার সবথেকে ভালো এবং উপকারী। এটাও মাথায় রাখতে হবে, সব সময় বরফ ঘষলেও সেটা যথাচিত হবে না। বড় বড় ব্রণের acne ক্ষেত্রেই কোনও সূক্ষ্ম কাপড় কিংবা তোয়ালেতে বরফ জড়িয়ে সেটা ব্রণর স্থানে লাগানো উচিত। কখনই খালি বরফ দেওয়া উচিত নয়

রাতের রূপচর্চায় ৩টি অত্যাবশ্যকীয় কাজ


বিরূপ আবহাওয়া, অযত্ন-অবহেলার কারণে অনেকের নিখুঁত স্নিগ্ধ ত্বক হারিয়ে যায়। নিখুঁত সুন্দর ত্বক একধরণের স্বপ্নের মতোই মনে হয়। এ সমস্যাগুলো থেকে সহজেই ত্বকের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
স্কিন এক্সপার্ট হুমায়রা জানান, ‘প্রতিরাতে যদি সামান্য একটু যত্ন নেয়া হয় তাহলে খুব সহজেই ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব। একটু সচেতনতাই ব্রণ, ত্বকের রুক্ষতা এবং অন্যান্য নানা সমস্যা দূরে রাখতে পারে।

তিনটি কাজের মাধ্যমে সম্ভব এই সমস্যাগুলি কিছুটা কমিয়ে নেয়া –

প্রথমত, রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন। কেননা ত্বকের নানা সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে অপরিষ্কার ত্বক, তাই যত জলদি সম্ভব বাসায় ফিরেই ত্বক ভালমত পরিষ্কার করে নেয়া উচিৎ। ত্বক যত অপরিষ্কার থাকবে ততোই সমস্যা বাড়তে থাকবে। তাই প্রতি রাতে বাসায় ফিরে অবশ্যই ভালো করে ত্বক পরিষ্কার করে নেবেন।


ভাল ও আপনার ত্বকের সাথে মানানসই কোন ফেসওয়াস দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিয়ে ত্বক স্ক্রাব করে উপরের ময়লা দূর করে নিন। এরপর একটি সাধারণ বা প্রাকৃতিক কোনো টোনার দিয়ে ত্বক আরও ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। কাঁচা দুধ খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে। দুধ লাগিয়ে ৫ মিনিট রেখে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।
দ্বিতীয়ত, ফেস প্যাক মানে ভারী কোনো ফেস প্যাক নয়। প্রতিদিন রাতে ব্যবহারের জন্য দুধ মধুর হালকা ফেস প্যাকই যথেষ্ট। এতে ত্বকের কোমলতা ফিরে আসে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও বজায় থাকে। যাদের ত্বক রুক্ষ তারা দুধ ও মধু মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।
আবার যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা লেবুর রস ও মধু ব্যবহার করতে পারেন আর যারা একটু উজ্জ্বলতা চান তারা হলুদ গুঁড়ো ও দুধ ব্যবহার করে প্যাক তৈরি করতে পারেন। মাত্র ২০ মিনিট ব্যবহার করেই ধুয়ে ফেললে ত্বকের যত্ন নেয়া শেষ।

তৃতীয়ত, সঠিক খাবার রাতের খাবারের কারণে অনেক সময় ত্বকের সমস্যা দেখা যায় বলে জানান হুমায়রা। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘রাতের ভারী খাবার হজম না হওয়ার কারণে অনেকেরই ব্রণ সমস্যা দেখা দেয়’। তাই রাতে হালকা খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সেই সাথে পান করা উচিত অন্তত ২ গ্লাস পানি।

বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ওজন কমাতে মধু ও লেবুর ব্যবহার


ওজন কমাতে অনেকে অনেক কিছু পান করেন বা খান। যেমন : ওজন কমানোর চা, সোনাপাতা, ওজন কমানোর ওষুধ ইত্যাদি। এগুলোর কোনো কার্যকারিতা আছে কিনা তা সন্দেহ আছে। থাকলেও এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক উপাদান মধু ও লেবু আসলেই যে কার্যকরী, তা পরীক্ষিত এবং সারা বিশ্বে সমাদৃত ও স্বীকৃত । ওজন কমাতে দুটি প্রাকৃতিক উপাদান লেবু ও মধুর পানীয় সম্পর্কে অনেকেই জানেন । ওজন কমানো ছাড়াও লেবু ও মধুর অনেক গুণাগুণ আছে।

