শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৬

নখের কোণা ওঠা সমস্যা? মুক্তি পাওয়ার কার্যকরী উপায় জেনে নিন!!!!!

হুট করেই নখের কোণায় প্রচণ্ড ব্যথা, একটু খেয়াল করতেই দেখলেন যে বেকায়দা ভাবে নখ বৃদ্ধি পেয়েছে আর ঢুকে যাচ্ছ মাংসের ভেতরে। এমন একটা স্থানে যে কেটে ফেলারও কোন উপায় নেই, কেননা তাতে মাংস কাটা পড়বে। এই সমস্যাটিকেই বাংলায় আমরা বলে থাকি “নখের কোণা ওঠা”। নখের নিচের মাংস খুবই স্পর্শকাতর, তাই এই সামান্য সমস্যাতেই প্রচণ্ড ব্যথা ও ঘা হয়। কী করবেন?

জেনে নিন ব্যথা কমানো ও ইনফেকশন প্রতিরোধ করার সহজ উপায়-

-হাত বা পা উষ্ণ লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন মিনিট দশেক। যতটা সহ্য করতে পারেন, ততটা গরম পানি নেবেন।

-কাজ শুরুর আগে মেনিকিউর সেট গরম পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে নিন।

-এবার পা/হাত ভালো করে মুছে নিন। মুছে নেয়ার পর নখ কাটুন। বেড়ে ওঠা বাড়তি নখ ও তার আশেপাশে যতটা সম্ভব কেটে ফেলুন।

-এবার রয়ে যাওয়া বাড়তি নখ চিমটার সাহায্যে সামান্য উঁচু করে ধরুন এবং আরেকটি চিমটার সাহায্যে সামান্য একটু তুলো নখের নিচে গুঁজে দিন। খুব সাবধানে কাজটি করুন। এই কাজটি আপনার নখে ব্যথা হতে দেবে না।

-যতদিন নখে বড় না হচ্ছে আর আপনি কেটে যন্ত্রণাদায়ক বাড়তি কোণা বাদ দিতে না পারছেন, ততদিন পর্যন্ত এভাবেই তুলো দিয়ে রাখুন। দিনে ২/১ বার বা জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে তুলো বদলে দেবেন।

-যদি ইতিমধ্যেই ইনফেকশন হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যান। এই পদ্ধতি অবলম্বন করবেন না।

-পা/হাত সর্বদা পরিষ্কার রাখুন এবং এমন হলে মোজা পরিধান করবেন না।

নিয়মিত অ্যালোভেরার রস পানের ৭টি বিস্ময়কর উপকারিতা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদের নাম। বহুগুণে গুণান্বিত এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণের শেষ নেই। এতে আছে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, ফলিকঅ্যাসিড, অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনএ, বি৬,বি২ ইত্যাদি। অ্যালোভেরার জেল রুপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকেই অ্যালোভেরা জুস পান করে থাকেন। আপনি জানেন কি প্রতিদিন অ্যালোভেরা জুস পান করার উপকারিতা?

১। হার্ট সুস্থ রাখতে

আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে অ্যালোভেরা জুস। অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটি দূষিত রক্ত দেহ থেকে বের করে রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে থাকে। এটি দীর্ঘদিন আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে।

২। মাংসপেশী ও জয়েন্টের ব্যথা প্রতিরোধ

অ্যালোভেরা মাংসপেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরা জেলের ক্রিম লাগালে ব্যথা কমে যায়।

৩। দাঁতের যত্নে

অ্যালোভেরা জুস দাঁত এবং মাড়ির ব্যথা উপশম করে থাকে। এতে কোন ইনফেকশন থাকলে তাও দূর করে দেয়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়ার ফলে দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

৪। ওজন হ্রাস করতে

ওজন কমাতে অ্যালভেরা জুস বেশ কার্যকরী। ক্রনিক প্রদাহের কারণে শরীরে মেদ জমে। অ্যালোভেরা জুসের অ্যাণ্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান এই প্রদাহ রোধ করে ওজন হ্রাস করে থাকে। পুষ্টিবিদগণ এই সকল কারণে ডায়েট লিস্টে অ্যালোভেরা জুস রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৫। হজমশক্তি বাড়াতে

