মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

যে ৪টি খাবার আপনাকে দ্রুত স্লিম হতে সাহায্য করবে

১। আপেল

ডায়াটারি ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস হচ্ছে আপেল। ডায়াটারি ফাইবার শুধু পরিপাক তন্ত্রকে সুস্থ রাখতেই সাহায্য করেনা কোলেস্টেরল কমতেও সাহায্য করে। আপেল পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে। অ্যাপেটাইট নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যে সকল নারী দৈনিক ৩ টি আপেল বা ৩ টি নাশপাতি খান তাদের ওজন বেশি কমে যারা ৩ টি ওটস কুকিজ খান তাদের চেয়ে। যদিও ফল ও কুকিজে একই পরিমাণ ডায়াটারি ফাইবার থাকে। “গ্রিথ কন্ট্রোল :  দ্যা সাইন্স অফ ফ্যাট লস এন্ড মাসেল গেইন” বইটির লেখক ও পুষ্টিবিদ অ্যালান অ্যারাগন এর মতে, কুড়মুড়ে খাবার মানুষকে পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়। চাবানোর ফলে শরীর থেকে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়। এর ফলে আপনি যা খেয়েছেন তারচেয়ে অনেক বেশি খেয়েছেন বলে মনে হবে এবং ক্ষুধাকে দূর করে দেবে।

২। কাঠবাদাম

আপনি যদি স্ন্যাক্স হিসেবে সুস্বাদু কিছু চান তাহলে একমুঠো কাঠবাদাম হতে পারে আদর্শ খাবার। ২০০৯ সালে “দ্যা আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন” এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায় যে, যে সকল নারীরা সপ্তাহে অন্তত ২ দিন বাদাম খান তারা যারা খান না তাদের চেয়ে বেশি ওজন কমাতে সফল হন। ১ আউন্স কাঠবাদামে ১৬৭ ক্যালরি থাকে। এছাড়াও এতে ৬ গ্রাম প্রোটিন ও ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে যা আপনাকে পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয়।

৩। ডিম

এতে কোন সন্দেহ নেই যে ফাইবারের মত প্রোটিনের তৃপ্তি দানকারী ক্ষমতা আছে। গবেষণায় জানা  যায় যে, সকালে ডিম খেলে সারাদিনে ওজন বৃদ্ধির সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। “ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অবেসিটি” তে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় যে, যারা সকালের নাশতায় ২ টি ডিম খায় সপ্তাহে ৫ দিন, তাদের ৬৫% ওজন কমে। ডিমের কুসুমে যে প্রোটিন থাকে তা  গ্লুকাগন হরমোনের নিঃসরণকে উদ্দীপ্ত করে যা ফ্যাট পোড়াতে সাহায্য করে বিশেষ করে পেটের মেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। তাই শুধু ডিমের সাদা অংশ নয় কুসুমসহ ডিম খান।

৪। টমাটো

বেশিরভাগ সবজিই আপনাকে শুকাতে সাহায্য করবে। তবে টমাটোর কথা উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে এটি খুবই সুস্বাদু। এক কাপ রান্না করা টমাটতে মাত্র ৪৩ ক্যালরি থাকে। কিন্তু অন্য যেকোন উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবারের চেয়ে বেশি সুস্বাদু হচ্ছে টমাটো।
স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পাশাপাশি ব্যায়াম করাও ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয়। উপরোল্লেখিত খাবার গুলো ওজন কমাতে সাহাজ করে কারণ এগুলো ফাইবার বা প্রোটিনে সমৃদ্ধ। এই খাবারগুলো পরিতৃপ্তি দিতে পারে অর্থাৎ এগুলো খাওয়ার পর আপনি ক্ষুধা অনুভব করবেন না। তাই ওজন কমাতে চাইলে এই খাবার গুলো খান।

শুক্রবার, ৪ আগস্ট, ২০১৭

নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পানের উপকারিতা

১। হার্ট সুস্থ রাখতে
আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ
 অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে
অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
 
৪। ওজন হ্রাস করতে
ওজন কমাতে অ্যালভেরা জুস বেশ কার্যকরী। ক্রনিক প্রদাহের কারণে শরীরে মেদ জমে। অ্যালোভেরা জুসের অ্যাণ্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান এই প্রদাহ রোধ করে ওজন হ্রাস করে থাকে। পুষ্টিবিদগণ এই সকল কারণে ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা জুস রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫। হজমশক্তি বাড়াতে
হজমশক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা জুসের জুড়ি নেই। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করে। যা হজমশক্তি বাড়িয়ে থাকে।

৬। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে
অ্যালোভেরা জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে নিয়মিত এর জুস খাওয়া গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন।

৭। ত্বকের যত্নে
ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। এর অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৭

ঘরোয়া উপায়েই নাক বন্ধ দূর করুন

১। গরম ভাপ নিন
একটি গামলায় গরম পানি নিন এবং এতে কিছুটা কর্পূর মিশিয়ে নিন। আপনার মুখ এর উপরে রেখে একটি বড় ও মোটা তোয়ালে দিয়ে মাথা ও পানি সহ গামলাটি ঢেকে দিন যাতে গরম পানির ভাপটা সরাসরি আপনার নাকে যায়। গরম পানির তাপমাত্রাটা এমন হতে হবে যেন আপনার ত্বকের জন্য সহনীয় হয়।এবার শ্বাস নিন।এভাবে কিছুক্ষণ শ্বাস নিলে গরম বাতাস নাকের ভিতরের শ্লেষ্মাকে গলে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।গরম পানি দিয়ে গোসল করলেও একই রকম উপকার পাওয়া যাবে।

২। বেশী বেশী তরল খাবার খান
পানি, জুস, সূপ ইত্যাদি তরল খাবার বার বার খেলে নাকের ভেতরে শ্লেষ্মাকে পাতলা করে, সাইনাসের উপর চাপ কমে এবং চাপ কমা মানে প্রদাহ ও যন্ত্রণা কমা। নাক বন্ধের সাথে যদি গলা ব্যথা ও থাকে তাহলে গরম চা ও গরম সূপ খেলে ব্যথা কমবে।
 
৩। কালোজিরার ঘ্রাণ নিন
একটা ছোট রুমালে কিছু কালোজিরা নিয়ে ছোট্ট পুঁটুলি তৈরি করুন। পুঁটুলিটা হাতের তালুতে নিয়ে কিছুক্ষণ ঘষে গরম করে নিন। তারপর এটা নাকের কাছে নিয়ে শ্বাস নিন।কালজিরার তীব্র গন্ধ নাক পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

টিপস-
১। ঘুমানোর সময় মাথা যথাসম্ভব উঁচু বালিশে রেখে ঘুমান।
২। যতবার প্রয়োজন হয় নাক পরিস্কার করে ফেলুন এবং এর জন্য হাতের কাছেই টিস্যু রাখুন।
৩। গন্ধহীন টিস্যু ব্যবহার করুন
৪। মসলা যুক্ত খাবার বর্জন করুন।
৫। স্যালাইন স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।
যদি উল্লেখিত পদ্ধতিগুলো অনুসরণের পর ও নাক বন্ধ ভালো না হয় তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

বুধবার, ২ আগস্ট, ২০১৭

ক্যালোরি পোড়াতে সকালে করুন ৫টি কাজ

১) এক্সারসাইজ করুন
ব্যায়ামের উপকারিতার কথা বলাই বাহুল্য। সকাল সকাল ব্যায়াম করে দিন শুরু করলে শরীরটা জেগে ওঠে। এটা মেটাবলিজম বাড়াতেও কাজে আসে। গবেষণায় দেখা যায়, দিনের অন্য কোনো সময়ের চাইতে সকালে ব্যায়াম করলে বেশি ক্যালোরি বার্ন হয়। সকালটা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করলে সারাদিনই স্বাস্থ্যকর কাজগুলো করার দিকে আপনার মনোযোগ থাকবে। তবে কম ঘুমিয়ে সকালে উঠে ব্যায়াম করতে হলে উপকারের বদলে ক্ষতিই হবে। তাই ঘুমের কথা মাথায় রাখুন।

২) করুন ইনটেনসিভ ব্যায়াম
সকালে যাদের ব্যায়াম করার সময় বের করাই কষ্ট, তাহের জন্য সুখবর। মাত্র আড়াই মিনিটের ইনটেনসিভ ব্যায়াম করলে এর প্রভাব সারাদিন থেকে যায়। মোটামুটি ২০০ ক্যালোরি পোড়াতে তা সাহায্য করতে পারে। দেখে নিতে পারেন Popsugar এর ছোট্ট অথচ ইনটেনসিভ ১০টি ব্যায়াম।

৩) সকালের নাশতা করুন
নাশতা কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। ঘুম থেকে ওঠার পর দেরি না করে নাশতা করলে আমাদের শরীর ক্যালোরি পোড়ানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

৪) দুপুরের আগে খান হালকা খাবার
ওজন ঠিকই রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার দিয়ে ১১টার দিকে নাশতা করাটা ভালো। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে অবশ্যই। খেতে পারেন এমন কোন স্ন্যাক্স যা মেদ পোড়াতে সক্ষম।

মঙ্গলবার, ১ আগস্ট, ২০১৭

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যে কাজগুলো করবেন

১) ব্যবহার করুন সঠিক মাপের ব্রা
আরামদায়ক এবং স্বাস্থ্যকর ব্রা ব্যবহার করুন এবং অবশ্যই সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। সময়ের সাথে ব্রা সাইজ চেঞ্জ হতে পারে এ কারণে এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরী।

২) মাঝে মাঝে ব্রা ছাড়াই থাকুন
বাড়িতে ব্রা ছাড়াই থাকার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর অনেকটা শান্তি পাবে। মাঝে মাঝে স্পোর্টস ব্রা পরেও থাকতে পারেন।

৩) মাসাজ করুন
শুধু হাত-পা নয়, রক্ত চলাচল বজায় রাখতে মাঝে মাঝে স্তন মাসাজ করতে পারেন।

৪) নিজে থেকেই পরীক্ষা করুন
নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করলে ক্ষতি কোথায়? কোনো রোগ আপনার স্তনে বাসা বেঁধেছে কিনা তা জানতে মাঝে মাঝে স্তন পরীক্ষা করুন নিজেই। স্তনে কোনো রকম পরিবর্তন দেখতে পেলে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

৫) স্বাস্থ্যকর খাবার খান
মধ্যবয়সে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এ সময় থেকেই বেশি করে ফলমূল এবং শাকসবজি খাওয়া উচিৎ। এতে সারা শরীরের পাশাপাশি আপনার স্তন থাকবে সুস্থ।

৬) ময়েশ্চারাইজিং
সারা শরীরের ত্বকের মতো স্তনের ত্বকেও পড়তে পারে বয়সের ছাপ, বলিরেখা এবং কুঞ্চন। এ কারণে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাটা জরুরী।
৭) ধূমপান নিষিদ্ধ
খুব কম সময়েই আমাদের বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে ধূমপান। এর পাশাপাশি স্তন ঝুলে যাবার কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে ধূমপান। সুতরাং নিজের শরীর ভালো রাখতেই বাদ দিন এই বিশ্রী অভ্যাসটি। কমিয়ে ফেলুন ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রাও।

৮) ব্যায়াম করুন
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরকে ফিট রাখতে করুন ব্যায়াম। স্তনের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য করতে পারেন এই ব্যায়ামগুলো। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে কমে যাবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি।

৯) ম্যামোগ্রাম
একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর স্তন সংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডাক্তারের সাথে কথা বলে বার্ষিক স্তন পরীক্ষা বা ম্যামোগ্রাম করান যাতে কোনো রোগ থাকলে তা শনাক্ত করা যায় দ্রুত। তবে পারিবারিক ইতিহাস না থাকলে ম্যামোগ্রাম না করিয়ে সাধারণ ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে পারেন।

১০) থাকুন ইমপ্ল্যান্ট এবং কেমিক্যাল থেকে দূরে
ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট এবং এনহান্সিং কেমিক্যালগুলো আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্যই ভীষণ ঝুকিপুর্ণ। এগুলো থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন।

১১) ব্রেস্ট ফিডিং করান
আপনি মা হয়ে থাকলে অবশ্যই বাচ্চাকে সঠিক উপায়ে ব্রেস্ট ফিডিং করান। তা আপনার স্তনের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করবে।

১২) ঝুঁকির ব্যাপারে জেনে রাখুন
আপনার পারিবারিক ইতিহাসে কারও ব্রেস্ট ক্যান্সার আছে কিনা তা জানা থাকলে নিজের ঝুঁকির ব্যাপারেও আপনি সতর্ক থাকতে পারবেন।

সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০১৭

ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে সহায়ক খাবার

ক্যালসিয়াম আমাদের দেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি দেহের হাড় ও দাঁতের প্রধান উপাদান। ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। মাংসপেশী সংকুচিত হওয়া, হাড়ে ভঙ্গুরতা, খাদ্য গ্রহণে অরুচি, হার্টে সমস্যার সৃষ্টি হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি আরও নানা রকম সমস্যা বাসা বাঁধে শরীরে।

প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় তাই ক্যালসিয়াম চাহিদা পূরণ করে এমন খাদ্য অবশ্যই রাখতে হবে। যেমন-

দুধ
প্রতিদিনেরডায়েটচার্টের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হলো দুধ। এটি ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিপূর্ণ, যা আমাদের সুস্থ হাড় ও দাঁত গঠনে অপরিহার্য। ছোটবেলা থেকে সারাজীবন নিয়মত দুধ পানের অভ্যাস হাড়কে করবে অধিক শক্তিশালী, এতে ওস্টেয়োপোরোসিস (osteoporosis)/ হাড় ভঙ্গুর হবার ভয় অনেকাংশে কমে যাবে।

পনির
পনিরও একটি উচ্চ ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য। পনিরের ক্যালসিয়াম হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং ওস্টিয়োপোরোসিস থেকে রক্ষা করে। সঠিক পরিমানে পনির গ্রহণে, এটি প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সরবরাহ করে তাই এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ রোগীর চিকিৎসায় এটি খুবই উপকারী।

সয়াবিন
বিভিন্ন রকম সয়া খাদ্যসমূহ যেমন, সয়া দুধ, সয়া আটা, টোফু ইত্যাদি যা ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন, ফাইবার ইত্যাদি আরো বিভিন্ন রকম সুস্বাস্থ্যের জন্য দরকারি উপাদানে পরিপূর্ণ। সয়াতে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি প্রায় দুধের সমান, এতে রয়েছে ফাইটোএস্ট্রোজেন যা হাড়কে শক্তিশালীকরণে অনেক বেশী সাহায্য করে।

দই
ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে এটিও অন্যতম একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন। ৮ আউন্স দইয়ে থাকে ৪৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।

ঢেঁড়স
ঢেঁড়স একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি, এতে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ভাইটামিন বি, এ, সি।

শালগম, তিল
শালগম ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের উত্তম একটি উৎস। এটি হাড়ের নমনীয়তা, অস্টেয়োপরোসিস, ফ্রাকচার ইত্যাদি রোধ করতে সাহায্য করে এবং পেশীতে শক্তি যোগায় ও কর্মদক্ষতা বাড়ায়। এক কাপ শালগমে থাকে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম যা একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের এক-পঞ্চমাংশ ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে।
তিল একটি খনিজ পদার্থের অন্যতম উৎস, এতে আছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফোরাস, সেলেনিয়াম ও জিঙ্ক। এটি হরমোন উৎপাদন ও লোহিত রক্ত কনিকা উৎপাদনে সাহায্য করে।
শালগম ও তিল দুটিই মজবুত দাঁত গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বাদাম
প্রায় সব ধরনের বাদামে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ভাইটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন ও খনিজ পদার্থ। এটি দেহের জন্য অতি উপকারি যা শক্ত হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে।

কমলা
কমলা একটি সাইট্রাস ফল যাতে আছে যথেষ্ট পরিমানে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম।

সতর্কতাঃঅতিরিক্ত পরিমানে ক্যালসিয়াম গ্রহণ দেহের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে নানা রকম রোগ যেমনঃ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনিতে পাথর ইত্যাদি মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই আমাদের পরিমাণ মত খাদ্য গ্রহণে সজাগ থাকতে হবে।

রবিবার, ৩০ জুলাই, ২০১৭

সিজারিয়ান হওয়ার পর পেটের মেদ কমানোর উপায়

১। সি-সেকশনের পরে ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করানো। বাচ্চাকে ৬ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এর সাহায্যে আপনার পেটের অনেক অতিরিক্ত মেদ কমে যাবে।

২। ডেলিভারির পরে প্রথম ছয় মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে প্রেগনেন্সি হরমোন পরিভ্রমণ করে এবং শরীরের সব চর্বি ঢিলে ঢালা থাকে। এই চর্বি ঘনীভূত হয়ে জমাট বেঁধে গেলে ওজন কমানোটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। সাধারণ কিছু এক্সারসাইজ শুরু করুন যেমন- হাঁটা।

৩। পেটের মেদ কমাতে চাইলে আপনাকে শুধুমাত্র খাওয়া, ঘুমানো ও ওয়াশ রুমে যাওয়ার সময় ছাড়া সর্বক্ষণ পেটের বেল্ট পরে থাকতে হবে। এটা অনেক বিরক্তিকর হলেও আপনি অবশ্যই ভালো ফল পাবেন।
 
৪। সি-সেকশনের পরে পেটের মেদ কমানোর ভালো উপায় হচ্ছে ইয়োগা করা। প্রাণায়াম করলে পেটের মাংসপেশি দৃঢ় হয়।

৫। পানি শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স রক্ষা করে। আপনি হয়তো অবাক হবেন এটা শুনে যে, পানি অন্ত্র থেকে অতিরিক্ত মেদ বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এতে ক্ষুধা কম লাগবে ও পেট ভরা থাকবে।

৬। বাচ্চাকে দুধ দিলে এক্সট্রা এনার্জির জন্য কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। এছারাও প্রোটিন, ফল ও সবজি খেতে হবে। তবে ঘি, মাখন ও মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৭। মিয়ামির Pritikin Longevity Center & Spa এর অ্যাসোসিয়েট মেডিক্যাল ডাইরেক্টর Dr. Danine Fruge নতুন মায়েদের স্বাস্থ্যকর খাওয়ার ব্যাপারে কিছু টিপস দিয়েছেন, তা হল-

· মুল খাবারে ফিরে যেতে হবে অর্থাৎ ফল ও সবজি খেতে হবে

· যদি আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাহলে আপনার খাওয়ার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মাবে না। তাই গর্ভবতী থাকা অবস্থায় যেভাবে যা ইচ্ছা হয়েছে তাই খেয়েছেন সেভাবে খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

· তাই বলে অনাহারেও থাকবেন না। এটা আপনার ও আপনার বাচ্চার ক্ষতির কারণ হবে।

আপনি সিজারিয়ান অপারেশনের পরে কিছু দিন ভারী ব্যায়াম করতে পারবেন না বলে আপনি আপনার পূর্বের আকার ফিরে পাবেন না এমন ভেবে হতাশ হবেননা। ধৈর্য ধারণ করুন ও বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে নিন এবং চেষ্টা করুন। আপনি অবশ্যই পেটের মেদ কমাতে সক্ষম হবেন।

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭

পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার কারণ ও ঘরোয়া সমাধান

পায়ের পাতা ফুলে যাওয়ার সমস্যাটি যে কারোই হতে পারে। এটা নিজে কোন রোগ নয় বরং অন্তর্নিহিত কোন সমস্যার লক্ষণ। সাধারণত যখন টিস্যুর মধ্যে তরল জমা হয় তখন এই সমস্যাটি উদ্ভূত হয়। একে ইডিমা বিলে। বিভিন্ন কারণে পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে যেমন- অতিরিক্ত ওজন, অনেকক্ষণ যাবত বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে, প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিন্ড্রোম (PMS), পুষ্টির ঘাটতি, শারীরিক কসরতের অভাব এবং কম রক্ত সঞ্চালন ইত্যাদি। পায়ে, গোড়ালিতে অথবা পায়ের পাতায় কোন ধরণের আঘাত বা সার্জারির কারণেও পা ফোলার সমস্যা হতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস আছে, হার্টের সমস্যা আছে, কিডনি বা লিভারের রোগ আছে তাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের এই সমস্যাটি হওয়ার প্রবণতা বেশি। এই সমস্যাটি বৃদ্ধি পেলে হাঁটতে বা দাড়িয়ে থাকতে অস্বস্তি হয়। পা ফুলে যাওয়ার সাথে আরো যে উপসর্গ গুলো দেখা যায় তা হল, ব্যথা, জ্বালাপোড়া করা ও লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সৌভাগ্যক্রমে প্রচুর কার্যকরী ও ঘরোয়া উপায় আছে যার দ্বারা পা ফোলা সমস্যাটির নিরাময় করা সম্ভব।

১। বিপরীত জলচিকিৎসা
আপনার পায়ের পাতার ফোলা কমানোর জন্য অনেক কার্যকরী একটি পদ্ধতি হচ্ছে ঠান্ডা ও গরম পানির থেরাপি। যেখানে গরম পানি রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে আর ঠাণ্ডা পানি ফোলা ও জ্বালাপোড়া কমতে সাহায্য করে। এই প্রকার জল চিকিৎসার জন্য ২টি বালতি বা গামলার প্রয়োজন হবে।
  • একটিতে ঠান্ডা পানি ও অন্যটিতে গরম পানি নিন
  • গরম পানির বালতিতে আপনার পা ৩-৪ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।
  • তারপর আপনার চরণযুগল গরম পানি থেকে উঠিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে ১ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।
  • এভাবে পর্যায়ক্রমে ১৫-২০ মিনিট করুন
  • দিনে কয়েকবার এই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করুন যতক্ষণ না আপনার পায়ের ফোলার উপশম হয়।
২। মালিশ করা
পা ফুলে যাওয়ার সমস্যার প্রতিকারে পা মালিশ করা সবচেয়ে ভালো উপায়। এটা আক্রান্ত স্থানে চাপ প্রয়োগ করে কঠিন মাংসপেশিকে শিথিল বা ঢিলা হতে সাহায্য করে এবং রক্ত চলাচলের উন্নতি ঘটায়। এছাড়াও অতিরিক্ত তরল নিষ্কাশনকে প্রণোদিত করে ফোলা কমায়।
  • সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল সামান্য গরম করে আক্রান্ত স্থানে মালিশ করুন
  • পায়ের পাতার নীচ থেকে উপরের দিকে উঠিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করুন। খুব বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না।
  • এভাবে দিনে কয়েকবার করুন।
  • গোসলের সময় বা গোসলের পরে মালিশ করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
৩। পা উত্তোলন
যেহেতু পানি জমে থাকার কারণে পা ফুলে যায় তাই এই পানিকে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে এই সমস্যাটি থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এজন্য আপনার ফুলে যাওয়া পা দুটো উপরের দিকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • আপনার পা দুটো এমন উচ্চতায় রাখুন যাতে হার্ট থেকে উপরের দিকে থাকে
  • এর ফলে পায়ে আবদ্ধ পানি নিষ্কাশিত হতে পারবে এবং পা ফোলা কমবে।
  • দিনে ৪-৫ বার এভাবে করুন এবং প্রতিবার এক ঘন্টা করে রাখুন।
৪। লেবু পানি
লেবু পানি খেলে শরীরের অতিরিক্ত তরল ও বিষাক্ত পদার্থ বাহির হয়ে যায় যা পা ফোলা কমতেও সাহায্য করে। এটা শরীর কে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এবং এর প্রদাহরোধী উপকারিতাও আছে।
  • ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ১ কাপ উষ্ণ গরম পানিতে মিশান
  • সামান্য মধু মিশিয়ে মিষ্টি স্বাদ করে নিতে পারেন
  • দিনে কয়েক বার এই পানীয়টি পান করুন
৫। টি ট্রি অয়েল
ফোলা কমাতে টি ট্রি অয়েল চমৎকার কাজ করে। অন্য এসেনশিয়াল অয়েলের মত টি ট্রি অয়েল পাতলা করার প্রয়োজন হয়না। এটি সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায়।

৬। স্বাস্থ্যকর খাবার
শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য লবনের প্রয়োজন আছে কিন্তু অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি জমতে সাহায্য করে। তাই  অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ বর্জন করতে হবে। ক্যাফেইনকেও একই অপরাধে অভিযুক্ত করা যায়। তাই কফি গ্রহণের মাত্রাও সীমিত করা প্রয়োজন।
যদি আপনার পা ফোলার সমস্যাটি প্রায়ই হয়ে থাকে এবং সেই সাথে ব্যথাও থাকে তাহলে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। কারণ এটি অন্য কোন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে যার জন্য সময়মত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।

শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

অতিরিক্ত ঘামের স্বাস্থ্য উপকারিতা

১। টক্সিক পর্দাথ বের করে দেওয়া
ঘাম শরীর থেকে বিষাক্ত পর্দাথ বের করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ঘাম দেহের অতিরিক্ত লবণ, কোলেস্টেরল এবং অ্যালকোহল বের করে দেয়। এটি মূলত আমাদের দেহ থেকে যাবতীয় বিষাক্ত পর্দাথ বের করে দেয়।

