সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৭

কাঁচা মরিচের উপকারিতা


☯ গরম কালে কাঁচা মরিচ খেলে ঘামের
মাধ্যমে শরীর ঠান্ডা থাকে ।
. ☯ প্রতিদিন একটি করে কাঁচা মরিচ
খেলে রক্ত জমাট বাধার
ঝুঁকি কমে যায় ।
.
☯ নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে হৃদপিণ্ডের
বিভিন্ন সমস্যা কমে যায় ।
.
☯ কাঁচা মরিচ মেটাবলিসম বাড়িয়ে
ক্যালোরি
পোড়াতে সহায়তা করে ।
. ☯ কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন আছে
যা কার্ডোভাস্ক্যুলার সিস্টেম কে কর্মক্ষম
রাখে ।
.
☯ নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ।
.
☯ কাঁচা মরিচ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় ।
.
☯ কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন এ যা হাড়,
দাঁত ও মিউকাস মেমব্রেনকে ভালো রাখতে সহায়তা
করে ।
.
☯ কাঁচা মরিচে প্রচুর পরিমাণে
ভিটামিন সি আছে যা মাড়ি
ও চুলের সুরক্ষা করে । .
☯ নিয়মিত কাঁচা মরিচ খেলে নার্ভের
বিভিন্ন সমস্যা কমে ।
.
☯ প্রতিদিন খাবার তালিকায় অন্তত
একটি করে কাঁচা মরিচ রাখলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না ।
.
☯ কাঁচা মরিচে আছে ভিটামিন সি ।
তাই যে কোনো ধরণের কাটা-ছেড়া
কিংবা ঘা শুকানোর জন্য কাঁচা মরিচ
খুবই উপকারী । .
☯ কাঁচা মরিচের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও
ভিটামিন সি শরীরকে জ্বর, সর্দি,
কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে ।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০১৭

যেসব ফ্যাট জাতীয় খাদ্য স্বাস্থ্যকর

স্লিম থাকার জন্য স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ এখন ঝুঁকছেন ফ্যাট-ফ্রি খাবারের দিকে। সারাদিনে অল্প অল্প করে খাওয়া আর মাঝে মাঝে টুকিটাকি মুখে দিয়ে পেট ভরানো। তবে একেবারে ফ্যাট-ফ্রি ডায়েট হলে নাকি বিপদ বাড়ে বই কমে না। ব্রিটিশ সংস্থা ন্যাশনাল ওবেসিটি ফোরামের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় এমনটাই জানিয়েছেন পাবলিক হেলথ কোলাবরেশনের গবেষকরা। তাদের মতে, একেবারে ফ্যাট-ফ্রি খাবার না খেয়ে ডায়েটে রাখুন ‘স্বাস্থ্যকর’ ফ্যাটযুক্ত খাবার। লো-ফ্যাটযুক্ত এসব খাবারে নাকি লাভ বেশি।

তবে সব ফ্যাটযুক্ত খাবারই কিন্তু স্বাস্থ্যকর নয়। ফ্যাট বিহীন মার্জারিন না খেয়ে অল্প পরিমাণে মাখন খেলে শরীরে স্নেহ জাতীয় পদার্থের ঘাটতি মিটবে। প্রতিদিন এক চামচ করে ঘি খেলে তা আপনার উপকারই করে। হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও ঘিতে বিউটিরিক এসিডের মতো ফ্যাটি এসিড থাকায় তা কোলনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দুধের মতো লো-ফ্যাট নয়, ফুল-ফ্যাট দই খান।

লো-ফ্যাট দইয়ে প্রচুর পরিমাণ চিনি থাকে। সপ্তাহে কয়েকবার খুব সামান্য পরিমাণে রেড মিট অর্থাৎ গরু বা খাসির গোশত খেতে পারেন। গবেষকদের মতে, সপ্তাহে চারটি ডিম খেলে তা ক্ষতিকর নয়। স্কিমড বা ডাবল টোনড মিল্কের পরিবর্তে দিনে একবার ফুল-ফ্যাট মিল্ক খান। এতে অনেকক্ষণ ধরে পেট ভরা থাকবে। এ ধরনের দুধে যে ফ্যাটি এসিড থাকে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

কিডনি পরিষ্কার রাখবে আদা-লেবুর পানীয়

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি শরীরের ছাঁকন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলো কখনো কখনো কিডনির কাজকে ব্যাহত করে। তাই কিডনি পরিষ্কার রাখা দরকার। কিডনির মধ্যে বিষাক্ত পদার্থ জমা হলে সংক্রমণ হয়। কিডনি রোগের কিছু লক্ষণ হলো বমিবমি ভাব, হজমে অসুবিধা ইত্যাদি।

উপাদান--- সতেজ আদার শেকড়
দুই থেকে তিন টুকরো আপেল
দুই থেকে তিন টেবিল চামচ লেবুর রস
এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি

প্রণালী

সবগুলো উপাদানকে একত্রে নিয়ে ব্লেন্ড করুন। এরপর পানিটিকে ছাঁকুন। পরে পানীয়টি পান করুন।খালি পেটে পানীয়টি পান করুন। তবে আগে অল্প একটু পান করে দেখুন যে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। আর শরীরে যদি জটিল কোনো রোগ থাকে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই খাওয়া ভালো।

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

লজ্জ্বাবতী গাছের গুনাগুন ও উপকারিতা জেনে নিন।

বাংলা নাম- লজ্জাবতী। আবার কেউ কেউ এক বলেন লাজুক লতা।
পরিচয় – বর্ষজীবি গুল্ম আগাছা বা ওষুধী গাছ।
কাণ্ড- লতানো। শাখা প্রশাখায় ভরা। কাঁটাযুক্ত। লালচে রঙের। কিছুটা শক্ত। সহজে ভাঙ্গে না বরং পেচিয়ে টানলে ছিড়ে যায়।
পাতা বুঁজে এসে বন্ধ হয়ে যায়। পাতা সরু ও লম্বাটে, সংখ্যায় ২ থেকে ২০ জোড়া। উপপত্র কাঁটায় ভরা।