হজমশক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা জুসের জুড়ি নেই। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করে। যা হজমশক্তি বাড়িয়ে থাকে।

৬। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে

অ্যালোভেরা জুস রক্তে সুগারের পরিমাণ ঠিক রাখে এবং দেহে রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে। ডায়াবেটিসের শুরুর দিকে নিয়মিত এর জুস খাওয়া গেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। খাওয়ার আগে বা খাওয়ার পরে নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান করুন।

৭। ত্বকের যত্নে

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যবহার সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। এর অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরী উপাদান ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

যে পাতায় ১ মাসে চিরবিদায় হবে এলার্জি!

এলার্জি শব্দটির সঙ্গে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। এলার্জির কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। এলার্জির সমস্যা যে কতোটা ভয়ংকর, তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন। এর থেকে মুক্তি পেতে কত কিছুই না করা হয়। খাদ্যতালিকা থেকে বাদ রাখতে হয় অনেক প্রিয় খাবার।

চিকিৎসকের মতে, কিছু কিছু খাদ্য গ্রহণের পর কারও কারও শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যেমন- গরুর দুধ, ডিম, বাদাম, সয়াবিন, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, শোল, বেগুন, কুমড়া, কচু থেকে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে। এতে ত্বক চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা হয়ে লাল হয়। চোখেও চুলকানি, পানি পড়া, লাল হয়ে ফুলে ওঠে।
রোগের লক্ষণ ও কতদিন থেকে হয়েছে এর সঙ্গে রোগীর জন্মগত ত্বকের রোগ, হাঁপানি ও নাক দিয়ে পানি পড়া বা হাঁচির সমস্যা রয়েছে কিনা তা জানা হয়।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষা, যেমন- স্কিন প্রিক টেস্ট, স্পেসিফিক আইজিই-ও করা হয়।
শুধু তাই নয় এলার্জির কারণে বছরের পর বছর অনেক পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়। এতে অনেকেই ভোগেন পুষ্টিহীনতায়। তবুও এলার্জি থকে মুক্তি মেলে না।
তবে এলার্জি নিয়ে আর ভাবনা নয়। এলার্জি আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিন্তা ভুলে নিম পাতার মিশ্রণে এক মাসের মধ্যে সহজ উপায়ে এলার্জিকে চিরবিদায় জানাতে পারবেন! আসুন জেনে নিই নিম পাতার মিশ্রণের প্রস্তুত প্রণালী-

* এক কেজি নিম পাতা ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন।
* শুকনো নিম পাতা পাটায় গুড়ো করে পরিষ্কার একটি কাচের পাত্রে ভরে রাখুন।

ব্যবহারের পদ্ধতি

* এক চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ নিম পাতার গুড়া এবং এক চা চামচ ভুষি এক গ্লাস পানিতে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। আধা ঘণ্টা পর চামচ দিয়ে ভালো করে নেড়ে খেতে হবে।
* প্রতিদিন সকালে খালি পেটে, দুপুরে ভরা পেটে এবং রাতে শোয়ার আগে এই মিশ্রণ খাবেন।
* এ মিশ্রণ কমপক্ষে ২১ দিন খেতে হবে। কার্যকারিতা শুরু হতে এক মাস সময় লাগতে পারে।
নিম পাতার মিশ্রণ এক মাস খাওয়ার পর আপনার এলার্জি কমে যাবে। তারপর আপনি স্বাভাবিকভাবেই পছন্দের খাবারগুলো যেমন হাঁসের ডিম, বেগুন, গরুর মাংস, চিংড়ি, কচু, দুধ, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া খেতে পারবেন। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, জানেন তো কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। তাই পছন্দের সব খাবার খাবেন তবে পরিমিত।

শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

ভ্রমণের সময় বমি এড়াতে দৃষ্টি রাখুন গাড়ির বাইরে


গাড়িতে চেপে বসেছেন কোথাও যাবেন বলে। গাড়ি চলছে; কিছুদূর যেতেই শরীরটা কেমন কেমন লাগছে; মাথা ঘুরছে, বমি বমি লাগছে। অবশেষে বমি হয়েও গেল; একবার নয়; একাধিকবার। বমি হয়ে যে স্বস্তি; তাও নয়। শরীরটা কেমন কেমন যেন লাগছে।

যেকোনো যানবাহনে চড়ার পর অনেকেরই এমন অবস্থা হয়। এ সমস্যার নাম মোশান সিকনেস। গাড়ি যখন চলা শুরু করে, আর আপনার দৃষ্টি গাড়ির ভেতরে; এ অবস্থাকে অন্তঃকর্ণ বলে।
যখন আপনি চলন্ত গাড়িতে থাকেন, তখন আপনিও গাড়ির গতিতে চলতে থাকেন। গাড়ি চলার সঙ্গে সঙ্গে আপনার অন্তঃকর্ণেও তরল পদার্থের নড়াচড়া হয়। আর মস্তিষ্কে চলার সিগন্যাল পাঠায় অন্তঃকর্ণ। কিন্তু আপনার চোখ বলে, আপনি স্থির আছেন; চলছে না কিছুই।

তবে মস্তিষ্কের মতে, বিষাক্ত জিনিস খাওয়ার কারণে চোখ এবং অন্তঃকর্ণের এমন নেশার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর বিষাক্ত জিনিস বের করতে বমির জন্য উদ্বুদ্ধ করে মস্তিষ্ক।

এতে মোশান সিকনেস পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে চলার পথে কিছু টিপস মেনে চললে এমন নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

১. গাড়ির ভেতরে দৃষ্টি না দিয়ে সামনের দিকে যতদূর দেখা যায়, সেদিকে তাকিয়ে থাকুন। আপনার অন্তঃকর্ণ ও চোখ তখন মস্তিষ্কে একই সিগন্যাল পাঠাবে, গাড়ি চলছে, আপনিও চলছেন।

২. জানালার পাশের সিট নিন। জানালা খুলে দিন। ঠাণ্ডা বাতাস পরশ বোলাবে শরীরে। এতে ভালো লাগবে।

৩. হালকাভাবে দুই চোখ বন্ধ করে রাখুন। অথবা একটু তন্দ্রাচ্ছন্নভাব নিয়ে আসুন।

৪. চলন্ত গাড়িতে বই, পত্রিকা পড়া থেকে বিরত থাকুন। বই, পত্রিকা পড়লে দৃষ্টি গাড়ির ভেতর স্থির থাকবে। তখন বমির উদ্রেগ হতে পারে।

৫. গাড়িতে উঠলেই বমি হবে- এ রকম চিন্তা মনে আনা যাবে না। অন্য চিন্তা করতে হবে। এ সময় গাড়ির বাইরে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এটি চোখকে প্রশান্তি দেবে।

হাত-পায়ের অসাড়তা দূর করুন সহজ ঘরোয়া উপায়ে


আমরা যখন দীর্ঘক্ষণ পা ভাঁজ করে বসি বা হাতের উপর চাপ দিয়ে কোন কাজ করি তখন অনেক সময় এমন হয় যে হাত বা পা নাড়াতে গেলে কোন অনুভূত পাওয়া যায় না বা ঝিমঝিম করে এবং সূক্ষ্ম ব্যাথা অনুভূত হয় – এই অবস্থাকেই অসাড়তা বা নাম্বনেস বলে। অনেকে বলেন হাত-পা ঝিনঝিন করছে। এটা খুবই সাধারণ সমস্যা। প্রতিটা মানুষই কোন না কোন সময়ে এই সমস্যাটির সম্মুখীন হয়ে থাকবেন।

এবার আসুন অস্বস্তিকর এই সমস্যাটি থেকে মুক্তি লাভের জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় জেনে নেই।