২। ব্রণের সমস্যা হ্রাস করে
আপনি যখন ঘামেন, তখন ত্বকের লোম কূপ খুলে থাকে। আর ঘামের মাধ্যমে ত্বকের ময়লা, ধুলা বালি বের হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ঘাম ত্বকের অভ্যন্তরীণ ইনফেকশন, ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু বের করে দেয়।

৩। ঠান্ডা এবং ইনফেকশন ভাল করতে
ঘাম দেহের অভ্যন্তরীণ ইনফেকশন দূর করতে সাহায্য করে, যা ঠান্ডা অথবা জ্বর জ্বর অনুভব দূর করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড যা যক্ষা এবং অন্যান্য রোগের জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে ঘাম।

৪। হৃদযন্ত্রের উন্নতি সাধন
ঘাম হৃদযন্ত্রের উন্নতি সাধন করে থাকে। দেহ তাপের সঙ্গে ঘাম বের হয় যা হৃদযন্ত্রের অভ্যন্তরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং  হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখে।

৫। কিডনি পাথর দূর করা
ঘামের সাথে প্রচুর পরিমাণে লবণ এবং ক্যালসিয়াম শরীর থেকে বের হয়ে যায়। যা কিডনি পাথর হওয়ার সম্ভাবনা দূর করে। এবং কিডনি সুস্থ রাখে।

৬। মুডের উন্নতি সাধন
ব্যায়ামের কারণে ঘাম হয়ে থাকে। এটি শরীরের টক্সিক পর্দাথ দূর করে এবং ভাল পর্দাথ উৎপন্ন করে থাকে। যা আপনার মন ভাল রাখতে সাহায্য করে।

শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭

উজ্জ্বল ত্বক চাইলে পাকা আম খান

রাজধানীর সর্বত্রই এখন আমের রাজত্ব।পথে-ঘাটেও মিলছে পাকা আম। মৌসুম ফল আম স্বাদেও অতুলনীয়। বিশেষ করে গাছপাকা আমাদের গন্ধও দারুণ। দেখতেও বেশ।ধীরে ধীরে পাকা আম এখন ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।নানা উপায়ে আম খাওয়া যায়। জুস থেকে শুরু করে আচার সবই হয় আম দিয়ে। আমে রয়েছে পুষ্টিগুণও। এতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ‘এ’রয়েছে।

এছাড়াও শরীরের নানা উপকার করে থাকে যেমন; চোখের নানা রোগ, চুলপড়া, খসখসে চামড়া, হজমের ইত্যাদি সমস্যা দূর করে।আমে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘সি’ সেই সাথে আরো আছে ফাইবার যা সিরাম কোলেস্টরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টরল যেমন কম ঘনত্বের লাইপোপ্রটিন এর মাত্রা কমাতে সাহায্য। তবে ডায়াবেটিস রোগীদেরকে এই ফলটি বুঝেশুনে খেতে হবে।

ত্বকের যত্নেও অনেক উপকারি ভূমিকা পালন করে পাকা আম। ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবেই ত্বককে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে আম। ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে আম, ফলে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আমে রয়েছে টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড যা শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সহায়তা করে। প্রয়োজনীয় এনজাইম যা শরীরের প্রোটিন অণুগুলো ভেঙ্গে ফেলতে সাহায্য করে যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আমের মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কিনা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলনসহ প্রোস্টেট ক্যান্সারকেও প্রতিরোধে সহায়তা করে আম।

আম স্বাদে ভরপুর তবে খাবার সময়ে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ছোট বাচ্চাদের দিতে হবে পরিমিত পরিমানের।

শনিবার, ৩ জুন, ২০১৭

কালজিরার উপকারিতা

 
কালোজিরার ব্যবহারঃ    প্রতিদিন কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা

মাথাব্যথাঃ  
মাথা ব্যথায় কপালে উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তি স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করূন
 
চুলপড়াঃ  
লেবু দিয়ে সমস্ত মাথার খুলি ভালোভাবে ঘষুণ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ও ভালোভাবে মাথা মুছে ফেলুনতারপর মাথার চুল ভালোভাবে শুকানোর পর সম্পুর্ন মাথার খুলিতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন১ সপ্তাতেই চুলপড়া বন্ধ হবে
 
কিডনির পাথর ও ব্লাডারঃ  
২৫০ গ্রাম কালো জিরা ও সমপরিমান বিশুদ্ধ মধুকালোজিরা উত্তমরূপে গুড়ে করে মধুর সাথে মিশ্রিত করে দুই চামচ মিশ্রন আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন আধা চা কাপ পরিমাণ তেলসহ পান করতে হবে

যৌন-দুর্বলতাঃ 
যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কালোজিরা
কালোজিরা নারী- পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে।
কালোজিরা চুর্ণ ও যয়তুনের তেল (অলিভ অয়েল), ৫০ গ্রাম হেলেঞ্চার রস ও ২০০ গ্রাম খাটি মধু = একত্রে মিশিয়ে সকাল খাবারের পর ১চামচ করে সেব্য
চেহারার কমনীয়তা ও সৌন্দর্যবৃদ্ধিঃ  
অলিভ অয়েল ও কালোজিরা তেল মিশিয়ে অঙ্গে মেখে ১ ঘন্টা পর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলন

ডায়াবেটিসঃ 
প্রতিদিন সকালে এক চিমটি কালজিরা এক গ্লাস পানির সাথে খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে

প্রসূতি মাতাদের দুগ্ধ বাড়াতে ও নারী দেহের মাসিক নিয়মিতকরণে এবং মাসিকের ব্যথা নিবারণে কালোজিরার ভূমিকা রয়েছে।

নিয়মিত অল্প পরিমাণ কালোজিরা খেলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কালোজিরা

কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে।

রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রনে কাজ করে কালোজিরা

কালোজিরা নিন্ম রক্তচাপ কে বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। এবং দেহের কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চরক্ত চাপ হ্রাস করে শরীরে রক্ত চাপ এর স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে।

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে কালোজিরা

কালোজিরা খেলে আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হত। এতে করে মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধির হয়। যা আমাদের স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

হাঁপানী রোগের উপশমে কালোজিরা

যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমসসায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম হবে।

রিউমেটিক এবং পিঠেব্যাথা দূর করে কালোজিরা

কালোজিরার থেকে যে তেল বের করা হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করতে কালোজিরা

শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে কালোজিরা।

সুতরাং কালো জিরা হোক আমাদের নিত্য সঙ্গী সু-স্বাস্থ্য অর্জনে ও সংরক্ষনে কালোজিরা জাত ওষুধ গ্রহনে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা সৃষ্টি করে না

শনিবার, ৬ মে, ২০১৭

গরমে নবজাতকের যত্ন


নবজাতকের যত্ন বরাবরই একটু বেশি করা হয়। আর এই দুর্বিষহ গরমে তো কথাই নেই। নবজাতকের যত্ন প্রসঙ্গে জানিয়েছেন ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এরশাদুর রহিম। তিনি বলেন, গরমে সব শিশুকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। আর নবজাতকের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাত্রা একটু বেশিই রাখতে হয়। নিয়মিত গোসল করালে অথবা নরম কাপড় ভিজিয়ে গা মুছে দিলে শিশুর জন্য তা আরামদায়ক হবে। এ ছাড়া এতে শিশুর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও বজায় থাকে। 
এরশাদুর রহিম আরও জানান, নবজাতকের ত্বক খুব স্পর্শকাতর হয় বলে ত্বকের যত্নের ব্যাপারে অভিভাবকদের বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। অনেক অভিভাবকই প্রচুর পরিমাণে পাউডার বা তেল শিশুর ত্বকে ব্যবহার করেন, যা শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহারে শিশুদের ত্বকের রোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায় বলে সাধারণ শারীরিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এতে শিশুর ঘামাচি ও ন্যাপি র‌্যাশও হতে পারে। 
গরমে অভিভাবকদের কিছু সাবধানতা বজায় রাখার পরামর্শ দেন এরশাদুর রহিম। তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোদে ছোট বাচ্চা নিয়ে বের হওয়া উচিত না। নবজাতকের সামনে হাঁচি-কাশি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। না হলে জীবাণু শিশুকে সহজে আক্রমণ করতে পারে। শিশুকে ঠান্ডা ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে রাখা উচিত। ঘেমে গেলে খেয়াল করে বারবার শুকনো নরম কাপড় দিয়ে গা মুছে দিতে হবে। তিনি বলেন, অবশ্যই এই গরমে শিশুকে সুতির নরম ও আরামদায়ক পোশাক পরানো উচিত।
নবজাতকের মাকে প্রচুর পরিমাণে তরলজাতীয় খাবার এবং পানি পান করতে হবে। এতে মায়ের বুকের দুধ থেকে শিশু উপকৃত হবে।
স্বাভাবিক যত্নের মাধ্যমেই নবজাতক স্বস্তিতে থাকবে আর অভিভাবকের সচেতনতাই দেবে নবজাতকের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা।

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

শরীরের ব্যথা দূর করতে ম্যাসাজের কিছু কৌশল

১) টেনিস বল
পায়ের পেশী টানটান আড়ষ্ট হয়ে আছে, কিছুতেই শিথিল করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে একটি দেয়ালে হাত রেখে ভর দিয়ে দাঁড়ান এবং পায়ের ধনুকের মতো বাঁকানো অংশের নিচে একটা টেনিস বল রাখুন। আপনার পা ছোট হলে গলফ বল রাখতে পারেন। ধীরে ধীরে বলের ওপর শরীরের ভার দিতে থাকুন। পায়ের নিচে গড়িয়ে নিন। দেখবেন আরাম লাগছে। এছাড়া হিপ, শোল্ডার ব্লেডের মাঝামাঝি জায়গা অথবা পিঠের নিচের দিকের ব্যথা দূর করতেও টেনিস বল কাজে লাগাতে পারেন। মেঝেতে বল রেখে এর ওপর শুয়ে পড়ুন এবং ধীরে ধীরে এর ওপরে গড়িয়ে নিন। ক্লান্ত হাতের স্ট্রেস দূর করতে একটা টেনিস বল হাতের মুঠোয় শক্ত করে রেখে চাপ দিন। বরফ জমাট পানির বোতল দিয়েও পায়ের মাসাজ করতে পারেন।

২) ঘাড়ের শান্তি
ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের দিকে চেয়ে ঘাড়ের বারোটা বাজাচ্ছেন আপনি। তালুর নিচের অংশটা দিয়ে স্পাইনাল কর্ডের দুপাশে ধীরে ধীরে চাপ দিন। ওপর নিচ করে মাসাজ করে নিন। এরপর মাথার বাম দিকে খুলির ঠিক নিচে যে চৌকো মাসল আছে তাতে চাপ দিন। মাথা বাম দিকে হেলান। মাসাজ করতে করতে কাঁধের দিকে হাত নামান। তিনবার এটা করে মাথার অন্যপাশেও এই কাজটি করুন। এছাড়া ঘাড়ের সামনের দিকের জন্য আরেকটি ব্যায়াম করতে পারেন। মাথা পেছনে হেলিয়ে চেয়ারের পিঠে রাখুন। খুলির ঠিক নিচে ঘাড়ের অংশটি চেয়ারে চেপে রাখুন ২০ সেকেন্ড।

৩) নিজেকে পিটিয়ে নিন
শরীর সবসময় ম্যাজম্যাজ করলে দিনে দুইবার করতে পারেন এই কাজটি। হাত মুঠো করে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পিটিয়ে নিন। সকালে কাজটি করলে ঘুম পালাবে নিমিষেই। সন্ধ্যায় করলে শরীর থেকে স্ট্রেস এবং টেনশন দূর হবে।

৪) হিল জুতো পরার পর
সারাদিন হিল পরে হাঁটাহাঁটি করলে পায়ের মাসলে টান পড়ে। হিল খুলে ফেলার পরে এদেরকে যত্ন করাটা জরুরী। একটি চেয়ারে বসে পাতের পাতা সমান করে মেঝেতে রাখুন। এরপর একিলিস টেন্ডনের ওপর বুড়ো আঙ্গুল রেখে গোড়ালির ওপরের মাসল শক্ত করে চেপে ধরুন। এভাবে চাপ দিতে দিতে হাঁটু পর্যন্ত হাত নিয়ে আসুন। অন্য পায়েও এই কাজটি করুন।