ফুল

উভলিঙ্গ। বৃতির সংখ্যা ৪ টি, পাপড়ী ৪টি, ফুল গুলি বেগুনী ও গোলাপী রঙের।
ফল- দেখতে চ্যাপ্টা এবং একত্রিত। মে থেকে জুন মাসে ফুল আসে, জুলাই আগষ্টে ফুল থেকে ফল হয় এবং জানুয়ারি- ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ থেকে চারা গজায়।

উপকারী অংশ

পাতা ও মুল। পাতায় এ্যাকোলয়ড়ে ও এড্রেনালিন এর সব উপকরণ থাকে। এছাড়াও (মড়ৎরহং) টিউগুরিনস্
এবং মুলে ট্যানিন থাকে।

ব্যবহার

দাতেঁর মাঢ়ির ক্ষত সাড়াতে গাছসহ ১৫ থেকে ২০ সে.মি. লম্বা মূল পানিতে সিদ্ধ করে সে পানি দিয়ে কয়েক দিন দিনে ৩ বার কুলকুচা করলে ভালো হয়। সাদা ফুলের লজ্জ্বাবতীর পাতা ও মুল পিষে রস বের করে নিয়মিত খেলে পাইলস্ ও ফিস্টুলায় আরাম পাওয়া যায়।
লজ্জাবতী লতার সমগ্র উদ্ভিদ ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এর আছে অনেক ঔষধি গুণ। ধারাবাহিক ভাবে তা আলোচনা করা হলো

মিথুন দন্ডের শৈথিল্য

লজ্জাবতীর বীজ দিয়ে তৈরি তেল লাগিয়ে আস্তে আস্তে মালিশ করলে তা দৃড় হয়।

যৌনি ক্ষতে

যে কোন কারনে যনিপথে ক্ষত হলে, প্রথমিক স্তরে মাঝে মাঝে অথবা প্রায় রোজই অল্প স্রাব চলতে থাকে, একটা আশটে গন্ধ, কখনো বা একটু লালচে স্রাব হয়, এসব ক্ষেত্রে ‍চিকিৎসক সাবধান করে থাকেন, এটি পরিণামে ক্যান্সার হয়ে যেতে পারে ।
এক্ষেত্রে দুধ-জলে ‍সিদ্ধ করা লজ্জাবতীর কাথ দিনে ২ বার খেলে এ রোগ উপশম হয়। একই সাথে লজ্জাবতীর ক্বাথ দিয়ে ডুশ দিলে বা যোনিপথ ধুলে তাড়াতাড়ি ক্ষত সেরে যায়।

আঁধার যোনি ক্ষতে

এ বিচিত্র রোগটি কৃষ্ণপক্ষে বেড়ে যায় আর শুক্লপক্ষে শুকাতে থাকে । এ ক্ষতটি হয় সাধারণত : হাটুর নিচে
আর না হয় কুঁচকির দু’ধারে। এক্ষেত্রে গাছও পাতা ( মূল বাদে ) ১০ গ্রাম শুধু জল দিয়ে ক্বাথ করে খেতে হয় এবং ঐ ক্বাথ দিয়ে মুছতে হয়, ফলে অসুবিধা দুর হয়।

রমনে অতৃপ্তি

কয়েকটি সন্তান হওয়ার পর প্রসবদ্বারের শৈথিল্য হয়েছে , সেটার অনেকটা মেরামত করে দিয়ে থাকে এ
লজ্জাবতীর ক্বাথের ডুশ নেওয়ায়, আর গাছের পাতা সিদ্ধ ক্বাথ দিয়ে তৈরি তেলে ন্যাকড়া ভিজিয়ে পিচুধারণ কারালে ( Vaginal plugging ) এছাড়া অন্ডকোষের পানি জমা সারাতে পাতার পেস্ট ব্যবহার করা হয়।

আমাশয়

অনেকের আছে পুরানো আমাশয় । মল ত্যাগের বেগ হলে আর অপেক্ষা করতে পারে না । গিয়ে প্রথমে যা হল তারপর
আর হতে চায় না ।আবার অনেকের শক্ত মলের গায়ে সাদা সাদা আম জড়ানো থাকে। এক্ষেত্রে ১০ গ্রাম লজ্জাবতীর ডাঁটা ও পাতা ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। এ ক্বাথ খেলে তারা অবশ্যই উপকার পাবেন।

দুর্গন্ধ দুর করতে

অনেকের ঘামে দুর্গন্ধ হয় এবং জামায় বা গেঞ্জিতে হলদে দাগ লাগে, এক্ষেত্রে লজ্জাবতী গাছের ডাঁটা ও পাতার
ক্বাথ তৈরি করে বগল ও শরীর মুছতে হবে বা লাগাতে হবে। তাহলে এ অসুবিধা দুর হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

অনেকের মল গুলটে হয়ে যায়, বুলেটের মত কয়েকটা বের হয়, আর কিছুই নেই। এক্ষেত্রে মূল ৭ / ৮ গ্রাম থেঁতো
করে সিদ্ধ করতে হবে এবং ছেঁকে ঐ পানিটা খেতে হবে । তাহলে উপকার হবে।

লবণ দিয়ে ম্যাজিকের মতো মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দূর করুন!