১। হিট থেরাপি
আপনার হাত বা পায়ের পাতায় যেখানে এই অসাড়তা হবে সেখানে গরম কিছু দিয়ে চাপ দিলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং ওই স্থানের পেশী ও স্নায়ু শিথিল হবে। এর জন্য একটি কাপড়ের টুকরো উষ্ণ গরম পানিতে চুবিয়ে পানি নিংড়ে নিয়ে ওই স্থানে চেপে ধরুন।এভাবে ৫ থেকে ৭ মিনিট রাখুন। যতক্ষণ পর্যন্ত অবশ ভাব না যায় ততক্ষণ এটা করতে থাকুন।

২। ম্যাসাজ থেরাপি
সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে যখনই হাত বা পায়ে অসাড়তা দেখা দিবে তখন ওই স্থানটিতে ম্যাসাজ করুন। এর ফলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি মাংসপেশির ও স্নায়ুর অসাড়তা দূর করবে। এর জন্য অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা নারকেল তেল গরম করে হাতের তালুতে নিয়ে অসাড় হয়ে যাওয়া স্থানটিতে বৃত্তাকারে মালিশ করতে থাকুন ৫ মিনিট যাবত । যতক্ষণ না স্বাভাবিক হচ্ছে ততক্ষণ ম্যাসাজ করতে থাকুন।

৩। ব্যায়াম করুন
ব্যায়াম করলে শরীরের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন এর সরবরাহ স্বাভাবিক ভাবে হয়।তাই হাত – পায়ের অসাড়তা সহ আরো অনেক শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করা দরকার।তাই প্রতিদিন ১৫ মিনিট সময় নিয়ে হাত ও পায়ের সাধারণ কিছু ব্যায়াম করুন। হাঁটা, সাতার কাটা, জগিং করা, সাইকেল চালানো এই ব্যায়াম গুলো করলে হাত-পায়ের অসাড়তা থেকে মুক্ত থাকবেন।

হাত পায়ের অসারতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য হোমিওপ্যাথি, এলোপ্যথি ও হার্বাল চিকিৎসা করা যায়, তবে হার্বাল চিকিৎসায় কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই এবং খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।

এখন তাহলে জেনে নেই সেই সব ঘরোয়া ও ওষধি উপাদান গুলো ও তাদের ব্যবহার:

১। হলুদ
হলুদে কারকিউমিন আছে শরীরের রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়াও এতে এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান আছে যা ব্যাথা কমাতে সহায়তা করে। ১ কাপ দুধে ১ চামুচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে একটু গরম করে তার মধ্যে সামান্য মধু মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন, আপনার রক্ত চলাচল ভাল হবে। এছাড়া পানির সাথে হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে মালিশ করলে উপকার পাবেন।

২।দারুচিনি
দারুচিনিতে ম্যাগনেসিয়াম , পটাসিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে। এর পুষ্টিকর উপাদান হাত ও পায়ের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী প্রতিদিন ২ থেকে ৪ গ্রাম দারুচিনি শরীরের রক্ত প্রবাহকে উন্নত করে। গরম পানির মধ্যে ১ চামচ দারুচিনি মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন।

ভিটামিন-সি এর তাৎপর্য


কেবল শুকনো বীজ ও খাদ্যশস্য ছাড়া প্রায় সব ধরনের খাদ্য-উপাদানে ভিটামিন ‘সি’ থাকে বলে এর অভাব তেমন দেখা যায় না। তবে ক্রমাগত এর অভাব ঘটতে থাকলে শরীরে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 চিকিৎসকেরা বলেন, ভিটামিন-সির অভাবে শিশুর স্কার্ভি রোগ হয়। বড়দের ক্লান্তি লাগা, দুর্বলতা, নড়বড়ে দাঁত-হাড়, বিভিন্ন গ্রন্থিতে ব্যথা, অল্পতেই রক্তক্ষরণ প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা এবং শরীরে পানি জমে বিভিন্ন রকম জটিলতাও সৃষ্টি করতে পারে।
শরীরে মজুদ হিসেবে থাকার ব্যবস্থা নেই, তাই ভিটামিন ‘সি’ আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা দরকার। এটি সরাসরি অন্ত্র থেকে দেহে শোষিত হয় এবং পোর্টাল শিরা দিয়ে রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় কাজে অংশ নেয়।

পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ২০ থেকে ৩০ মিলিগ্রাম এবং শিশুদের দৈনিক ১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি গ্রহণ করা উচিত। সে জন্য কাঁচা ফলমূল বেশি করে খাওয়া দরকার। প্রতিদিন অন্তত একটি আমলকী যদি খাওয়া যায়, তাহলে ভিটামিন-সির অভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা যাবে।

আমলকী ভিটামিন-সির খুবই ভালো একটি উৎস। একটি আমলকী খেলে আপনি পাবেন ৪৬৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি, যা অন্যান্য ফলের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি। তবে কমলালেবু, কাগজি লেবু, আমড়া, জাম্বুরা, কাঁচা তেঁতুল, বরই প্রভৃতিও ভিটামিন-সির ভালো উৎস।

সবজির মধ্যে ফুলকপি, সজিনা, ডাঁটা, বরবটি, মরিচ, করলায় প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে। আর শাকের মধ্যে মুলাশাক, সজিনাপাতা, শালগমপাতা, আলুশাক প্রভৃতিতে ভিটামিন-সি বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। তাই শরীরে ভিটামিন-সির অভাব পূরণের জন্য নিয়মিত এসব ফলমূল ও শাকসবজি গ্রহণ করে সুস্থ থাকুন।

গরম চায়ে জিহ্বা পুড়েছে ?


গরম খাবার খেতে গেলে অনেক সময় অসতর্কতাবশত জিহ্বা পুড়ে যায়। এতে জিহ্বা জ্বালাপোড়া করে। এই বিরক্তিকর বিষয়টি সহজে কমতেও চায় না। এটি থেকে অনেক সময় মুখে শুকনোভাব, পানিশূন্যতা ইত্যাদি তৈরি হয়। সমস্যার সমাধান করা না হলে একপর্যায়ে মুখে দুর্গন্ধ বা দাঁতক্ষয়ের সমস্যা দেখা দেয়।

পোড়া কম হলে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন অস্বস্তি দূর করার জন্য।

বরফ-
আক্রান্ত স্থানে সরাসরি বরফের টুকরো লাগান। পাশাপাশি মুখের মধ্যে ঠান্ডা পানি দিয়ে কুলি করুন। এভাবে সারা দিন কয়েকবার করতে পারেন।

মধু-
মধুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহরোধী উপাদান। এতে জ্বালাপোড়াভাব ও প্রদাহ কমবে। পাশাপাশি এটি পরবর্তী সময়ে মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিহত করবে।

অ্যালোভেরা-
এই উদ্ভিতটি ব্যথা কমাবে এবং জিহ্বার ভেতরে একটি ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব আনবে। অ্যালোভেরা জেল মুখের মধ্যে ২৫ মিনিট দিয়ে রাখুন। দিনে কয়েকবার এটি করতে পারেন। তবে এতেও যদি ব্যথা না কমে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

থানকুনি পাতার গুণাগুণ


বাংলা নাম থানকুনি। অঞ্চলভেদে এটি টেয়া, মানকি, তিতুরা, থানকুনি, আদামনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি , ধূলাবেগুন, আদাগুনগুনি নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম Indian Pennywort,

জ্বর : থানকুনি পাতার রস ১ চামচ ও শিউলি পাতার রস ১ চামচ মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেলে জ্বর সারে।

পেটের পীড়া : অল্প পরিমাণ আমগাছের ছাল, আনারসের কচি পাতা ১টি, কাঁচা হলুদের রস, ৪/৫ টি থানকুনি গাছ শিকড়সহ ভাল করে ধুয়ে একত্রে বেটে রস করে খালি পেটে খেলে পেটের পীড়া ভাল হয়। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি কার্যকর।

গ্যাস্ট্রিক : আধা কেজি দুধে ১ পোয়া মিশ্রি ও আধা পোয়া থানকুনি পাতার রস একত্রে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ১ সপ্তাহ খেলে গ্যাস্ট্রিক ভাল হয়।

হজম শক্তি বৃদ্ধি : বেগুন/পেঁপের সাথে থানকুনি পাতা মিশিয়ে শুকতা রান্না করে প্রতিদিন ১ মাস খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