৫) খাবার পরে পেটে হাত বোলানো
আপনি হয়তো বিয়েবাড়িতে গিয়ে প্রায়ই দেখেন মোটাসোটা ভুঁড়িওয়ালা কোনো ব্যক্তি খাওয়া শেষে আরাম করে পেটে হাত বোলাচ্ছেন। এতে আপনার হাসির উদ্রেক হলেও কাজটি কিন্তু উপকারী। এক হাত বা দুই হাতের তালু ক্লকওয়াইজ পেটের ওপর ঘুরিয়ে মাসাজ করুন। এতে হজম সহজ হবে।

৬) ব্যায়ামের আগে-পরে
ব্যায়ামের আগে-পরে শরীর ওয়ার্ম আপ করে নিতে হয় যাতে ইনজুরি এড়ানো যায়। এর জন্য ম্যাসাজ সহায়ক। হাত ও পায়ের মাসল হাতের মুঠো দিয়ে পিটিয়ে নিন। এবার ব্যায়াম শুরু করুন।

৭) ক্লান্ত চোখ
সারাদিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখেরও আরাম দরকার। এর জন্য দ্রুত দুই হাতের তালু ঘষে গরম করে নিন। এবার প্রতি চোখের ওপর হাতের তালু দিয়ে রাখুন। এই উষ্ণতা শান্তি দেবে। চোখের আশেপাশে মাসাজ করেও নিতে পারেন।

৮) ঘরে তৈরি হিটিং প্যাড
একটা মোজার তিন চতুর্থাংশ ভরে নিন চাল দিয়ে। এটাকে গিঁট দিয়ে বা রাবার ব্যান্ড দিয়ে আটকে নিন। এবার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে ২ মিনিট গরম করে নিন। এরপর মাসলে ঘষে নিন ব্যথা দূর করার জন্য।

৯) মাসাজ বক্স
সন্ধ্যায় ঘরে ফিরলেই পা ব্যথা? অথবা সকালে অফিস যাবার সাথে সাথেই? ওখানে রাখুন একটা মাসাজ বক্স। একটা জুতোর বক্সে বেশ করে গলফ বল রেখে দিন। পা ব্যথা করলে চেয়ারে বসে এর ওপর পায়ের তলা গড়িয়ে নিন।

এছাড়াও যা করতে পারেন-
– হাতে লোশন মাখার সময়ে হাত মাসাজ করে নিন
– সাইনাসের ব্যথা হলে নাক ও কপাল মাসাজ করুন আঙ্গুল ঘুরিয়ে
– হাতের মাসল ব্যথা করলে ট্রাইসেপ চিমটি কাটুন
– ঘাড়ের আড়ষ্টতা দূর করতে নিজেকে জড়িয়ে ধরুন
– অল্প অল্প করে চুল টেনে নিলে মাথাব্যথা কমে যাবে
– রাতে ঘুমানোর আগে পা মাসাজ করে নিন ল্যাভেন্ডার তেল দিয়ে

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

অতিরিক্ত ঘাম হলে করণীয়

১. টি ট্রি ওয়েল
এই তেল ব্যবহারে মুখ ও শরীরের অন্যান্য অংশের অতিরিক্ত ঘাম কমতে সাহায্য করে। কারণ, এর মধ্যে রয়েছে এসট্রিজেন্ট ও অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান। তাই অতিরিক্ত ঘাম কমাতে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

২. ক্যামোমিল
ক্যামোমিল ফুলের তেলের মধ্যে রয়েছে অ্যাসট্রিজেন্ট, ডিওড্রেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এই ভেষজ উপাদানটি শরীরের বাড়তি ঘাম কমাতে কাজ করে। এটি ঘামের কারণে তৈরি হওয়া ব্যাকটেরিয়া ও শরীরের দুর্গন্ধকেও কমায়।

৩. পানি
বাড়তি ঘাম হলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এটি শরীরের তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক করে। এ ছাড়া কিছু পানীয় যেমন ডাবের পানি, লেবুর পানি, সবজির জুস, ভেষজ চা ইত্যাদিও পান করতে পারেন।

৪. সঠিক খাবার
সঠিক খাদ্যাভ্যাস অতিরিক্ত ঘাম কমাতে কাজ করে। ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে শরীরে প্রচুর ঘাম হয়। তাই ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। যেমন : বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার, আলু ইত্যাদি।

৫.  লাল চা
লাল চায়ের মধ্যে রয়েছে ট্যানিক এসিড। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাসট্রিজেন্ট ও অ্যান্টিপারসপিরেন্ট উপাদান। এটি ঘাম গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত ঘাম উৎপাদনকে নিয়ন্ত্রণ করে। একে অতিরিক্ত ঘাম কমানোর চমৎকার একটি ঘরোয়া উপায় বলা হয়।

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া লক্ষণ, সমাধান ও সচেতনতা

লক্ষণ ও উপসর্গ 

  • পিঠের পেছনদিকে উদরের নিচে ব্যথা
  • পস্রাব করার সময় জ্বালাপোড়া, ব্যথা হওয়া সহ অন্যান্য অস্বস্তিকর অনুভূতি
  • পুন:পুন: পস্রাবের তাগিদ অনুভব কিন্তু খুবই সামান্য পস্রাবের নির্গমন
  • ঘোলাটে, কড়া গন্ধযুক্ত এবং রক্ত সমন্বিত পস্রাবের নির্গমন
  • পস্রাবের সাথে হলদেটে পদার্থের নির্গমন (মূত্রনালী দিয়ে)
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে যৌন মিলনের সময় পীড়াদায়ক অনুভুতি বা ব্যথা পাওয়া

কী করা উচিত

  • মদ, ক্যাফেইন, মশলাযুক্ত খাবার এবং এসিড সমৃদ্ধ খাবার বর্জন করুন কেননা এগুলো আপনার পিত্ত থলিকে আরও বেশি সমস্যায় আক্রান্ত করে।
  • দৈনিক আট থেকে দশ গ্লাশ পানি খাবেন যাতে করে আপনার পস্রাবে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো গলে পস্রাব দিয়ে বেরিয়ে আসে। (তবে ডাক্তারের কাছে পরীক্ষার উদ্দেশ্যে যাবার আগে বেশি পানি খাবেন না, নচেৎ আপনার পস্রাবের ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব ঠিকমতো উদঘাটন করা সম্ভব হবে না।)
  • একটা গরম কিছু বা হট ওয়াটার ব্যাগ বা বোতল চেপে ধরে ব্যথার স্থানে রাখতে পারেন।
  • যদি পস্রাবের জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দেয়া এন্টিবায়োটিক ওষুধগুলো আপনার শরীরে ইস্ট বা ছত্রাকের আক্রমণ ঘটায় সেক্ষেত্রে টক দই খেতে পারেন। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম।

কখন ডাক্তার দেখাবেন 

  • যদি তীব্র ব্যথা জেগে ওঠে এবং এই ব্যথা আপনার পাঁজর পেছনে নিচ থেকে শুরু হয়ে আপনার যৌনাঙ্গের দিকে বয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো কিডনিতে পাথরের সমস্যা।
  • যদি আপনার জ্বর থাকে এবং জ্বর দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং আপনার পিঠে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা হয়, কিংবা আপনার কোমরের কাছে বা কোমরের উপরে ব্যথা করে, সেক্ষেত্রে আপনার কিডনিতে ক্ষতের সমস্যা রয়েছে।
  • আপনি যদি নারী হন এবং পস্রাবের সময় যদি কষ্ট হয় এবং সেই সাথে যদি একটানা ব্যথা থাকে আপনার পিঠের নিম্নাংশে কিংবা তলপেটে বা উদরে; যদি যৌন মিলনের সময় কষ্ট হয়, এবং/কিংবা অনিয়মিত ঋতুস্রাব হয়, কিংবা হঠাৎ হঠাৎ না হয় বা হলে খুবই বেশি রক্তপাত হয়। সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো ডোমাটরিওসিস বা পেলভিক ইনফ্ল্যামেটোরি ডিজিজ হয়েছে।
  • যদি প্রস্রাবে কষ্ট হয় এবং একইসাথে উদ্ভট কোন পদার্থ পস্রাবের সাথে শিশ্ন কিংবা যোনী পথ দিয়ে নির্গত হয় সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো যৌন সাহচার্য ঘটিত সংক্রামক কোন রোগ হয়েছে।
  • যদি আপনি একজন পুরুষ হন এবং পস্রাবের সময় আপনার জ্বালা-পোড়া হয় কিন্তু পুন:পুন: পস্রাবের তাগিদ অনুভব করেন, পস্রাব থেমে থেমে নির্গত হয়, বীর্যপাতে কষ্ট হয়, কিংবা পেলভিস বা শ্রোণীতে কিংবা পিঠের নিম্নাংশে যদি ব্যথা থাকে সেক্ষেত্রে আপনার হয়তো প্রস্টেট-এর সমস্যা রয়েছে।
  • যদি আপনার পস্রাব রক্তাক্ত দেখা যায় কিংবা ঘোলাটে দেখা যায়
  • যদি আপনার পস্রাবে জ্বালা পোড়া হয় কিংবা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন রোগের লক্ষণ ধরা পড়ে।
  • যদি এই লক্ষণগুলো অপসারিত না হয় এবং চিকিৎসা স্বত্তেও লক্ষণগুলো আবার জেগে ওঠে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন 

  • প্রতিদিন নূন্যতম আট গ্লাস পানীয় খান সাথে পানি প্রচুর পরিমাণে পান করুন। ক্রানবেরির জুস খেতে পারেন, এটা মাঝে মধ্যে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া থেকে শরীরকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • প্রস্রাবের তাগিদ অনুভব করলে পস্রাব দমিয়ে রাখবেন না। এবং প্রতিবার পস্রাবের সময় আপনার মূত্রথলিটি পুরোপুরি খালি হচ্ছে কি না সে বিষয়ে যত্নশীল হোন।
  • যৌন সংসর্গের আগে ও পরে যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেলুন, কেননা এর ফলে যৌনমিলনের দরুন আপনার যৌনাঙ্গে কোন ব্যাকটেরিয়া গিয়ে থাকলে সেটা বেরিয়ে আসবে।
  • বুদবুদ ওঠা পানিতে স্নান এড়িয়ে চলুন এবং সুগন্ধীযুক্ত টয়লেট্রিজগুলোও বর্জন করুন। একটা মৃদু এবং গন্ধহীন সাবান নিয়ে আপনার নিম্নাঙ্গের পরিধেয়গুলো ধৌত করুন। সুগন্ধীযুক্ত এবং রুক্ষ বা ক্ষারীয় পণ্যগুলো মূত্রনালী এবং এর চারপাশের ত্বকে প্রদাহ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
  • সুতির কাপড়ের তৈরি নিম্নাঙ্গের বস্ত্রাদি পরিধান করুন এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন।
  • আপনার যৌনাঙ্গ প্রতিদিন একবার পরিস্কার পানি দিয়ে ধৌত করুন।

পাকা পেঁপের উপকারিতা

হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে

হজমশক্তি বাড়াতে পেঁপের তুলনা নেই। পরিপাক নালিকে চনমনে রাখে। যার ফলে দ্রুত হজম হয়। পাকিস্থলির উপর কম চাপ পড়ে।

ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে

পেঁপের মধ্যে ক্যানসার বিরোধী ধর্ম রয়েছে। ফলে ক্যানসারকে দূরে রাখতে নিয়মিত পেঁপে খেতে হবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পেঁপেতে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট আইসোথিয়োসায়ানেট, যা স্তন, প্রস্টেট, ফুসফুস ও কোলন ক্যানসারের হাত থেকে বাঁচায়।

লিভার পরিষ্কার করে

পেঁপের মধ্যে যে ডিটক্সের গুণ রয়েছে, তা কমবেশি সবারই জানা। লিভারের সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, বা না-ভুগলেও যাঁরা চান লিভার ভালো থাকুক, পাকা পেঁপে খেয়ে যান।

ফ্যাটি লিভারে পাকা পেপের দানা খেতে হবে

বহু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসে যারা ভুগছেন, তাদের জন্য পাকা পেঁপের দানা খুব ভালো ওষুধ। প্রতিদিন এক চামচ করে পেঁপে দানার গুঁড়া খান। লিভারকে ডিটক্সিফাই করবে। এর পাশাপাশি খাওয়াদাওয়ায় ও লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। ভালো ফল পেতে সবচেয়ে আগে ড্রিংক করা বন্ধ করতে হবে।