মাইগ্রেন বা মাথা ব্যথা যাদের আছে তারা বোঝেন মাথা ব্যথা হলে কি অবস্থা দাড়ায়। অথচ খুব সহজ একটি জিনিস লবণ দিয়ে ম্যাজিকের মতো মাইগ্রেনের যন্ত্রণা দূর করা সম্ভব। কিভাবে এটি করতে হবে জেনে নিন।
যাদের মাইগ্রেনের ব্যথা আছে কেবলমাত্র তারাই জানের মাথা ব্যাথা হলে কি অবস্থা সৃষ্টি হয়। একবার মাথা ব্যাথা শুরু হলে তা নষ্ট করে দিতে পারে আপনার পুরোটি দিন। শুধু তাই নয়, কারও কারও মাইগ্রেনের ব্যাথা সাধারণ পেইনকিলারে দূর হতেও চায় না। কি করবেন তারা? তাদের এক বিশাল উপকারে করতে পারে লবণ। কিভাবে ব্যবহার করবেন লবণ? আসুন সে বিষয়ে আমরা আজ জেনে নেই।
যারা মাইগ্রেনের ভুক্তভোগী তারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যেই মাইগ্রেন কমানোর অনেকগুলো উপায়ে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করে দেখেছেন। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। মাইগ্রেনের ব্যাথা একবার শুরু হওয়ার পর আর কোনো রকম পেইন কিলারও কাজ করছে না। অনেকের আবার স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে পেইন কিলারের ব্যবহারের উপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তবে একটি সহজ পদ্ধতি লবণের ব্যবহার এতে ভালো কাজ করতে পারে আপনার।

লবণ ব্যবহার কার নিষেধ

প্রথমেই জেনে নেওয়া দরকার লবণ ব্যবহার করা উচিত নয় কার কার। মাইগ্রেনের ব্যাথা যখন হয় তখন অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়। লবণ ব্যবহারের ফলে তাদের রক্তচাপ আরও বেড়ে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অবশ্য তারা মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতে সেলেরির জুস পান করতে পারেন। কারণ এতে রয়েছে এমন এক ধরনের সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায় না আবার মাইগ্রেনের ব্যাথা কমাতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে।

কিভাবে লবণ ব্যবহার করবেন

লবণ ব্যবহার করে মাইগ্রেন কমাতে হলে অবশ্য সাধারণ মানের টেবিল সল্ট ব্যবহার না করে উচ্চমানের লবণ ব্যবহার করতে হবে। যেমন: হিমালায়ান ক্রিস্টাল সল্ট। এই লবণের বিশেষত্ব হলো এতে উপস্থিত রয়েছে ৮৪টি খনিজ উপাদান, ইলেক্ট্রোলাইট ও মৌল। এই লবণ শুধু যে মাইগ্রেন কমায় তাই নয়, বরং সেইসঙ্গে শক্তিশালী করে তোলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও। আবার শক্তি বাড়ায়, রক্তে সেরোটোনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, শরীরে অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্যও বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকে।

লবণ ব্যবহারের এই উপায়টি খুব সহজ। এক গ্লাস লেবুর রস (অথবা আপনার পছন্দের কোনো ফলের জুস নিন) এর মধ্যে বেশি করে লবণ দিয়ে তৈরি করুন একটি মিশ্রণ। তখন তা পান করে ফেলুন। দেখবেন মাইগ্রেনের ব্যাথা দূর হয়ে যাবে একেবারে ম্যাজিকের মতো।

আগেই বলা হয়েছে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে সেসব রোগীদের অবশ্যই লবণের এই মিশ্রণ পান করা উচিত নয়। আবার যাদের আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারাও লেবু অথবা এই প্রকৃতিকর অ্যাসিড ধরণের জুস পান করা হতে বিরত থাকতে হবে।

তাই সাধারণভাবে যাদের মাইগ্রেনের মাথা ব্যাথা রয়েছে তারা উপরোক্ত নিয়মে মাথা ব্যাথা শুরু হলে লবণ পানি খেয়ে উপকার পেতে পারেন।


সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

সিজারের পর পুরনো বডি শেপ ফিরে পাওয়ার সহজ কিছু উপায়

যেসকল নারীরা সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন ওজন কমানোর ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারির নারীদের চেয়ে তাদের বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সিজারের সময় শুধু যে লেবার পেইন হয় তা নয়, লেবার পেইনের সাথে যোগ হয় অপারেশন পরবর্তী রিকভারী পেইন।
আর এটি যেহেতু একটি মেজর অপারেশন, তাই সিজারের পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তিন থেকে ছয় মাস কোন ধরনের ভারী ব্যায়াম বা কড়া ডায়েট করা উচিত না। তবে সিজারের তিন মাস পর থেকে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে বাড়তি ওজন কমানো এবং পুরনো বডি শেপ ফিরে পাওয়াটা বেশ কিছুটা সহজ হয়ে যায়। আজ সেরকম কিছু উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান

বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুধু বাচ্চার জন্যই উপকারী না, এটা মায়ের জন্যও অনেক উপকারী। যেসকল মায়েরা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের ওজন অন্য মায়েদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দ্রুত ঝরে যায়। কারণ বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চাকে পর্যাপ্ত পুষ্টি দিতে গিয়ে মায়ের শরীর থেকে অনেক বেশী ক্যালরি ক্ষয় হয়। যার ফলে ওজন ঝরে যেতে শুরু করে। এজন্য শুধু জন্মের প্রথম ছয় মাসই নয়, বরং এরপরও বাচ্চাকে অন্তত এক বছর পর্যন্ত নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।

নিয়মিত হাটা শুরু করুন

সিজারের পর ওজন কমানোর জন্য হাটা হচ্ছে সবথেকে ভালো উপায়। নিয়মিত হাটা শুধু ক্যালরি বার্ন করে না, অপারেশনের পর শরীরের অ্যানার্জি লেভেল বাড়াতেও সাহায্য করে। যে সকল মায়েরা সিজার অপারেশনের মধ্য দিয়ে যান তাদেরকে সাধারণত অপারেশনের পরদিন থেকেই অল্প অল্প করে হাটা শুরু করতে বলা হয়। কারণ হাটলে সেলাই দ্রুত শুকায়, রক্ত জমে না এবং ব্যাথা প্রশমন ত্বরান্বিত হয়। তবে প্রথম ছয় থেকে আট সপ্তাহ খুব আস্তে আস্তে হাটতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে হাটার গতি এবং সময় বাড়াতে হবে।