কেন ওজন কমায়
মধুতে যদিও চিনি থাকে, কিন্তু এতে ভিটামিন ও মিনারেল থাকার কারণে এটি সাধারণ চিনির মতো ওজন না বাড়িয়ে কমায়। কারণ সাধারণ চিনি হজম করতে আমাদের শরীর নিজের থেকে ভিটামিন ও মিনারেল খরচ করে, ফলে এসব পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। এসব উপাদান ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমাতে বা ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে যখন আমরা বেশি চিনি খাই, তখন অধিক ক্যালরি শরীরে জমা ছাড়াও এসব পুষ্টি উপাদানের চিনি হজম করতে অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হয়। তাই ওজন বাড়াতে পারে। কিন্তু মধুতে এসব উপাদান থাকার ফলে এগুলো হজমে সহায়ক এবং ফ্যাট ও কোলেস্টেরল কমায়। তাই এই পানীয় ওজন কমায়। তাছাড়া সকালে উঠেই শরীর যদি পানি জাতীয় কিছু পায়, তবে তা হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে একই রকম শারীরিক পরিশ্রম করেও আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধির কারণে ওজন কমতে পারে।

লেবু-মধু পানীয় বানানোর প্রণালী
এক গ্লাস হালকা বা কুসুম গরম পানি, আধা চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধু। গরম পানিতে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করুন লেবু-মধু পানীয়। আপনি চাইলে এর সঙ্গে সবুজ চা মেশাতে পারেন।

যা লক্ষ্য রাখবেন
—আগে পানি হালকা গরম করে তারপর লেবু ও মধু মেশাবেন। মধু
কখনোই গরম করতে যাবেন না।
—যদি ঠাণ্ডা পানিতে এটি পান করেন, তবে বিপরীত ফল হবে, মানে
আপনার ওজন বাড়বে।
লেবু-মধু পানীয়ের উপকারিতা
— এই পানীয় শরীর থেকে টক্সিন বের করে। শরীরের ভেতরের
নালীগুলোর সব ময়লা বের করে দেয়।
— মেটাবলিজম/হজম শক্তি বাড়ায়, ফলে ওজন কমে। ঠাণ্ডা লাগলে এই
পানীয় কফ বের করতে সাহায্য করে এবং ঠাণ্ডা লাগলে গলাব্যথা
করলেও এটি উপকারী ।
— এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
— শরীরে শক্তি বাড়ায়, অলসতা কমায়।
— কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
মধুর উপকারিতা
মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ আলাদাভাবে থাকে, কিন্তু চিনিতে তা একসঙ্গে থাকে। ফ্রুকটোজ তাড়াতাড়ি গ্লুকোজের মতো শরীরে ক্যালরি হিসেবে জমা হয় না। তাই চিনির মতো মধু সহজে ক্যালরি জমা করে না। ফলে অল্প মধু খেলেও ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম।
মধু শরীরকে রিলাক্স করে, মনকে প্রফুল্ল রাখতে সাহায্য করে এবং সহজে ঘুম আনতে সাহায্য করে।
মধু একটি প্রাকৃতিক এন্টি বায়োটিক, যা শরীরের সব ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে ইনফেকশন দূর করে। ফলে শরীরের কাজ করার প্রণালী উন্নত হয় এবং হেলদি থাকে।
মধু হজমে সহায়ক। তাই বেশি খাবার খাওয়ার পরে অল্প মধু খেতে পারেন
—মধু ফ্যাট কমায়, ফলে ওজন কমে।
—মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয়।
—চোখের জন্য ভালো।
—গলার স্বর সুন্দর করে।
—শরীরের ক্ষত দ্রুত সারায়।
—আলসার সারাতে সাহায্য করে।
—নালীগুলো পরিষ্কার করে।
—ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
—মধু এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ
পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
—বুদ্ধিবৃত্তি বাড়ায়।
—শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।
লেবুর উপকারিতা
লেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা এন্টিসেপটিক ও ঠাণ্ডা লাগা প্রতিরোধ করে
—লেবুর এই উপাদানগুলো টনসিল প্রতিরোধ করে
—এছাড়া লেবুর ভিটামিন সি ক্যান্সারের সেল গঠন প্রতিরোধ করে।
—লেবু বুক জ্বালা প্রতিরোধ করতে ও আলসার সারাতে সাহায্য করে।
—লেবু আর্থাইটিসের রোগীদের জন্য ভালো ।
—লেবু শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে।
—লেবু এন্টিঅক্সিডেন্ট। তাই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ত্বক
পরিষ্কার রাখে, অপহব দূর করে। ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।
কালোদাগ ও ত্বকের ভাঁজ পড়া কমায়।
—লেবু ওজন কমাতে সাহায্য করে।
—লেবু হজমে সহায়ক ও হজমের সমস্যা দূর করে।
—কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
—শরীরের ভেতরের টক্সিন দূর করে, অন্ত্রনালী, লিভার ও পুরো শরীরকে
পরিষ্কার রাখে।
—পেট ফোলাজনিত সমস্যা কমায়।
—রক্ত পরিশোধন করে।
—ঠাণ্ডা লাগলে জ্বর, গলাব্যথায় ভালো ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
—শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি হলে ভালো কাজ করে।
—শ্বাসনালীর ও গলার ইনফেকশন সারাতে সাহায্য করে।
কখন খাবেন
সাধারণত সকালে উঠেই প্রথম পানীয় হিসেবে খালি পেটে এটি খাওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরে সকালের নাস্তা খেতে পারেন।
সাবধানতা
যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই এটি খালি পেটে খাবেন না। কারণ লেবু এসিডিক। তাই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি খাবেন।
তাছাড়া লেবুর এসিড দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর, তাই এই পানীয় খাবার সঙ্গে সঙ্গে কুলি করবেন, অথবা পানি খাবেন।
একটা কথা মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য এই পানীয় শুধুই সহায়কমাত্র। সম্পূর্ণ ওজন কমানোর প্রক্রিয়াতে অবশ্যই থাকতে হবে স্বাস্থ্যকর/ব্যালেন্সড ডায়েট, নিয়মিত শরীর চর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা।

মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

যে ৪টি খাবার আপনাকে দ্রুত স্লিম হতে সাহায্য করবে

১। আপেল

ডায়াটারি ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস হচ্ছে আপেল। ডায়াটারি ফাইবার শুধু পরিপাক তন্ত্রকে সুস্থ রাখতেই সাহায্য করেনা কোলেস্টেরল কমতেও সাহায্য করে। আপেল পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে। অ্যাপেটাইট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যে সকল নারী দৈনিক ৩ টি আপেল বা ৩ টি নাশপাতি খান তাদের ওজন বেশি কমে যারা ৩ টি ওটস কুকিজ খান তাদের চেয়ে। যদিও ফল ও কুকিজে একই পরিমাণ ডায়াটারি ফাইবার থাকে। “গ্রিথ কন্ট্রোল :  দ্যা সাইন্স অফ ফ্যাট লস এন্ড মাসেল গেইন” বইটির লেখক ও পুষ্টিবিদ অ্যালান অ্যারাগন এর মতে, কুড়মুড়ে খাবার মানুষকে পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়। চাবানোর ফলে শরীর থেকে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়। এর ফলে আপনি যা খেয়েছেন তারচেয়ে অনেক বেশি খেয়েছেন বলে মনে হবে এবং ক্ষুধাকে দূর করে দেবে।

২। কাঠবাদাম

আপনি যদি স্ন্যাক্স হিসেবে সুস্বাদু কিছু চান তাহলে একমুঠো কাঠবাদাম হতে পারে আদর্শ খাবার। ২০০৯ সালে “দ্যা আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন” এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যে সকল নারীরা সপ্তাহে অন্তত ২ দিন বাদাম খান তারা যারা খান না তাদের চেয়ে বেশি ওজন কমাতে সফল হন। ১ আউন্স কাঠবাদামে ১৬৭ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে ৬ গ্রাম প্রোটিন ও ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে যা আপনাকে পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়।

৩। ডিম

এতে কোন সন্দেহ নেই যে ফাইবারের মত প্রোটিনের তৃপ্তি দানকারী ক্ষমতা আছে। গবেষণায় জানা  যায় যে, সকালে ডিম খেলে সারাদিনে ওজন বৃদ্ধির সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। “ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অবেসিটি” তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় যে, যারা সকালের নাশতায় ২ টি ডিম খায় সপ্তাহে ৫ দিন, তাদের ৬৫% ওজন কমে। ডিমের কুসুমে যে প্রোটিন থাকে তা  গ্লুকাগন হরমোনের নিঃসরণকে উদ্দীপ্ত করে যা ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করে বিশেষ করে পেটের মেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই শুধু ডিমের সাদা অংশ নয় কুসুমসহ ডিম খান।