ফিট রাখে কিডনি

লিভারের মতো কিডনি থেকেও ক্ষতিকারক জিনিস বের করে দেয় পাকা পেঁপের দানা।

রক্তের চাপ কমায়

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পাকা পেঁপের পাশাপাশি পেঁপের দানাও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। পেঁপেতে থাকা কারপেইন নামে বিশেষ এক যৌগ উচ্চ রক্তচাপও কমায়। ফলে যারা হাইপ্রেসারে ভুগছেন, বেশি করে পেঁপে খান।

গাঁটের যন্ত্রণা, হাঁপানি, আর্থরাইটিস

এসব অসুখেও পেঁপে খুব উপকারী। বিশেষত, পেঁপে গাছের ডাল। এর মধ্যে থাকা বিশেষ উৎসেচকের উপস্থিতি আর্থরাইটিস, গাঁটের যন্ত্রণার পাশাপাশি হাঁপানিতে ভালো কাজ দেয়।

প্রাকৃতিক গর্ভনিরোধকও

প্রাকৃতিক গর্ভনিরোধক হিসেবে ভারতীয় সংস্কৃতিতে পাকা পেঁপের দানার ব্যবহার বহুল প্রচলিত। গর্ভবতী হতে চাইলে, সেসেময় পেঁপের দানা খাওয়া যাবে না। আবার পুরুষদেরও স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেয়। ফলে, কোন পুরুষেরই যৌবনকালে খুব বেশি একটানা পেঁপে দানা খাওয়া অনুচিত।

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হাঁপানি রোগীদের মহৌষধ আকন্দ পাতা

৪। বুকে সর্দি বসে গেলে ভালো করে পুরনো ঘি বুকে ডলতে হয়। ঘি মাখানো বুকে আকন্দের পাতা গরম করে ছেক দিলে সর্দি ভালো হয়।

৫। খোস-পাচড়া বা একজিমার ক্ষেত্রে আকন্দের আঠার সঙ্গে চার গুণ সরিষার তেল মিশিয়ে গরম করতে হয়। এই গরম তেলের সঙ্গে কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে খোস পাচড়ায় মাখলে তা ভালো হয়ে যায়।

৬। পা মোচকে গেলে প্রচণ্ড ব্যথায় এই আকন্দ পাতা দিয়ে গরম ছেক দিলে ব্যথা উপশম হয়।

গর্ভাবস্থায় প্রথম ৩ মাসের সতর্কতা

* একবার পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে গেলে এর পরে থেকে সাবধানে চলাফেরা করুন। এলকোহল, ক্যাফেইন, ধুমপান থেকে দূরে থাকুন, তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যেমনই হোক না কেন। কারন এই সময় এসব জিনিস অন্য যে কোন কিছুর থেকেই সবচাইতে বেশি ক্ষতি করে বাচ্চার।

* যেহেতু আপনি অন্তঃসত্ত্বা, তাই আপনাকে সবসময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। অতিসত্বর একজন ডাক্তার নির্বাচন করুন। ডাক্তার নির্বাচন করার আগে কিছু জিনিষ মনে রাখবেন। যেমন- ডাক্তারের সাথে যে কোন সময় যোগাযোগ করা সম্ভব কি না, যে কোন দরকারে তাকে পাওয়া যাবে কি না। সেই সাথে দূরত্বটাও খেয়াল রাখবেন। যেহেতু আপনি অন্তঃসত্ত্বা তাই এ সময় বেশি চলাচল করতে পারবেন না। কেননা তা বাচ্চার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই ডাক্তারের কাছে অল্প সময়ে যেন পৌঁছানো যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

* অন্তঃসত্ত্বা হবার কারনে শরীরে বেশ কিছু হরমোন পরিবর্তন ঘটে। যার ফলে বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খেতে না পারা, শরীর খারাপ ভাব হতে পারে। তবে সবাইকে যে এই সকল পরিস্থিতি পার করতে হয় তাও নয়, অনেক মায়ের মধ্যেই এসবের কোনটি বা কখনও কখনও একটিও উপসর্গ দেখা যায় না। এমন কিছু হলে ভয় পাবেন না, আবার না হলেও ভয় পাবেন না। বেশি বমি হলে সকালে উঠে লেবু পানি খেতে পারেন। আর মাথা বেশি ঘোরালে শুয়ে পড়ুন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যাবে।

* এছাড়াও হরমোন ঘটিত পরিবর্তনের কারনে এ সময় স্তনের আকারে পরিবর্তন হওয়া শুরু হয় ধীরে ধীরে। সেই কারণে স্তনে ব্যথা হবে ও স্তন নরম হয়ে যাবে। এমনটা হলে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন এই পরিবর্তন আপনার সন্তানের জন্য জরুরি।

* সন্তান গর্ভে ধারণ করার ফলে কিছু শারীরিক পরিবর্তনও ঘটে। যেহেতু সন্তান জরায়ুতে ধারণ করা হয় ও জরায়ুর অবস্থান থাকে প্রসাবের নালীর উপরে, তাই বাচ্চার বৃদ্ধির সাথে সাথে জরায়ু প্রসাবের নালির উপরে কিছু চাপ ফেলে। ফলে প্রসাবের পরিমান বেড়ে যাবে। এই সমস্যা প্রথম ৩ মাস এবং শেষ ৩ মাসের মধ্যেই প্রবল থাকে বেশি।

* এছাড়াও অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারীরই রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারো রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, আবার কারো বা কমে যেতে পারে। সেই সাথে দেখা দিতে পারে সুগারের সমস্যা। তাই সন্তানের গর্ভধারণের পরপর ডাক্তারের পরামর্শে সব কিছুর পরীক্ষা একবার করে নিয়ে দেখতে হবে গর্ভাবস্থা স্বাভাবিক আছে কি না। এমন কোনও সমস্যা দেখা দিলে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে।

* বুক জ্বালা করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে অনেক মায়ের। অন্তঃসত্ত্বা নারীর খাবার হজম হতে ও পেট খালি হতে অন্য নারীদের তুলনায় বেশি সময় লাগে, কারন গর্ভস্থ বাচ্চার খাবার থেকে পুষ্টি গ্রহন করতে সময় লাগে একটু বেশি। কিন্তু এই কারণটাই গর্ভবতী নারীর জন্য হয়ে যায় কষ্টের কারণ। এর ফলেই গর্ভবতী নারী শিকার হতে পারেন কোষ্ঠকাঠিন্য ও বুক জ্বালা করা রোগের। ঘাবড়ে যাবেন না। দরকার পড়লে ডাক্তারের পরামর্শে কোন ওষুধ সেবন করতে পারেন।

* এছাড়াও একজন গর্ভবতী নারী গর্ভ ধারণ করেছেন এটা জানার পরে আনন্দিত, উদ্বিগ্ন, প্রফুল্ল ও ক্লান্ত ইত্যাদি সব ধরনের অনুভূতি অনুভব করেন। এত সব কিছু এক সাথে মানিয়ে নেয়াটাও একটা বড় ব্যাপার হয়ে দেখা দেয়। অনেকেই ঠিক মত মানিয়ে নিতে পারেন না নতুন পরিস্থিতির সাথে। ফলে শিকার হন মুড সুইং এর। সেই সাথে নানা রকম “হরমোনাল চেঞ্জ” এর কারণে রাগ বা খারাপ লাগা অনুভুত হতে পারে। এমন কিছু হলে অধিক উত্তেজনা পরিহার করে চলতে হবে। কারণ বেশি উত্তেজনা গর্ভস্থ সন্তানের জন্য ভাল নয়।

* সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটু ধৈর্য ধরুন। মনে রাখতে হবে আপনি যেমন মা হচ্ছেন, তেমনই তিনিও বাবা হচ্ছেন। তার কোন ভুল দেখতে পেলে তার সাথে রাগারাগি না করে সাহায্য করুন, সেই সাথে আপনার কোন কিছু খারাপ লাগলে তাকে জানাতে ভুলবেন না।

* মনে রাখবেন আপনি যে কাজ করছেন তা “প্রেগন্যান্সি সেফ” কিনা জেনে নিন। ভারি কোন কাজ একদম করতে যাবেন না। মনে রাখবেন প্রথম তিন মাস খুব সাবধানী হতে হবে কারণ এই তিন মাসেই এবরশনের হার সবচাইতে বেশি থাকে। সেই সাথে এমন খাবার খাবেন না যা বাচ্চার জন্য খারাপ হবে। পেঁপে, আনারসের সাথে সাথে কাঁচা বা আধা সিদ্ধ প্রোটিন যেমন মাছ, মাংস, ডিম এসব পরিহার করে চলতে হবে। প্রোটিন ভালো করে রান্না করে তবেই খাবেন। সেই সাথে গলিত চিজ বা এই জাতীয় খাবারও পরিহার করে চলবেন। প্রথম ৩ মাস খেতে কষ্ট হয়, কিছু খেতে ইচ্ছা করেনা তাও বাচ্চার কথা চিন্তা করে যতটা সম্ভব ততটা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

* ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক কোন ওষুধ খাবার থাকলে তা খাবেন। এমনকি গ্যাসের সমস্যা বা মাথা ব্যাথা বা জ্বর হলেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খেতে যাবেন না। এতে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে।

 * ঘুমের সময় বাড়িয়ে দিন। দিনে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। এছাড়াও সারাদিনের কাজের ফাঁকে ফাঁকে হালকা বিশ্রাম নিতে পারেন।

মনে রাখবেন সন্তান সবার কাছেই মূল্যবান। সবাই চাইবে সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে। তাই কষ্ট হলেও সন্তানের ভালোর জন্য সাবধানে সবকিছু মেনে চলার চেষ্টা করুন। সেই সাথে নিয়মিত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখুন। বিস্রামে থাকুন, উত্তেজিত থাকবেন না, সেই সাথে উদ্বেগ না হয় এমন কিছু করবেন না ও ভয় পাবেন না। সব থেকে বড় কথা হল নিজের খেয়াল রাখুন। আপনি ভাল থাকলেই আপনার সন্তানও ভাল থাকবে।

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

পালং শাকের উপকারিতা

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় :

পালং শাকে রয়েছে ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড যা ভয়ানক রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই পলিনিউট্রিয়েন্টসগুলো দেহের ফ্রি র‌্যাডিকেলকে নিরপেক্ষ করে।

রক্তচাপ কমায় :

পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম। এটা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

চোখের সুরক্ষায় :

সাধারণত সবুজ শাক সবজিতে লুটেনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা দৃষ্টি শক্তির ক্ষতি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে সাহায্য করে।পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার বিটা ক্যারোটিন যা চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায়।

ত্বকের সুরক্ষায় :

পালং শাকে থাকা ভিটামিন এ ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা যেমন ব্রণ, বলিরেখা পড়া ইত্যাদির দূরীকরণেও বেশ কার্যকর।

ক্লান্তি দূর :

পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার আয়রন যা দেহে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে রয়েছে লিম্ফোবিক এসিড যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি ও ই কে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। এটা রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

প্রদাহ বিরোধী :

যাদের জয়েন্টে ব্যথা আছে তারা অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই শাক রাখলে উপকার পাবেন।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় :

এই শাকে থাকা ফলিক এসিড সুস্থ কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পালং শাকে বেশি মাত্রার ভিটামিন এ, লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

কিডনির ক্ষতির কারণসমূহ

মদ্যপান করা:- মদ্যপান কিডনির জন্য সব চাইতে বেশি ক্ষতিকর। অ্যালকোহল কিডনি আমাদের দেহ থেকে সঠিক নিয়মে নিস্কাশন করতে পারে না।ফলে এটি কিডনির মধ্যে থেকেই কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে কিডনি নষ্ট করে দেয়। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগে আক্তান্ত হন অনেকেই।এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তাই মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন।

পর্যাপ্ত পানি পান না:- করা কিডনির সুরক্ষার জন্য সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পানি। আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করি না। এতে ক্ষতি হয় কিডনির।
বাসা থেকে বাইরে বের হলেই অনেকের পানি পানের কথা মনে থাকে না। কিন্তু এতে কিডনির ওপর অনেক বেশি পরিমাণে চাপ পড়ে এবং কিডনি তার সাধারণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে ৬-৮ গ্লাস পানি পান করা অত্যন্ত জরুরী। তাই সাথে সব সময় পানির বোতল রাখুন।

অতিরিক্ত লবণ খাওয়া:- অনেকের বাড়তি লবণ খাওয়ার বাজে অভ্যাস রয়েছে। খেতে বসে প্লেটে আলাদা করে লবণ নিয়ে খান অনেকেই।কিন্তু এই অনিয়মটির কারণে অনেক বেশি ক্ষতি হচ্ছে কিডনির। কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম আমাদের দেহ থেকে নিষ্কাশন করতে পারে না।
ফলে বাড়তি লবনের সোডিয়ামটুকু রয়ে যায় কিডনিতেই। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিডনি। এমনকি কিডনি ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