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

সিজারের মত মেজর অপারেশন থেকে রিকভারীর জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খুবই দরকারী। বিশেষত যারা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান তাদের জন্য অতিরিক্ত খাবার অতি জরুরী। কারণ বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ালে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ক্যালরি বার্ন হয়ে যায়। এই বাড়তি ক্যালরির ঘাটতি বাড়তি খাবারের মাধ্যমে পুরণ করা উচিত। তবে এই খাবারটি হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত।
একজন মায়ের সকালটি শুরু হওয়া উচিত একটি স্বাস্থ্যকর নাস্তা দিয়ে যা তাকে সারাদিনের জন্য অ্যানার্জি দেবে। এরপর সারাদিনে ৫ থেকে ৬ বার অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যাতে মায়ের খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেলস অথচ অল্প পরিমাণে ক্যালরি থাকে। আর প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

 ভাজাভুজি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন

সকল নতুন মায়েদেরই একটু আধটু মিষ্টি বা ভাজাভুজি খাওয়ার অধিকার আছে। তাই বলে ক্ষিদে লাগলেই চিপস বা কেক নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লে কখনোই পুরনো ওজন ফিরে পাওয়া সম্ভব না। এজন্য ডুবো তেলে ভাজা খাবার, আইসক্রীম, সফট ড্রিঙ্কস এসব যত এড়িয়ে চলা যায় ততই ভালো। এসব খাবারের বদলে তাজা ফল বা সবজি নাস্তা হিসেবে খেলে মা ও বাচ্চা দুজনের জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে।

জেনে নিন কেন আপনার অনিয়মিত পিরিয়ড হয়

বর্তমানে বেশির ভাগ মেয়েরাই পিরিয়ডের সমস্যায় ভোগেন। আপনি কর্মরতা হোন বা গৃহবধূ— কোন না কোনও বয়সে হয়তো এই সমস্যায় পড়েছেন। অথবা আপনারই কোনও প্রিয়জন পিরিয়ডের সমস্যায় ভুগছেন। জানেন কি কেন আপনার এই সমস্যা হয় ? জেনে নিন অনিয়মিত পিরিয়ডের কয়েকটি কারণ। এর কোনও লক্ষণ আপনার মধ্যেও থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকের সঙ্গে যোগাযাগ করুন।

অতিরিক্ত ডায়েট

অতিরিক্ত ডায়েট করলে কিংবা হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ওজন কমে গেলে পিরিয়ডের সমস্যা হয়।

বিড়ম্বনা যখন ব্যায়াম

অতিরিক্ত ব্যায়াম করলেও পিরিয়ডে দেরি হতে পারে।

থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা

থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় বেশিরভাগ মেয়ের পিরিয়ডের সমস্যা হয়।

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম

পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি হরমোনাল সমস্যা। শরীরের জরুরি তিনটি হরমোন ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং টেসটোস্টেরন উৎপাদন কমে যাওয়ায় পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোমের সমস্যা হয়। ফলে পিরিয়ড দেরিতে হয়।