রক্ত দূষণ রোধে থানকুনি : প্রতিদিন সকালে খালিপেটে ৪ চা চামচ থানকুনি পাতার রস ও ১ চা চামচ মধু/ মিশিয়ে ৭ দিন খেলে রক্ত দূষণ ভাল হয়।

বাক স্ফুরনেঃ যে সব বাচচা কথা বলতে দেরি করে অথবা অস্পষ্ট, সে ক্ষেত্রে ১ চামচ করে ধান কুনি পাতার রস গরম করে ঠান্ডা হলে ২০/২৫ ফোঁটা মধু মিশিয়ে ঠান্ডা দুধের সাথে কিছুদিন খাওয়ালে অসুবিধাটা সেরে যায়।

খুসখুসে কাশিতে : ২ চামচ থানকুনির রস সামান্য চিনিসহ খেলে সঙ্গে সঙ্গে খুসখুসে কাশিতে উপকার পাওয়া যায়। ১ সপ্তাহ খেলে পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে।

আমাশয় : প্রতিদিন সকালে ৫/৭ টি থানকুনি পাতা চিবিয়ে ৭ দিন খেলে আমাশয় ভাল হয়। অথবা, থানকুনি পাতা বেটে পাতার রসের সাথে চিনি মিশিয়ে দুই চামচ দিনে দুই বার খেলে আমাশয় ভাল হয়।

পেট ব্যথা : থানকুনি পাতা বেটে গরম ভাতের সাথে খেলে পেট ব্যথা ভাল হয়।

লিভারের সমস্যা : প্রতিদিন সকালে থানকুনির রস ১ চামচ, ৫/৬ ফোঁটা হলুদের রস (বাচ্চাদের লিভারের দোষে) সামান্য চিনি ও মধুসহ ১ মাস খেলে লিভারের সমস্যা ভাল হয়।

লাবণ্যতা : যদি মুখ মলিন হয়, লাবণ্যতা কমে যায় তবে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধ দিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত করলে উপকার পাবেন।

দূষিত ক্ষত : মূলসহ সমগ্র গাছ নিয়ে সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে দূষিত ক্ষত ধুতে হবে।

মুখে ঘা : থানকুনি পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে গারগিল করতে হবে।

আঘাত : কোথাও থেঁতলে গেলে থানকুনি গাছ বেটে অল্প গরম করে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে প্রলেপ দিলে উপকার পাবেন।

সাধারণ ক্ষত : থানকুনি পাতা বেটে ঘিয়ের সঙ্গে জ্বাল দিয়ে ঠাণ্ডা করে তা ক্ষত স্থানে লাগাতে হবে।

চুল পড়া : অপুষ্টির অভাবে, ভিটামিনের অভাবে চুল পড়লে পুষ্টিকর ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।

পেটের দোষ : মলের সঙ্গে শ্লেষ্ণা গেলে, মল পরিষ্কারভাবে না হলে, পেটে গ্যাস হলে, কোনো কোনো সময় মাথা ধরা এসব ক্ষেত্রে ৩-৪ চা চামচ থানকুনি পাতার গরম রস ও সমপরিমাণ গরুর কাঁচা দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।

স্মরণশক্তি : মনে না থাকলে আধা কাপ দুধ, ২-৩ তোলা থানকুনি পাতার রস ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে হবে।

নাক বন্ধ : ঠাণ্ডায় নাক বন্ধ হলে, সর্দি হলে থানকুনির শিকড় ও ডাঁটার মিহি গুঁড়ার নস্যি নিলে উপকার পাওয়া যায়।

নিম ও নিমপাতার গুণাগুণ

নিমের স্বাদ তিতকুটে হলেও এর গুণাগুণ বেশ মধুর। নিমের রয়েছে অসংখ্য গুণ। বিশেষ করে নিম পাতা ভেষজ হিসেবে পরিচিত একটি নাম, যা ত্বক এবং শরীর দুটোর জন্যই উপকারী। চলুন জেনে আসা যাক নিমের কিছু গুণ-