৪। টমাটো

বেশিরভাগ সবজিই আপনাকে শুকাতে সাহায্য করবে। তবে টমাটোর কথা উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে এটি খুবই সুস্বাদু। এক কাপ রান্না করা টমাটতে মাত্র ৪৩ ক্যালরি থাকে। কিন্তু অন্য যেকোন উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবারের চেয়ে বেশি সুস্বাদু হচ্ছে টমাটো।
স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পাশাপাশি ব্যায়াম করাও ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয়। উপরোল্লেখিত খাবার গুলো ওজন কমাতে সাহাজ করে কারণ এগুলো ফাইবার বা প্রোটিনে সমৃদ্ধ। এই খাবারগুলো পরিতৃপ্তি দিতে পারে অর্থাৎ এগুলো খাওয়ার পর আপনি ক্ষুধা অনুভব করবেন না। তাই ওজন কমাতে চাইলে এই খাবার গুলো খান।

শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০১৭

নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পানের উপকারিতা

১। হার্ট সুস্থ রাখতে
আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ
 অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে
অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
 
৪। ওজন হ্রাস করতে
ওজন কমাতে অ্যালভেরা জুস বেশ কার্যকরী। ক্রনিক প্রদাহের কারণে শরীরে মেদ জমে। অ্যালোভেরা জুসের অ্যাণ্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান এই প্রদাহ রোধ করে ওজন হ্রাস করে থাকে। পুষ্টিবিদগণ এই সকল কারণে ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা জুস রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫। হজমশক্তি বাড়াতে
হজমশক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা জুসের জুড়ি নেই। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করে। যা হজমশক্তি বাড়িয়ে থাকে।

৬। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে
অ্যালোভেরা জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে নিয়মিত এর জুস খাওয়া গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন।

৭। ত্বকের যত্নে
ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। এর অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

ঘরোয়া উপায়েই নাক বন্ধ দূর করুন

১। গরম ভাপ নিন
একটি গামলায় গরম পানি নিন এবং এতে কিছুটা কর্পূর মিশিয়ে নিন। আপনার মুখ এর উপরে রেখে একটি বড় ও মোটা তোয়ালে দিয়ে মাথা ও পানি সহ গামলাটি ঢেকে দিন যাতে গরম পানির ভাপটা সরাসরি আপনার নাকে যায়। গরম পানির তাপমাত্রাটা এমন হতে হবে যেন আপনার ত্বকের জন্য সহনীয় হয়।এবার শ্বাস নিন।এভাবে কিছুক্ষণ শ্বাস নিলে গরম বাতাস নাকের ভিতরের শ্লেষ্মাকে গলে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।গরম পানি দিয়ে গোসল করলেও একই রকম উপকার পাওয়া যাবে।

২। বেশী বেশী তরল খাবার খান
পানি, জুস, সূপ ইত্যাদি তরল খাবার বার বার খেলে নাকের ভেতরে শ্লেষ্মাকে পাতলা করে, সাইনাসের উপর চাপ কমে এবং চাপ কমা মানে প্রদাহ ও যন্ত্রণা কমা। নাক বন্ধের সাথে যদি গলা ব্যথা ও থাকে তাহলে গরম চা ও গরম সূপ খেলে ব্যথা কমবে।
 
৩। কালোজিরার ঘ্রাণ নিন
একটা ছোট রুমালে কিছু কালোজিরা নিয়ে ছোট্ট পুঁটুলি তৈরি করুন। পুঁটুলিটা হাতের তালুতে নিয়ে কিছুক্ষণ ঘষে গরম করে নিন। তারপর এটা নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস নিন।কালজিরার তীব্র গন্ধ নাক পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

টিপস-
১। ঘুমানোর সময় মাথা যথাসম্ভব উঁচু বালিশে রেখে ঘুমান।
২। যতবার প্রয়োজন হয় নাক পরিস্কার করে ফেলুন এবং এর জন্য হাতের কাছেই টিস্যু রাখুন।
৩। গন্ধহীন টিস্যু ব্যবহার করুন
৪। মসলা যুক্ত খাবার বর্জন করুন।
৫। স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।
যদি উল্লেখিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণের পর ও নাক বন্ধ ভালো না হয় তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।