স্ট্রেস

অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে পিরিয়ডে দেরি হয়।

বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৭

ব্যায়ামের কিছু সাধারণ নিয়মাবলী

অনেকেই বাসায় নিজে নিজে অথবা জিমে ব্যায়াম করেন| প্রতিটি কাজেরই সুনির্দিষ্ট নিয়ম আছে| খাওয়া দাওয়ার যেমন সঠিক নিয়ম আছে, তেমনি ব্যায়ামেরও অনেক নিয়ম কানুন আছে, যা জেনে বুঝে করা খুব দরকার| ব্যায়াম যদি ঠিক মত না করা হয়, তবে শারীরিক নানান রকম সমস্যা যেমন: মাসেল পুল, ইনজুরি, ইত্যাদি হতে পারে | জিমে যারা যান, তারা হয়ত সঠিক নির্দেশনা পান, কিন্তু যারা বাড়িতে ব্যায়াম করেন, তারা হয়ত না জেনে অনেক ভুল ভাবে ব্যায়াম করছেন |
নিচে আপনাদের জন্য ব্যায়ামের কিছু সাধারণ নিয়ম কানুন দেয়া হলো:
  • আপনি কেন ব্যায়াম করবেন সেটা আগে জানুন, প্রয়োজনে ডাক্তার অথবা জিম ট্রেইনারের কাছ থেকে জানুন কিভাবে, কত টুকু করবেন|
  • শারীরিক ক্ষমতা ও বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম করবেন, যেমন : ৪০ বছর বয়সের ব্যাক্তি সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারবেন না, ব্যাক পেইন, বাতের  সমস্যা থাকলে সাবধানে ব্যায়াম  করতে হবে|গর্ভবতী মহিলারাও সব ধরনের ব্যায়াম করতে পারবেন না
  • কোনো রকম শারীরিক সমস্যা না থাকলে, নিজেই ব্যায়াম শুরু করতে পারেন |
  • ব্যায়াম কি ভাবে শুরু করবেন?
  • ব্যায়াম এর শুরুতেই আপনার ওজন, উচ্চতা ইত্যাদি লিখে রাখুন, কেমন উন্নতি হচ্ছে তা প্রতিমাসে খেয়াল করুন |
  • ব্যায়ামের সময় আরামদায়ক পোশাক, যেমন: গেঞ্জি, কেডস পরাই ভালো| সাথে রাখবেন তোয়ালে, পানির বোতল |
  • জুতা বা কেডস কার্ডিও ব্যায়ামের জন্য খুব দরকারী ও গুরুত্ব্যপূর্ণ | ভালো মানের কেডস না ব্যাবহার করলে পায়ে ব্যাথা, মাথা ব্যাথা এমনকি মেরুদন্ডে ব্যাথাও হতে পারে |
  • অবশ্যই কার্ডিও করার সময় একটু পর পর এক চুমুক পানি খাবেন, এটি আপনাকে পানিশুন্যতা  এর থেকে রক্ষা করবে|একবারে বেশি পানি খাবেন না, তাহলে সেই পানি সরাসরি আপনার ফুসফুসে চলে যাবে, water intoxication,  hyponatremia (রক্তে সোডিয়াম-এর স্বল্পতা), appendicitis  ও হতে পারে |
  • ব্যায়ামের সময় পূর্ণ মনোযোগ ব্যায়াম করার দিকে থাকবে, বই পড়তে পড়তে ব্যায়াম করবেন না, এতে আপনার ব্যায়াম সঠিক হবে না |
  • ব্যায়ামের সময় আপনার posture এর দিকে লক্ষ্য রাখুন, উল্টা পাল্টা posture এ ব্যায়ামের ফলে শারীরিক অসুবিধা বা আপনার দেহের গঠন নষ্ট হতে পারে |
  • প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যায়াম করবেন |
  • ব্যায়াম নিয়মিত করবেন | একদিন করলেন, আবার ১০ দিন পরে করলে, সেই ব্যায়াম কোনো কাজে আসবে না |
  • ব্যায়াম করবেন একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী | কোন দিন কোন ধরনের ব্যায়াম করবেন, কত টুকু তা আগেই ঠিক করে নিন, সেটা মেনে চলুন |
  • ওয়ার্ম আপ আর কুল ডাউন ব্যায়ামের খুব গুরুত্ব্য পূর্ণ অংশ | যেমন: ওয়ার্ম আপ না করে আপনি যদি দৌড়ানো শুরু করেন, তাহলে আপনার হার্ট ফেইল হতে পারে| যদি  ওয়ার্ম আপ না করে পেটের ব্যায়াম করেন, তাহলে কোনো লাভ নেই | আমার প্রিয় ট্রেইনার-এর মতে ওয়ার্ম আপ হচ্ছে ব্যায়ামের সবচাইতে গুরুত্ব্য পূর্ণ অংশ | ওয়ার্ম আপ বলতে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি , মাসেলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি বুঝায় | স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের শরীরের তাপমাত্রা যে অবস্থায় থাকে, সে অবস্হা থেকে তাপমাত্রা ও হার্ট রেট বাড়ানোকে ওয়ার্ম আপ বলা হয় | ওয়ার্ম আপ করবেন একদম শরীরচর্চার শুরুতে | প্রথমে ধীরে ধীরে হাটুন, দুই মিনিট পরে স্পিড বাড়ান, তারপর জগিং করুন | ৫ মিনিট হাটুন, তারপর ৫ মিনিট কমপক্ষে জগিং করুন | এভাবে আপনার শরীর যখন ঘামবে তখন বুঝবেন ওয়ার্ম আপ হয়েছে | তখন running, jogging, পেটের ব্যায়াম, stretching, weight training ইত্যাদি করা যাবে | কমপক্ষে ১০ মিনিট ওয়ার্ম আপ করলে ভালো |
  • আস্তে ধীরে কার্ডিও শুরু করুন |হঠাত করে স্পিড বাড়িয়ে দিবেন না |
  • কার্ডিও করতে করতে হঠাত বন্ধ করে দিবেন না, কার্ডিও শেষে যাতে আপনার heart rate, body temperature নরমাল হয় তাই, আস্তে আস্তে কার্ডিও শেষে কুল ডাউন ও stretching করুন|
  • ব্যায়ামের ঠিক আগে, পরে কিছু খাবেন না, তাহলে সেটা হজম হবে না| ব্যায়ামের দুই ঘন্টা আগে এবং এক ঘন্টা পরে কিছু খাওয়া যাবে না|
  • ব্যায়াম করার সময় মাঝে মাঝে, অথবা যখন থামবেন, তখন শ্বাস নিবেন ও ছাড়বেন| এতে শ্বাস প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়|
  • মাঝে মাঝে ব্যায়ামের  রুটিন পরিবর্তন করলে ভালো ফল পাবেন, কারণ এক ঘেয়ে নিয়মে আপনার শরীর অভ্যস্ত হলে, সেটা আর কাজে লাগবে না|
  • সম্ভব হলে নতুন ধরনের ব্যায়াম শুরু করতে পারেন, এতে আপনার ব্যায়ামের একঘেয়েমি কাটবে, নতুন  ব্যায়াম শরীরে কাজেও লাগবে |
  • ব্যায়ামের সময় পুরা শরীর টিকে কাজে লাগান, যেমন: হাটার বা দৌড়ানোর  সময় হাত দুটিকে কনুই ভেঙ্গে সামনে পেছনে  নাড়ান | এতে আপনার ঘাড়, হাতের ও ব্যায়াম হবে|
  • ব্যায়াম  করতে করতে বেশি ক্লান্তি লাগলে অথবা খুব খারাপ লাগলে বন্ধ করে দিন| জোর করে করবেন না |
  • মন খারাপ করে, ব্যায়াম করতে আলসেমি লাগে,ভালো লাগে না ইত্যাদি মানসিকতা নিয়ে ব্যায়াম করলে কোনো লাভ হবে না, আনন্দের সাথে মজা করে ব্যায়াম করুন |
  • যারা weight training করেন, তারা কতটুকু weight নিবেন তা জেনে বুঝে করুন| posture ঠিক রেখে নিয়ে weight (dumbbell etc.)ব্যায়াম করুন | Weight training শুরু করবেন ব্যায়াম শুরু করার ১/২ সপ্তাহ পরে|
  • অতিরিক্ত সময় ধরে ( যেমন তিন, চার ঘন্টা) ব্যায়াম করবেন না, এতে হিতে বিপরীত হবে |
  • ব্যায়াম করার সময় ব্যাথা পেলে অথবা মাসেল পুল হলে সাথে সাথে ব্যায়াম বন্ধ করে দিন, ডাক্তার অথবা physiotherapist দেখান|
  • ঘুমানোর চার ঘন্টা আগে আর কার্ডিও ব্যায়াম না করাই ভালো| ঘুমানোর আগে যদি ব্যায়াম করতে হয়, তাহলে একমাত্র হালকা yoga করতে পারেন|
  • জিমের প্রতিটি machine ও instrument এর ব্যাবহারের সময় কিভাবে করবেন তা জেনে বুঝে করবেন | তা নাহলে মাসেল পুল ও ইনজুরি হতে পারে|
  • ব্যায়ামের শেষে shower নিলে ফ্রেশ লাগবে|

রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

মাত্র ২ দিনে বুকের কফ দূর করুন গরম পেঁয়াজ দিয়ে ।

এর চিকিৎসা করা না গেলে এটি দ্বারা শ্বাসযন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই সর্দি, কফ দূর করতে পারেন। আজ তাহলে এমন কিছু ঘরোয়া উপায়ের সাথে পরিচিত হওয়া যাক.....

১। লবণ পানি

বুকের সর্দি, কফ দূর করতে সহজ এবং সস্তা উপায় হল লবণ পানি। লবণ শ্বাসযন্ত্র থেকে কফ দূর করে দেয়।
এক গ্লাস কুসুম গরম পানির সাথে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে দিনে দুই তিনবার কুলকুচি করুন।

2। হলুদ

হলুদে থাকা কারকুমিন উপাদান বুক থেকে কফ, শ্লেষ্মা দূর করে বুকে ব্যথা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর অ্যান্টি ইনফ্লামেনটরি উপাদান গলা ব্যথা, বুকে ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে।
এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এটি দিয়ে প্রতিদিন কুলকুচি করুন।
এছাড়া এক গ্লাস দুধে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে জ্বাল দিন। এর সাথে দুই চা চামচ মধু এবং এক চিমটি গোল মরিচের গুঁড়ো মেশান। এই দুধ দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন।

৩। লেবু এবং মধু

লেবু পানিতে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করুন। মধু শ্বাসযন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এমনকি এটি বুক থেকে কফ দূর করে গলা পরিষ্কার করে থাকে।

৪। আদা

এক টেবিল চামচ আদা কুচি এক পানিতে মেশান। এবার এটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৫ মিনিট জ্বাল দিন। বলক আসলে এতে সামান্য মধু দিয়ে দিন। দিনে তিনবার এই পানীয়টি পান করুন। এছাড়া এক চা চামচ আদা কুচি, গোল মরিচের গুঁড়ো, এবং লবঙ্গের গুঁড়ো দুধ অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি দিনে তিনবার পান করুন। আপনি চাইলে এক টুকরো আদা নিয়ে মুখে চাবাতে পারেন। আদার রস বুকের কফ পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

৫। পেঁয়াজ

সম পরিমাণের পেঁয়াজের রস, লেবুর রস, মধু এবং পানি একসাথে মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। কিছুটা গরম হলে নামিয়ে ফেলুন। কুসুম গরম এই পানি দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এছাড়া পেঁয়াজের ছোট টুকরো খেতে পারেন।

৬। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার

এক কাপ কুসুম গরম পানিতে দুই চা চামচ বিশুদ্ধ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এর সাথে এক চা চামচ মধু মেশান। এইবার এই পানীয়টি দিনে দুই তিনবার পান করুন। এক দুই সপ্তাহ পান করুন। দেখবেন বুকের কফ অনেক কমে গেছে।

শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৭

আদার ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নিন!

আদা ছাড়া বাঙালির রান্নাঘর ভাবাই যায় না। সুস্বাদু রান্নার জন্য রান্না ঘরে আদা চাই-ই চাই। কিন্তু আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়ায় না, আরো অনেক উপকারেও আসে। তো আসুন জেনে নেই!

১) বমিভাব বা বমি হচ্ছে অনেক? আদা কুচি করে চিবিয়ে খান অথবা আদার রসের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করুন। তাৎক্ষণিক সমাধান পেয়ে যাবেন।

২) উল্টাপাল্টা এবং বেশি ভাজাপোড়া খাবারের কারণে বুকজ্বলার সমস্যা হুট করেই শুরু হতে পারে। এক কাজ করুন, ২ কাপ পানিতে ২ ইঞ্চি আদা ছেঁচে জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো তৈরি করে পান করুন। বুকজ্বলা কমে যাবে।

৩) ধমনীতে প্লাক জমে রক্ত প্রবাহ বন্ধের সমস্যাকে বলা হয় অথেরোস্ক্লেরোসিস। এই মারাত্মক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে। প্রতিদিন একটু হলেও আদা খান এই সমস্যা থেকে দূরে থাকতে।

৪) অনেক দুর্বল লাগছে? দুর্বলতার কারণ যাই হোক না কেন একটু আদা খেয়ে নিন। অনেকটা শক্তি পাবেন। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ নিন দুর্বলতার কারণ জেনে নিরাময়ে সহায়তা পেতে।

৫) আদার রস ব্যথানাশক ঔষধের মতো কাজ করে। সরাসরি আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন আদার রস অথবা পান করে নিতে পারেন, দুভাবেই ভালো উপকার পাবেন।