মাংস বেশি খাওয়া:- অনেকের একটি বড় বাজে অভ্যাস রয়েছে যা হলো মাংসের প্রতি আসক্ততা। অনেকেই শাকসবজি ও মাছ বাদ দিয়ে শুধু মাংসের উপর নির্ভরশীল থাকেন।
এই অনিয়মটিও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিডনির সুরক্ষার জন্য মাছ ও শাকসবজি অনেক বেশি জরুরী। অতিরিক্ত মাংস খাওয়া কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই খাদ্যাভ্যাসটা ঠিক করুন।

অতিরিক্ত ব্যথানাশক ঔষধ খাওয়া:- অনেকেই সামান্য ব্যথা পেলেই ব্যথানাশক ঔষধ খেয়ে থাকেন। বিশেষ করে মাথাব্যথার কারণে অনেকেই এই কাজটি করে থাকেন।কিন্তু এটি কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর একটি কাজ। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ধরণের ব্যথানাশক ঔষধ কিডনির কোষগুলোর মারাত্মক ক্ষতি করে। এতে পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে যায় কিডনি। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ভুলেও কোনো ব্যথানাশক ঔষধ খাবেন না।

পস্রাব আটকে রাখা :- ঘরের বাইরে বেরুলে অনেকেই এই কাজটি করে থাকেন। মনে করেন খনিক্তা সমত পস্রাব আটকে রাখলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না।
আপাত দৃষ্টিতে এর ক্ষতির মাত্রা ধরা না পরলেও এটি কিডনিকে নষ্ট করে দেয় খুব দ্রুত। পস্রাব আটকে রাখলে কিডনির ওপর অনেক বেশি চাপ পরে এবং কিডনি সাধারণ কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
তাই ভুলেও এই কাজটি করতে যাবেন না। বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা না করে অন্য উপায় খুঁজে নিন। এতে করে কিডনি থাকবে সুস্থ

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

গরম তেলে শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে করণীয় উপায়

আমাদের দৈনন্দিন কাজে বিশেষত রান্নার কাজ করতে গিয়ে শরীরের কোনো স্থান আগুনে পুড়ে যেতে পারে কিংবা তেল ছিটকে হাত, গলা, ঘাড়, পা ইত্যাদিতে পড়ে তা পুড়ে যেতে পারে।গরম তেলে শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে, তৎক্ষনাৎ করণীয় কিছু উপায় নিম্নে দেওয়া হলোঃ

১. অ্যালোভেরা

পুড়ে যাওয়া স্থানের নিরাময়ে অ্যালোভেরার চাইতে ভালো আর কোন কিছু হতে পারেনা। খুব দ্রুত ব্যথা আর সংকোচন কমিয়েই দেয়না এটা শুধু। সেই সাথে পুড়ে যাওয়া স্থানটিকে সুরক্ষিত করে আর দ্রুত চামড়ার বৃদ্ধি নিশ্চিত করে। রিডার্স ডাইজেস্টের মতে অল্প কিছুদিনের ভেতরেই আপনার পুড়ে যাওয়া চামড়াটিকে ঠিক আগের মতন করে দিতে পারে অ্যালোভেরা।

২. আলু

আলু থেতলে আলুর রস দিতে পারেন নতুবা ডিম ভেঙ্গে পোড়া জায়গাতে লাগাতে পারেন। ফোস্কা পরলে গালার চেষ্ঠা করবেন না।

৩. মিন্ট টুথপেস্ট

রান্নাঘরে হাতের কাছেই রাখুন একটি মিন্ট ফ্লেভারের টুথপেস্ট। জ্বলে যাওয়া আর পুড়ে যাওয়া চামড়ার জন্যে এটি প্রচন্ড কাজের। চামড়ায় কোন রকমের জ্বলুনি বা পোড়া হলেই প্রথমে সেখানে ঠান্ডা পানি ঢালুন এবং এরপর খানিকটা মিন্ট ফ্লেভারের টুথপেস্ট লাগিয়ে নিন। আরাম পাবেন। চামড়াও সুরক্ষিত থাকবে।

৪. ভ্যানিলা

ছোটখাটো তেলে জ্বলে যাওয়া চামড়ার ক্ষেত্রে খানিকটা ভ্যানিলা কটন বাডে লাগিয়ে চামড়ায় ডলুন। ভ্যানিলার ভেতরে থাকা অ্যালকোহল আপনার চামড়ার জ্বলে যাওয়ার ব্যথাকে দূর করে দেবে। কষ্ট কম হবে।

৫. টি ব্যাগ

পিনটারেস্ট অনুসারে টি ব্যাগে ট্যানিক এ্যাসিড থাকে। আর এই ট্যানিক এ্যাসিড চামড়ার গরমকে নিজের ভেতরে শেষন করে নিয়ে পুড়ে যাওয়া জায়গাটিকে ঠান্ডা করে তোলে। ফলে ব্যাথা কমে যায় অনেকখানি। তেলের ছিটে লাগলে তাই সাথে সাথে দু-তিনটি টি ব্যাগ নিয়ে ডলুন চামড়ায়।

৬. ভিনেগার

ভিনেগারে থাকে একটিক এ্যাসিড, যেটা কিনা জ্বলে যাওয়া যায়গার চুলকানি, ব্যাথা আর প্রদাহ দূর করে। এছাড়াও এন্টিসেপটিক আর এসট্রিজেন্ট হিসেবেও এটি বেশ ভালো কাজ করে। সব ধরনের সংক্রমণ থেকে দূরে রাখে শরীরকে। জ্বলে যাওয়া কিংবা পুড়ে যাওয়া জায়গার তাপ কমাতেও বেশ সাহায্য করে ভিনেগার। আর তাই তেলের ছিটে লাগলে তুলোয় ভিনেগার মিশিয়ে জায়গাটিতে বুলিয়ে নিন।

৭. দুধ এবং মধু

প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে মধুর কোন বিকল্প নেই। হাব পেজেস অনুসারে ক্ষতস্থানের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে দূর করাসহ ব্যাথা কমাতেও সাহায্য করে মধু। নিজের স্নেহ আর প্রোটিনের মাধ্যমে দুধও একই কাজ করে। আর তাই ক্ষতস্থানে মধু লাগিয়ে নিন। আর দুধ লাগালে সেটা রেখে দিন ১৫ মিনিট অব্দি।

৮. তেল

তেলের ছিটে লাগা স্থানের জন্যে তেল বেশ উপকারী একটি জিনিস। বিশেষ করে সেটা যদি হয় নারকেল তেল। নারকেল তেলে রয়েছে ভিটামিন ই আর ফ্যাটি এ্যাসিড। যেটা কিনা ফাঙ্গাস আর ব্যাকটেরিয়া থেকে দূরে রাখে সংক্রমণস্থলকে। শুধু তাই নয়, ক্ষতস্থানে কোনরকম দাগ থেকে গেলে সেটাকে দূর করতেও নারকেলের জুড়ি নেই। সেজন্যে কেবল নারকেল তেলের সাথে খানিকটা লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন দাগের ওপরে লাগাতে হবে। তবে নারকেল তেল ছাড়াও ল্যাভেন্ডার তেল কিংবা চা গাছের তেলও এক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে।

৯. ডিমের সাদা অংশ

শরীরের যে স্থানে পুড়ে গেছে সেখানে ডিমের সাদা অংশ দিন।

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

নবজাতকের শারীরিক যত্ন

নবজাতকের শারীরিক বিষয় নিয়ে পারিবারিক সদস্যদের চিন্তার অন্ত থাকে না, নবজাতকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিম্নে দেওয়া হলোঃ

প্রশ্ন : বিলুরুবিনটা কত বেশি হলে সেটি চিন্তার বিষয়?
উত্তর : সব শিশুরই জন্ডিস হবে, তবে সেটি কম আর বেশি। দেখা যায়, তিন থেকে চার দিনে জন্ডিস বাড়ে। আবার ছয়-সাত দিনে কমে যায়। সেসব শিশুর এর পরও না কমে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ হলে ফটোলাইট দিয়ে চিকিৎসা করি। এর বেশি হলে অনেক সময় রক্ত পাল্টানোর মতো পরিস্থিতি হয়।

প্রশ্ন : নবজাতকের নাভির পরিচর্যার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে জোর দেওয়া দরকার?
উত্তর : নাভি শুষ্ক রাখতে হবে। নাভি ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শুকিয়ে পড়ে যাবে। আগে বলা হতো, স্যাভলন বা অ্যান্টিস্যাপটিক এগুলো ব্যবহারের জন্য। তবে এখন বলা হয়, কিছু দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যদি কোনো কারণে নাভির চারদিকে লাল হয়ে যায়, নাভি ফুলে যায় তখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আরেকটি স্বাভাবিক বিষয় হলো, অনেক শিশুর নাভি ফোলা থাকে, তখন মায়েরা চিন্তায় পড়ে যান। নাভি কেন ফুলে যাচ্ছে? এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এক বছর বয়স হতে হতে বিষয়টি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

 শিশুকে সরিষার তেল বারবার দেওয়া খুব কি যৌক্তিক?
উত্তর : আসলে সরিষার তেল দিতে আমরা নিষেধ করি। কারণ, এটি খুব পুরু থাকে। এর জন্য র‍্যাশ হয়। বাচ্চার শরীর ময়লা হয়ে যায়। সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সরিষার তেলের ঝাঁজ বেশি। আমরা সাধারণত বলি, সরিষার তেল না দেওয়াই ভালো। যদি বেবি অয়েল দিই বা অলিভ অয়েল দিই, সেটা দেওয়া যাবে। তবে সেটাও দেড় মাসের পরে।

সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৭

কাঁচা মরিচের উপকারিতা


☯ গরম কালে কাঁচা মরিচ খেলে ঘামের
মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে ।
. ☯ প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ
খেলে রক্ত জমাট বাধার
ঝুঁকি কমে যায় ।
.
☯ নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে হৃদপিণ্ডের
বিভিন্ন সমস্যা কমে যায় ।
.
☯ কাঁচা মরিচ মেটাবলিসম বাড়িয়ে
ক্যালোরি
পোড়াতে সহায়তা করে ।
. ☯ কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন আছে
যা কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেম কে কর্মক্ষম
রাখে ।
.
☯ নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ।
.
☯ কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় ।
.
☯ কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন এ যা হাড়,
দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সহায়তা
করে ।
.
☯ কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন সি আছে যা মাড়ি
ও চুলের সুরক্ষা করে । .
☯ নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে নার্ভের
বিভিন্ন সমস্যা কমে ।
.
☯ প্রতিদিন খাবার তালিকায় অন্তত
একটি করে কাঁচা মরিচ রাখলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না ।
.
☯ কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন সি ।
তাই যে কোনো ধরণের কাটা-ছেড়া
কিংবা ঘা শুকানোর জন্য কাঁচা মরিচ
খুবই উপকারী । .
☯ কাঁচা মরিচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও
ভিটামিন সি শরীরকে জ্বর, সর্দি,
কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে ।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৭

যেসব ফ্যাট জাতীয় খাদ্য স্বাস্থ্যকর

স্লিম থাকার জন্য স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন ঝুঁকছেন ফ্যাট-ফ্রি খাবারের দিকে। সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া আর মাঝে মাঝে টুকিটাকি মুখে দিয়ে পেট ভরানো। তবে একেবারে ফ্যাট-ফ্রি ডায়েট হলে নাকি বিপদ বাড়ে বই কমে না। ব্রিটিশ সংস্থা ন্যাশনাল ওবেসিটি ফোরামের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় এমনটাই জানিয়েছেন পাবলিক হেলথ কোলাবরেশনের গবেষকরা। তাদের মতে, একেবারে ফ্যাট-ফ্রি খাবার না খেয়ে ডায়েটে রাখুন ‘স্বাস্থ্যকর’ ফ্যাটযুক্ত খাবার। লো-ফ্যাটযুক্ত এসব খাবারে নাকি লাভ বেশি।

তবে সব ফ্যাটযুক্ত খাবারই কিন্তু স্বাস্থ্যকর নয়। ফ্যাট বিহীন মার্জারিন না খেয়ে অল্প পরিমাণে মাখন খেলে শরীরে স্নেহ জাতীয় পদার্থের ঘাটতি মিটবে। প্রতিদিন এক চামচ করে ঘি খেলে তা আপনার উপকারই করে। হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও ঘিতে বিউটিরিক এসিডের মতো ফ্যাটি এসিড থাকায় তা কোলনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দুধের মতো লো-ফ্যাট নয়, ফুল-ফ্যাট দই খান।