১. নিমপাতা ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া বিরোধী। তাই ত্বকের সুরক্ষায় এর জুড়ি নেই। ব্রণের সংক্রমণ হলেই নিমপাতা থেঁতো করে লাগালে ভালো ফল নিশ্চিত।

২. মাথার ত্বকে অনেকেরই চুল্কানি ভাব হয়, নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এই চুলকানি কমে, চুল শক্ত হয়, চুলের শুষ্কতা কমে যায় এবং চুল গজানো তরাণ্বিত হয়।

৩. ত্বকের চুলকানিতেও নিমপাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

৪. নিয়মিত নিমপাতার সাথে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়। তবে হলুদ ব্যবহার করলে রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো। নিমপাতার চেয়ে হলুদের পরিমাণ কম হবে।

৫. নিমের তেলে প্রচুর ভিটামিন ই এবং ফ্যাটি এসিড থাকে যা ত্বক এবং চুলের জন্য উপকারী।

৬. নিমপাতা সেদ্ধ পানি গোসলের পানির সাথে মিশিয়ে নিন। যাদের স্কিন ইরিটেশন এবং চুল্কানি আছে তাদের এতে আরাম হবে আর গায়ে দুর্গন্ধের ব্যাপারটাও কমে যাবে আশা করা যায়।

৭. নিমপাতা সেদ্ধ পানি বোতলে ভরে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। কোন ফেসপ্যাক পেস্ট করার সময় পানির বদলে এই নিম পানি ব্যবহার করতে পারেন।

৮. নিমের ডাল যে দাঁতের জন্য উপকারী সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের জীবাণু রোধে এটি বেশ কার্যকরী।

৯. কাটা ছেড়া বা পোড়া স্থানে নিম পাতার রস ভেষজ ওষুধের মতো কাজ করে।

১০. নিম পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে রেখে দিতে পারেন পরবর্তীতে ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।
নিম একটি ঔষধি গাছ। কফজনিত বুকের ব্যথা, অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে।
এ জন্য ৩০ ফোঁটা নিমপাতার রস সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে। গর্ভবতী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ ওষুধটি নিষেধ। কৃমি : পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম  নিমগাছের মূলের ছালের গুঁড়ো দিনে তিনবার সামান্য গরম পানিসহ খেতে হবে। উকুন নাশ : নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায় লাগান। ঘণ্টাখানেক পর মাথা ধুয়ে ফেলুন। ২-৩ দিন এভাবে লাগালে উকুন নাশ হবে বা মরে যাবে। অজীর্ণ : অনেক দিন ধরে পেটের অসুখ। পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোঁটা নিমপাতার রস সিকি কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকাল খেলে উপকার পাওয়া যাবে। খোসপাঁচড়া : নিমপাতা সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাঁচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েক দিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়। পোকামাকড় কামড় দিলে বা হুঁল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষতস্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হবে। দাঁতের রোগ : নিমের পাতা ও ছালের গুঁড়ো কিংবা নিমের ছাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত, রক্ষা পাবে রোগ থেকে। ওষুধের কৃত্রিমতার উপরে আছে প্রকৃতির অসাধারণ সব উপাদান, যার অল্প একটু ব্যবহারই প্রতিদিন আমাদের রাখবে সুস্থ ও সতেজ।
- See more at: http://www.bd-pratidin.com/editorial/2016/07/31/160238#sthash.1RV98d2i.dpuf

শীতে সুস্থ থাকতে ও ওজন ঠিক রাখতে পরিবর্তন আনুন খাদ্যতালিকায়

শীতকাল ভোজনরসিকদের জন্য আদর্শ সময়। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা থেকে শুরু করে যে কোন ধরনের সুস্বাদু খাবার খেতে সবারই ভাল লাগে। তবে শীত মানেই যে ডায়েট বাদ দিয়ে মনের সুখে খাওয়া-দাওয়া করবেন, এমনটা হলে তো মুশকিল। বরং এই সময়ে যে সবজি আর নানা ধরনের মৌসুমি ফল পাওয়া যায় তা দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন একাধিক লোভনীয় ডিশ। মনে রাখবেন, শীতে ঠিকঠাক খাওয়ার নিয়ম না মেনে চললে একদিকে যেমন শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে তেমনি ত্বকও অনুজ্জ্বল হয়ে যাবে। তাই ঋতুর সাথে তাল মিলিয়ে নজর দিন ডায়েটে।