লো-ফ্যাট দইয়ে প্রচুর পরিমাণ চিনি থাকে। সপ্তাহে কয়েকবার খুব সামান্য পরিমাণে রেড মিট অর্থাৎ গরু বা খাসির গোশত খেতে পারেন। গবেষকদের মতে, সপ্তাহে চারটি ডিম খেলে তা ক্ষতিকর নয়। স্কিমড বা ডাবল টোনড মিল্কের পরিবর্তে দিনে একবার ফুল-ফ্যাট মিল্ক খান। এতে অনেকক্ষণ ধরে পেট ভরা থাকবে। এ ধরনের দুধে যে ফ্যাটি এসিড থাকে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কিডনি পরিষ্কার রাখবে আদা-লেবুর পানীয়

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি শরীরের ছাঁকন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলো কখনো কখনো কিডনির কাজকে ব্যাহত করে। তাই কিডনি পরিষ্কার রাখা দরকার। কিডনির মধ্যে বিষাক্ত পদার্থ জমা হলে সংক্রমণ হয়। কিডনি রোগের কিছু লক্ষণ হলো বমিবমি ভাব, হজমে অসুবিধা ইত্যাদি।

উপাদান--- সতেজ আদার শেকড়
দুই থেকে তিন টুকরো আপেল
দুই থেকে তিন টেবিল চামচ লেবুর রস
এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি

প্রণালী

সবগুলো উপাদানকে একত্রে নিয়ে ব্লেন্ড করুন। এরপর পানিটিকে ছাঁকুন। পরে পানীয়টি পান করুন।খালি পেটে পানীয়টি পান করুন। তবে আগে অল্প একটু পান করে দেখুন যে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। আর শরীরে যদি জটিল কোনো রোগ থাকে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই খাওয়া ভালো।

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

লজ্জ্বাবতী গাছের গুনাগুন ও উপকারিতা জেনে নিন।

বাংলা নাম- লজ্জাবতী। আবার কেউ কেউ এক বলেন লাজুক লতা।
পরিচয় – বর্ষজীবি গুল্ম আগাছা বা ওষুধী গাছ।
কাণ্ড- লতানো। শাখা প্রশাখায় ভরা। কাঁটাযুক্ত। লালচে রঙের। কিছুটা শক্ত। সহজে ভাঙ্গে না বরং পেচিয়ে টানলে ছিড়ে যায়।
পাতা বুঁজে এসে বন্ধ হয়ে যায়। পাতা সরু ও লম্বাটে, সংখ্যায় ২ থেকে ২০ জোড়া। উপপত্র কাঁটায় ভরা।

ফুল

উভলিঙ্গ। বৃতির সংখ্যা ৪ টি, পাপড়ী ৪টি, ফুল গুলি বেগুনী ও গোলাপী রঙের।
ফল- দেখতে চ্যাপ্টা এবং একত্রিত। মে থেকে জুন মাসে ফুল আসে, জুলাই আগষ্টে ফুল থেকে ফল হয় এবং জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ থেকে চারা গজায়।

উপকারী অংশ

পাতা ও মুল। পাতায় এ্যাকোলয়ড়ে ও এড্রেনালিন এর সব উপকরণ থাকে। এছাড়াও (মড়ৎরহং) টিউগুরিনস্
এবং মুলে ট্যানিন থাকে।

ব্যবহার

দাতেঁর মাঢ়ির ক্ষত সাড়াতে গাছসহ ১৫ থেকে ২০ সে.মি. লম্বা মূল পানিতে সিদ্ধ করে সে পানি দিয়ে কয়েক দিন দিনে ৩ বার কুলকুচা করলে ভালো হয়। সাদা ফুলের লজ্জ্বাবতীর পাতা ও মুল পিষে রস বের করে নিয়মিত খেলে পাইলস্ ও ফিস্টুলায় আরাম পাওয়া যায়।
লজ্জাবতী লতার সমগ্র উদ্ভিদ ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এর আছে অনেক ঔষধি গুণ। ধারাবাহিক ভাবে তা আলোচনা করা হলো

মিথুন দন্ডের শৈথিল্য

লজ্জাবতীর বীজ দিয়ে তৈরি তেল লাগিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করলে তা দৃড় হয়।

যৌনি ক্ষতে

যে কোন কারনে যনিপথে ক্ষত হলে, প্রথমিক স্তরে মাঝে মাঝে অথবা প্রায় রোজই অল্প স্রাব চলতে থাকে, একটা আশটে গন্ধ, কখনো বা একটু লালচে স্রাব হয়, এসব ক্ষেত্রে ‍চিকিৎসক সাবধান করে থাকেন, এটি পরিণামে ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে ।
এক্ষেত্রে দুধ-জলে ‍সিদ্ধ করা লজ্জাবতীর কাথ দিনে ২ বার খেলে এ রোগ উপশম হয়। একই সাথে লজ্জাবতীর ক্বাথ দিয়ে ডুশ দিলে বা যোনিপথ ধুলে তাড়াতাড়ি ক্ষত সেরে যায়।

আঁধার যোনি ক্ষতে

এ বিচিত্র রোগটি কৃষ্ণপক্ষে বেড়ে যায় আর শুক্লপক্ষে শুকাতে থাকে । এ ক্ষতটি হয় সাধারণত : হাটুর নিচে
আর না হয় কুঁচকির দু’ধারে। এক্ষেত্রে গাছও পাতা ( মূল বাদে ) ১০ গ্রাম শুধু জল দিয়ে ক্বাথ করে খেতে হয় এবং ঐ ক্বাথ দিয়ে মুছতে হয়, ফলে অসুবিধা দুর হয়।

রমনে অতৃপ্তি

কয়েকটি সন্তান হওয়ার পর প্রসবদ্বারের শৈথিল্য হয়েছে , সেটার অনেকটা মেরামত করে দিয়ে থাকে এ
লজ্জাবতীর ক্বাথের ডুশ নেওয়ায়, আর গাছের পাতা সিদ্ধ ক্বাথ দিয়ে তৈরি তেলে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পিচুধারণ কারালে ( Vaginal plugging ) এছাড়া অন্ডকোষের পানি জমা সারাতে পাতার পেস্ট ব্যবহার করা হয়।

আমাশয়

অনেকের আছে পুরানো আমাশয় । মল ত্যাগের বেগ হলে আর অপেক্ষা করতে পারে না । গিয়ে প্রথমে যা হল তারপর
আর হতে চায় না ।আবার অনেকের শক্ত মলের গায়ে সাদা সাদা আম জড়ানো থাকে। এক্ষেত্রে ১০ গ্রাম লজ্জাবতীর ডাঁটা ও পাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এ ক্বাথ খেলে তারা অবশ্যই উপকার পাবেন।

দুর্গন্ধ দুর করতে

অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং জামায় বা গেঞ্জিতে হলদে দাগ লাগে, এক্ষেত্রে লজ্জাবতী গাছের ডাঁটা ও পাতার
ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শরীর মুছতে হবে বা লাগাতে হবে। তাহলে এ অসুবিধা দুর হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

অনেকের মল গুলটে হয়ে যায়, বুলেটের মত কয়েকটা বের হয়, আর কিছুই নেই। এক্ষেত্রে মূল ৭ / ৮ গ্রাম থেঁতো
করে সিদ্ধ করতে হবে এবং ছেঁকে ঐ পানিটা খেতে হবে । তাহলে উপকার হবে।

লবণ দিয়ে ম্যাজিকের মতো মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দূর করুন!

মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথা যাদের আছে তারা বোঝেন মাথা ব্যথা হলে কি অবস্থা দাড়ায়। অথচ খুব সহজ একটি জিনিস লবণ দিয়ে ম্যাজিকের মতো মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দূর করা সম্ভব। কিভাবে এটি করতে হবে জেনে নিন।
যাদের মাইগ্রেনের ব্যথা আছে কেবলমাত্র তারাই জানের মাথা ব্যাথা হলে কি অবস্থা সৃষ্টি হয়। একবার মাথা ব্যাথা শুরু হলে তা নষ্ট করে দিতে পারে আপনার পুরোটি দিন। শুধু তাই নয়, কারও কারও মাইগ্রেনের ব্যাথা সাধারণ পেইনকিলারে দূর হতেও চায় না। কি করবেন তারা? তাদের এক বিশাল উপকারে করতে পারে লবণ। কিভাবে ব্যবহার করবেন লবণ? আসুন সে বিষয়ে আমরা আজ জেনে নেই।
যারা মাইগ্রেনের ভুক্তভোগী তারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যেই মাইগ্রেন কমানোর অনেকগুলো উপায়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করে দেখেছেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মাইগ্রেনের ব্যাথা একবার শুরু হওয়ার পর আর কোনো রকম পেইন কিলারও কাজ করছে না। অনেকের আবার স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে পেইন কিলারের ব্যবহারের উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তবে একটি সহজ পদ্ধতি লবণের ব্যবহার এতে ভালো কাজ করতে পারে আপনার।

লবণ ব্যবহার কার নিষেধ

প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকার লবণ ব্যবহার করা উচিত নয় কার কার। মাইগ্রেনের ব্যাথা যখন হয় তখন অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়। লবণ ব্যবহারের ফলে তাদের রক্তচাপ আরও বেড়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবশ্য তারা মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতে সেলেরির জুস পান করতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে এমন এক ধরনের সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায় না আবার মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে।

কিভাবে লবণ ব্যবহার করবেন

লবণ ব্যবহার করে মাইগ্রেন কমাতে হলে অবশ্য সাধারণ মানের টেবিল সল্ট ব্যবহার না করে উচ্চমানের লবণ ব্যবহার করতে হবে। যেমন: হিমালায়ান ক্রিস্টাল সল্ট। এই লবণের বিশেষত্ব হলো এতে উপস্থিত রয়েছে ৮৪টি খনিজ উপাদান, ইলেক্ট্রোলাইট ও মৌল। এই লবণ শুধু যে মাইগ্রেন কমায় তাই নয়, বরং সেইসঙ্গে শক্তিশালী করে তোলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও। আবার শক্তি বাড়ায়, রক্তে সেরোটোনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে।

লবণ ব্যবহারের এই উপায়টি খুব সহজ। এক গ্লাস লেবুর রস (অথবা আপনার পছন্দের কোনো ফলের জুস নিন) এর মধ্যে বেশি করে লবণ দিয়ে তৈরি করুন একটি মিশ্রণ। তখন তা পান করে ফেলুন। দেখবেন মাইগ্রেনের ব্যাথা দূর হয়ে যাবে একেবারে ম্যাজিকের মতো।

আগেই বলা হয়েছে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে সেসব রোগীদের অবশ্যই লবণের এই মিশ্রণ পান করা উচিত নয়। আবার যাদের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারাও লেবু অথবা এই প্রকৃতিকর অ্যাসিড ধরণের জুস পান করা হতে বিরত থাকতে হবে।

তাই সাধারণভাবে যাদের মাইগ্রেনের মাথা ব্যাথা রয়েছে তারা উপরোক্ত নিয়মে মাথা ব্যাথা শুরু হলে লবণ পানি খেয়ে উপকার পেতে পারেন।


সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

সিজারের পর পুরনো বডি শেপ ফিরে পাওয়ার সহজ কিছু উপায়

যেসকল নারীরা সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারির নারীদের চেয়ে তাদের বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সিজারের সময় শুধু যে লেবার পেইন হয় তা নয়, লেবার পেইনের সাথে যোগ হয় অপারেশন পরবর্তী রিকভারী পেইন।
আর এটি যেহেতু একটি মেজর অপারেশন, তাই সিজারের পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিন থেকে ছয় মাস কোন ধরনের ভারী ব্যায়াম বা কড়া ডায়েট করা উচিত না। তবে সিজারের তিন মাস পর থেকে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে বাড়তি ওজন কমানো এবং পুরনো বডি শেপ ফিরে পাওয়াটা বেশ কিছুটা সহজ হয়ে যায়। আজ সেরকম কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুধু বাচ্চার জন্যই উপকারী না, এটা মায়ের জন্যও অনেক উপকারী। যেসকল মায়েরা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের ওজন অন্য মায়েদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দ্রুত ঝরে যায়। কারণ বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দিতে গিয়ে মায়ের শরীর থেকে অনেক বেশী ক্যালরি ক্ষয় হয়। যার ফলে ওজন ঝরে যেতে শুরু করে। এজন্য শুধু জন্মের প্রথম ছয় মাসই নয়, বরং এরপরও বাচ্চাকে অন্তত এক বছর পর্যন্ত নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।

নিয়মিত হাটা শুরু করুন

সিজারের পর ওজন কমানোর জন্য হাটা হচ্ছে সবথেকে ভালো উপায়। নিয়মিত হাটা শুধু ক্যালরি বার্ন করে না, অপারেশনের পর শরীরের অ্যানার্জি লেভেল বাড়াতেও সাহায্য করে। যে সকল মায়েরা সিজার অপারেশনের মধ্য দিয়ে যান তাদেরকে সাধারণত অপারেশনের পরদিন থেকেই অল্প অল্প করে হাটা শুরু করতে বলা হয়। কারণ হাটলে সেলাই দ্রুত শুকায়, রক্ত জমে না এবং ব্যাথা প্রশমন ত্বরান্বিত হয়। তবে প্রথম ছয় থেকে আট সপ্তাহ খুব আস্তে আস্তে হাটতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে হাটার গতি এবং সময় বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

সিজারের মত মেজর অপারেশন থেকে রিকভারীর জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খুবই দরকারী। বিশেষত যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের জন্য অতিরিক্ত খাবার অতি জরুরী। কারণ বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ক্যালরি বার্ন হয়ে যায়। এই বাড়তি ক্যালরির ঘাটতি বাড়তি খাবারের মাধ্যমে পুরণ করা উচিত। তবে এই খাবারটি হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত।
একজন মায়ের সকালটি শুরু হওয়া উচিত একটি স্বাস্থ্যকর নাস্তা দিয়ে যা তাকে সারাদিনের জন্য অ্যানার্জি দেবে। এরপর সারাদিনে ৫ থেকে ৬ বার অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে মায়ের খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস অথচ অল্প পরিমাণে ক্যালরি থাকে। আর প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

 ভাজাভুজি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন

সকল নতুন মায়েদেরই একটু আধটু মিষ্টি বা ভাজাভুজি খাওয়ার অধিকার আছে। তাই বলে ক্ষিদে লাগলেই চিপস বা কেক নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লে কখনোই পুরনো ওজন ফিরে পাওয়া সম্ভব না। এজন্য ডুবো তেলে ভাজা খাবার, আইসক্রীম, সফট ড্রিঙ্কস এসব যত এড়িয়ে চলা যায় ততই ভালো। এসব খাবারের বদলে তাজা ফল বা সবজি নাস্তা হিসেবে খেলে মা ও বাচ্চা দুজনের জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে।

জেনে নিন কেন আপনার অনিয়মিত পিরিয়ড হয়

বর্তমানে বেশির ভাগ মেয়েরাই পিরিয়ডের সমস্যায় ভোগেন। আপনি কর্মরতা হোন বা গৃহবধূ— কোন না কোনও বয়সে হয়তো এই সমস্যায় পড়েছেন। অথবা আপনারই কোনও প্রিয়জন পিরিয়ডের সমস্যায় ভুগছেন। জানেন কি কেন আপনার এই সমস্যা হয় ? জেনে নিন অনিয়মিত পিরিয়ডের কয়েকটি কারণ। এর কোনও লক্ষণ আপনার মধ্যেও থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযাগ করুন।

অতিরিক্ত ডায়েট

অতিরিক্ত ডায়েট করলে কিংবা হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ওজন কমে গেলে পিরিয়ডের সমস্যা হয়।

বিড়ম্বনা যখন ব্যায়াম

অতিরিক্ত ব্যায়াম করলেও পিরিয়ডে দেরি হতে পারে।

থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা

থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় বেশিরভাগ মেয়ের পিরিয়ডের সমস্যা হয়।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি হরমোনাল সমস্যা। শরীরের জরুরি তিনটি হরমোন ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং টেসটোস্টেরন উৎপাদন কমে যাওয়ায় পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের সমস্যা হয়। ফলে পিরিয়ড দেরিতে হয়।

স্ট্রেস

অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে পিরিয়ডে দেরি হয়।

বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৭

ব্যায়ামের কিছু সাধারণ নিয়মাবলী

অনেকেই বাসায় নিজে নিজে অথবা জিমে ব্যায়াম করেন| প্রতিটি কাজেরই সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে| খাওয়া দাওয়ার যেমন সঠিক নিয়ম আছে, তেমনি ব্যায়ামেরও অনেক নিয়ম কানুন আছে, যা জেনে বুঝে করা খুব দরকার| ব্যায়াম যদি ঠিক মত না করা হয়, তবে শারীরিক নানান রকম সমস্যা যেমন: মাসেল পুল, ইনজুরি, ইত্যাদি হতে পারে | জিমে যারা যান, তারা হয়ত সঠিক নির্দেশনা পান, কিন্তু যারা বাড়িতে ব্যায়াম করেন, তারা হয়ত না জেনে অনেক ভুল ভাবে ব্যায়াম করছেন |
নিচে আপনাদের জন্য ব্যায়ামের কিছু সাধারণ নিয়ম কানুন দেয়া হলো:
  • আপনি কেন ব্যায়াম করবেন সেটা আগে জানুন, প্রয়োজনে ডাক্তার অথবা জিম ট্রেইনারের কাছ থেকে জানুন কিভাবে, কত টুকু করবেন|
  • শারীরিক ক্ষমতা ও বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন, যেমন : ৪০ বছর বয়সের ব্যাক্তি সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারবেন না, ব্যাক পেইন, বাতের  সমস্যা থাকলে সাবধানে ব্যায়াম  করতে হবে|গর্ভবতী মহিলারাও সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারবেন না
  • কোনো রকম শারীরিক সমস্যা না থাকলে, নিজেই ব্যায়াম শুরু করতে পারেন |
  • ব্যায়াম কি ভাবে শুরু করবেন?
  • ব্যায়াম এর শুরুতেই আপনার ওজন, উচ্চতা ইত্যাদি লিখে রাখুন, কেমন উন্নতি হচ্ছে তা প্রতিমাসে খেয়াল করুন |
  • ব্যায়ামের সময় আরামদায়ক পোশাক, যেমন: গেঞ্জি, কেডস পরাই ভালো| সাথে রাখবেন তোয়ালে, পানির বোতল |
  • জুতা বা কেডস কার্ডিও ব্যায়ামের জন্য খুব দরকারী ও গুরুত্ব্যপূর্ণ | ভালো মানের কেডস না ব্যাবহার করলে পায়ে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা এমনকি মেরুদন্ডে ব্যাথাও হতে পারে |
  • অবশ্যই কার্ডিও করার সময় একটু পর পর এক চুমুক পানি খাবেন, এটি আপনাকে পানিশুন্যতা  এর থেকে রক্ষা করবে|একবারে বেশি পানি খাবেন না, তাহলে সেই পানি সরাসরি আপনার ফুসফুসে চলে যাবে, water intoxication,  hyponatremia (রক্তে সোডিয়াম-এর স্বল্পতা), appendicitis  ও হতে পারে |
  • ব্যায়ামের সময় পূর্ণ মনোযোগ ব্যায়াম করার দিকে থাকবে, বই পড়তে পড়তে ব্যায়াম করবেন না, এতে আপনার ব্যায়াম সঠিক হবে না |
  • ব্যায়ামের সময় আপনার posture এর দিকে লক্ষ্য রাখুন, উল্টা পাল্টা posture এ ব্যায়ামের ফলে শারীরিক অসুবিধা বা আপনার দেহের গঠন নষ্ট হতে পারে |
  • প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যায়াম করবেন |
  • ব্যায়াম নিয়মিত করবেন | একদিন করলেন, আবার ১০ দিন পরে করলে, সেই ব্যায়াম কোনো কাজে আসবে না |
  • ব্যায়াম করবেন একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী | কোন দিন কোন ধরনের ব্যায়াম করবেন, কত টুকু তা আগেই ঠিক করে নিন, সেটা মেনে চলুন |
  • ওয়ার্ম আপ আর কুল ডাউন ব্যায়ামের খুব গুরুত্ব্য পূর্ণ অংশ | যেমন: ওয়ার্ম আপ না করে আপনি যদি দৌড়ানো শুরু করেন, তাহলে আপনার হার্ট ফেইল হতে পারে| যদি  ওয়ার্ম আপ না করে পেটের ব্যায়াম করেন, তাহলে কোনো লাভ নেই | আমার প্রিয় ট্রেইনার-এর মতে ওয়ার্ম আপ হচ্ছে ব্যায়ামের সবচাইতে গুরুত্ব্য পূর্ণ অংশ | ওয়ার্ম আপ বলতে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি , মাসেলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি বুঝায় | স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যে অবস্থায় থাকে, সে অবস্হা থেকে তাপমাত্রা ও হার্ট রেট বাড়ানোকে ওয়ার্ম আপ বলা হয় | ওয়ার্ম আপ করবেন একদম শরীরচর্চার শুরুতে | প্রথমে ধীরে ধীরে হাটুন, দুই মিনিট পরে স্পিড বাড়ান, তারপর জগিং করুন | ৫ মিনিট হাটুন, তারপর ৫ মিনিট কমপক্ষে জগিং করুন | এভাবে আপনার শরীর যখন ঘামবে তখন বুঝবেন ওয়ার্ম আপ হয়েছে | তখন running, jogging, পেটের ব্যায়াম, stretching, weight training ইত্যাদি করা যাবে | কমপক্ষে ১০ মিনিট ওয়ার্ম আপ করলে ভালো |
  • আস্তে ধীরে কার্ডিও শুরু করুন |হঠাত করে স্পিড বাড়িয়ে দিবেন না |
  • কার্ডিও করতে করতে হঠাত বন্ধ করে দিবেন না, কার্ডিও শেষে যাতে আপনার heart rate, body temperature নরমাল হয় তাই, আস্তে আস্তে কার্ডিও শেষে কুল ডাউন ও stretching করুন|
  • ব্যায়ামের ঠিক আগে, পরে কিছু খাবেন না, তাহলে সেটা হজম হবে না| ব্যায়ামের দুই ঘন্টা আগে এবং এক ঘন্টা পরে কিছু খাওয়া যাবে না|
  • ব্যায়াম করার সময় মাঝে মাঝে, অথবা যখন থামবেন, তখন শ্বাস নিবেন ও ছাড়বেন| এতে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়|
  • মাঝে মাঝে ব্যায়ামের  রুটিন পরিবর্তন করলে ভালো ফল পাবেন, কারণ এক ঘেয়ে নিয়মে আপনার শরীর অভ্যস্ত হলে, সেটা আর কাজে লাগবে না|
  • সম্ভব হলে নতুন ধরনের ব্যায়াম শুরু করতে পারেন, এতে আপনার ব্যায়ামের একঘেয়েমি কাটবে, নতুন  ব্যায়াম শরীরে কাজেও লাগবে |
  • ব্যায়ামের সময় পুরা শরীর টিকে কাজে লাগান, যেমন: হাটার বা দৌড়ানোর  সময় হাত দুটিকে কনুই ভেঙ্গে সামনে পেছনে  নাড়ান | এতে আপনার ঘাড়, হাতের ও ব্যায়াম হবে|
  • ব্যায়াম  করতে করতে বেশি ক্লান্তি লাগলে অথবা খুব খারাপ লাগলে বন্ধ করে দিন| জোর করে করবেন না |
  • মন খারাপ করে, ব্যায়াম করতে আলসেমি লাগে,ভালো লাগে না ইত্যাদি মানসিকতা নিয়ে ব্যায়াম করলে কোনো লাভ হবে না, আনন্দের সাথে মজা করে ব্যায়াম করুন |
  • যারা weight training করেন, তারা কতটুকু weight নিবেন তা জেনে বুঝে করুন| posture ঠিক রেখে নিয়ে weight (dumbbell etc.)ব্যায়াম করুন | Weight training শুরু করবেন ব্যায়াম শুরু করার ১/২ সপ্তাহ পরে|
  • অতিরিক্ত সময় ধরে ( যেমন তিন, চার ঘন্টা) ব্যায়াম করবেন না, এতে হিতে বিপরীত হবে |
  • ব্যায়াম করার সময় ব্যাথা পেলে অথবা মাসেল পুল হলে সাথে সাথে ব্যায়াম বন্ধ করে দিন, ডাক্তার অথবা physiotherapist দেখান|
  • ঘুমানোর চার ঘন্টা আগে আর কার্ডিও ব্যায়াম না করাই ভালো| ঘুমানোর আগে যদি ব্যায়াম করতে হয়, তাহলে একমাত্র হালকা yoga করতে পারেন|
  • জিমের প্রতিটি machine ও instrument এর ব্যাবহারের সময় কিভাবে করবেন তা জেনে বুঝে করবেন | তা নাহলে মাসেল পুল ও ইনজুরি হতে পারে|
  • ব্যায়ামের শেষে shower নিলে ফ্রেশ লাগবে|