যা করবেন

• ভেতর থেকে শরীর সুস্থ থাকলেই ত্বক উজ্জ্বল রাখা সম্ভব। শীতের শুরু ও শেষের সময়ে ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বেশি দেখা দেয়। কারণ, ঠাণ্ডা আবহাওয়া পানি পানের প্রবণতা কমে যায়। তাই এই সময় বেশি করে পানি পান প্রয়োজন। ঠাণ্ডা পানি খেতে ভাল না লাগলে হালকা কুসুম গরম পানি পান করুন। মাঝে মাঝে ডাবের পানি, ফলের রসও পান করতে পারেন। সারাদিনের তিন বেলার খাবারের মেন্যুতে রাখতে পারেন বিভিন্ন ধরনের স্যুপ, গরম দুধ, দুধ ছাড়া চা, তিন-চাড় ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন। এটি পানির সাথে সাথে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও কাজ করবে। শীতে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের প্রয়োজনীয়তা বাড়ে।

• মৌসুমি ফল যেমন কমলালেবু, আপেল, মাল্টা ইত্যাদি নানা ধরনের শীতের ফল ও শাকসবজি যথেষ্ট পরিমানে খান। এগুলোর মধ্যে উপস্থিত ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের সজিবতা বজায় রাখে, খাদ্য হজমে সাহায্য করে। শরীরের নিস্তেজ ভাব কাটায়। টাটকা ফল ও সবজিতে রয়েছে বায়োটিন ত্বক ও চুল ভাল রাখে। তাই তাজা সবজি ও ফল খাওয়া খুব জরুরী। প্রসেসড বা ফ্রোজেন ফুডের বদলে ন্যাচারাল ফুড খাওয়ার চেষ্টা করুন।

• শীতে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য প্রয়োজন ফ্যাটি এসিড। বাদাম, মাছ এই ধরনের খাবার বেশি করে খান। ব্যালেন্স ডায়েট মেনে চলুন। তাই এই সময়ের নানা ধরনের ফল ও সবজি দিয়ে সালাদ তৈরি করে খান। প্রোটিন জাতীয় খাবার শরীরের তাপমাত্রা বজায় রেখে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে।

• শীতের সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকে এবং খাওয়াও হয় প্রচুর। তাই ক্যালরিও বেড়ে যায় শরীরে। শীতে দুধ দিয়ে তৈরি চা ও কফি না খেয়ে গ্রিন টি খেতে পারেন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। এই ধরনের খাবারের বদলে সালাদ খান চাইলে অলিভওয়েল ব্যবহার করতে পারেন কারণ এতে স্যচুরেটেড ফ্যাটের পরিমান কম থাকে যা হার্টের জন্য ভাল। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ভাত ও রুটি কম খান। প্রচুর পরিমানে পানি ও ফল, সবজি দিয়ে সালাদ বানিয়ে খান।

• শীতকালে যেহেতু বেশ কিছু শারীরিক সমস্যার উপদ্রব বেড়ে যায় তাই শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ কিছু হার্বসের সাহায্য নিতে পারেন। এগুলো সর্দি-কাশি বা ঋতু পরিবর্তনের অন্যান্য অসুখ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে তুলসী অনেক কার্যকরী। তুলসিতে আছে বিটা ক্যারোটিন ও ইউজিনল। বিটা ক্যারোটিন এন্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে ও ইউজিনল ব্যাকটেরিয়া দূর করে। প্রতিদিন রং চায়ের সাথে কয়েকটি তুলসী পাতা মিশিয়ে খান দেখবেন শরীর সুস্থ হয়ে গিয়েছে। গলায় খুসখুসানি হলেও তুলসী ভীষণ কাজে আসে। স্যুপ, সালাদ বা পাস্তার সাথে তুলসী পাতা কুচি করে দিন মিশিয়ে খান। গলার সমস্ত অস্বস্তি নিমিষেই গায়েব হয়ে যাবে।