৬) নতুন আদার সাথে আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি করে।

৭) প্রাকৃতিক অ্যান্টিহিস্টামাইন এনং অ্যান্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর আদা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত আদা খাওয়ার অভ্যাস করলে ছোটোখাটো অনেক রোগের হাত থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৮) খেতে ইচ্ছে করছে না বা ক্ষুধা মন্দায় ভুগছেন? তাহলে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে আদা খেয়ে নিন। এতে ক্ষুধামন্দা দূর হবে এবং খাবারে রুচি ফিরে আসবে।

৯) আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা দূর করতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী। এছাড়াও উষ্ণ গরম পানিতে আদার তেল মিশিয়ে গোসল করলে মাংসপেশীর ব্যথা দূর হয়।

১০) আদা হজমে সমস্যা সমাধান করে এবং পেটে ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন সকালে ১ কাপ আদা চা পান করলে পুরোদিন পেট ফাঁপা বা বদহজম থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৭

সিজারিয়ান হওয়ার পর পেটের মেদ কমানোর সহজ ৭ টি পন্থা

সন্তান জন্ম দেয়া একজন নারীর জীবনের অনেক কঠিন সময়। কিন্তু তিনি যখন নবজাতককে কোলে নেন তখন তাঁর সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। কিন্তু গর্ভধারণের পরবর্তী ওজন এত সহজে কমে না। বিশেষ করে সিজারিয়ান হলে পেটের মেদ কমিয়ে পূর্বের অবস্থায় যেতে অনেক সময় লাগে এবং এর জন্য ইতিবাচক থাকাটা জরুরী।

বেশির ভাগ নারীই তাদের এই পরিবর্তিত অবস্থা নিয়েই জীবন অতিবাহিত করেন কারণ তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারেননা যে, এই সাময়িক পরিবর্ধিত উদর পুনরায় কমানো সম্ভব। যদি আপনি সিজারিয়ান পরবর্তী কিছু নিয়ম পালন করেন তাহলে আপনার পাকস্থলী আবার ফ্ল্যাট হতে পারে।

যেকোন ধরণের পেটের মেদ কমানো খুব সহজ নয় এবং সিজারিয়ান করলে অবস্থাটা আরো বেশি কঠিন হয়ে যায় কারণ তখন স্ট্যান্ডার্ড অ্যাবডোমিনাল এক্সারসাইজ করা যায়না। তথাপি বিকল্প উপায়ে সিজারিয়ান পরবর্তী পেটের মেদ কমানো যায়। আসুন জেনে নেই সেই মুল ধাপ গুলো সম্পর্কে।

১। সি-সেকশনের পরে ওজন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করানো। বাচ্চাকে ৬ মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এর সাহায্যে আপনার পেটের অনেক অতিরিক্ত মেদ কমে যাবে।

২। ডেলিভারির পরে প্রথম ছয় মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে প্রেগনেন্সি হরমোন পরিভ্রমণ করে এবং শরীরের সব চর্বি ঢিলে ঢালা থাকে। এই চর্বি ঘনীভূত হয়ে জমাট বেঁধে গেলে ওজন কমানোটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। সাধারণ কিছু এক্সারসাইজ শুরু করুন যেমন- হাঁটা।

৩। পেটের মেদ কমাতে চাইলে আপনাকে শুধুমাত্র খাওয়া, ঘুমানো ও ওয়াশ রুমে যাওয়ার সময় ছাড়া সর্বক্ষণ পেটের বেল্ট পরে থাকতে হবে। এটা অনেক বিরক্তিকর হলেও আপনি অবশ্যই ভালো ফল পাবেন।

৪। সি-সেকশনের পরে পেটের মেদ কমানোর ভালো উপায় হচ্ছে ইয়োগা করা। প্রাণায়াম করলে পেটের মাংসপেশি দৃঢ় হয়।

৫। পানি শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স রক্ষা করে। আপনি হয়তো অবাক হবেন এটা শুনে যে, পানি অন্ত্র থেকে অতিরিক্ত মেদ বের করে দিতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এতে ক্ষুধা কম লাগবে ও পেট ভরা থাকবে।

৬। বাচ্চাকে দুধ দিলে এক্সট্রা এনার্জির জন্য কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। এছারাও প্রোটিন, ফল ও সবজি খেতে হবে। তবে ঘি, মাখন ও মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৭। মিয়ামির Pritikin Longevity Center & Spa এর অ্যাসোসিয়েট মেডিক্যাল ডাইরেক্টর Dr. Danine Fruge নতুন মায়েদের স্বাস্থ্যকর খাওয়ার ব্যাপারে কিছু টিপস দিয়েছেন, তা হল-

· মুল খাবারে ফিরে যেতে হবে অর্থাৎ ফল ও সবজি খেতে হবে

· যদি আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাহলে আপনার খাওয়ার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মাবে না। তাই গর্ভবতী থাকা অবস্থায় যেভাবে যা ইচ্ছা হয়েছে তাই খেয়েছেন সেভাবে খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।

· তাই বলে অনাহারেও থাকবেন না। এটা আপনার ও আপনার বাচ্চার ক্ষতির কারণ হবে।
আপনি সিজারিয়ান অপারেশনের পরে কিছু দিন ভারী ব্যায়াম করতে পারবেন না বলে আপনি আপনার পূর্বের আকার ফিরে পাবেন না এমন ভেবে হতাশ হবেননা। ধৈর্য ধারণ করুন ও বিষয়টি ইতিবাচক ভাবে নিন এবং চেষ্টা করুন। আপনি অবশ্যই পেটের মেদ কমাতে সক্ষম হবেন।

মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭

নারী দেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১০টি ভিটামিন সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন ????

অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন বর্তমান নারীরা স্বাস্থ্যকর খাবার খেতেও চেষ্টা করেন সবসময় । তবে কোন খাবারকে আমারা বলব স্বাস্থ্যকর খাবার? যে খাবারে সঠিক পরিমানে ভিটামিন আছে সেটাই হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। সব বয়সের মেয়েদের জন্যই সঠিক মাত্রায় ভিটামিনযুক্ত খাবার অতীব প্রয়োজনীয়। নারীদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলো হল-

১) ভিটামিন এ

কেন দরকার 
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার সাথে সাথেব শরীরের হাড়, চামড়া, দাঁত, নরম টিস্যু তৈরি করে ,ক্রনিক ডিজিস প্রতিরোধ করে, দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
গাজর, মিষ্টি কুমড়া, এপ্রিকট , টমেটো, তরমুজ, পেয়ারা, ব্রোকলি, কালে, পেপে, রেড পিপার, পালং শাক, ডিম, কলিজা, দুধ।

২) ভিটামিন বি ২

রিবোফ্লাবিন নামে পরিচিত ভিটামিন টি মানুষের মানসিক ভাবে সুস্ত থাকার জন্যও দরকার।
কেন দরকার 
শরীরে শক্তি বৃদ্ধির, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা কমিয়ে মানুষকে উৎফুল্ল করে তোলে। পরিপাক তন্ত্র ভাল রাখে, স্নায়ু কর্মক্ষম করে,গলদাহ , মুখের আলসার , শুষ্ক চুল , ত্বকে ভাঁজ পড়া ইত্যাদি সমস্যা থেকে রক্ষা করে।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
মাংস, পনির, দুধ, টক দই, শাক,ডিম, সয়াবিন, নাট ও মাসরুম।

৩) ভিটামিন বি ৬

কেন দরকার 
শরীরে হরমোন উৎপাদন, বিষন্নতা, হৃদরোগ ওস্মৃতিশক্তি কর্মক্ষম রাখা, চিনির মাত্রা সঠিক রাখতে, গর্ভবতী মায়েদের সকাল বেলার দুর্বলতা কাটাতে, রক্ত স্বল্পতা দূর করতে।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
সিরিয়াল, আভাকাডো , কলা, মাংশ, বিন , ওটমিল, বাদাম, বীজ জাতীয় খাবার ও শুকনো ফল।

৪) ভিটামিন বি ৭

কেন দরকার
কোষের বৃদ্ধিতে ও ফ্যাটি এসিডের সংস্লেশন, চুল ও ত্বক সাস্থ্যময় রাখা, হাড়ের বৃদ্ধি ও অস্থি মজ্জা তৈরি করা, শরীরে কোলেস্টরল ঠিক রাখা।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
মাছ, মিষ্টি আলু, গাজর, কলা, হলুদ ফল, ডাল, ডিম এর কুসুম, সয়াবিন, ওটমিল, দুধ, পনির, দই ।

৫) ভিটামিন বি ৯

কেন দরকার
হৃদরোগ , উচ্চ রক্তচাপ, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, বিসন্নতা, ক্যান্সার এবং স্মৃতিশক্তি লোপ প্রতিরোধ করে, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
সবুজ সবজি, কমলা, তরমুজ,শস্যদানা, শিম , মটরশুটি এবং ডিম ।

৬) ভিটামিন বি ১২

কেন দরকার 
বিপাক ক্রিয়া ঠিক রাখতে, কোষ এর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে, প্রোটিন সংশ্লেষণ, স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া এবং রক্তস্বল্পতা রোধ
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
পনির , ডিম , মাছ , মাংস , দুধ , দই ।

৭) ভিটামিন সি

কেন দরকার 
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, টিস্যুর বৃদ্ধি ঘটাতে,ক্যান্সার, হৃদরোগ লাল রক্ত কণিকা গঠনে ।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
ব্রোকলি , আঙ্গুর , কমলালেবু , মরিচ , আলু , স্ট্রবেরি , টমেটো।

৮) ভিটামিন ডি

কেন দরকার 
ক্যালসিয়াম শোষণ ,হাড় শক্তিশালী করা, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য। অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে আপনার অস্টিওপরোসিস হতে পারে ।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট রোঁদে থাকলেই আপনার শরীর পরিমিত ভিটামিন ডি উৎপাদন করতে পারে। আবার মাছ,দুধ , গরুর কলিজা থেকেও পেতে পারেন।

৯) ভিটামিন ই

কেন দরকার 
চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া থেকে রক্ষা করে, হৃদরোগ , ছানি , স্মৃতিশক্তি লোপ প্রতিরোধ করে।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
গম, বাদাম , শাক , ভূট্টা তেল , কড লিভার তেল , মাখন , এবং সূর্যমুখী।

১০) ভিটামিন কে

কেন দরকার 
হাড় শক্ত করতে , রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে ও হৃদরোগের ঝুকি কমাতে।
কোন খাবারে আপনি ভিটামিনটি পাবেন-
শস্যদানা,সবুজ সবজি, সয়াবিন তেল ও মাছের তেল।

ঘুমের ঘরে উচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়া এবং বোবায় ধরার মানে কি জানেন?

সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ঘুম যেন এক চিরচেনা শান্তির পরশ। কিন্তু ঘুমের এই রাজ্যের সাথে আমাদের জাগ্রত মনের খবরাখবর লেনদেন কোথায় যেন গিয়ে সীমাবদ্ধ। আপনি সারাদিনের পরিশ্রম শেষে ঘুমাতে গেলেন, বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে গেলেন কিন্তু হঠাত অনুভব করলেন উপর থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন।

কিংবা আরামের ঘুমের মধ্যে হঠাত মনে হলো কেও একজন আপনার বুকের উপর চেপে বসে আছে। নড়াচড়া করতে পারছেন না, গলা দিয়ে স্বর ও বের হচ্ছেনা। কিছুক্ষণ পর ঘেমে নেয়ে আসলেন আপনি, আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হয়ে উঠলো সবকিছু। এই ঘটনাকে অনেকেই জ্বিনের আছর বলে আখ্যায়িত করেন! কিন্তু এর পিছে বৈজ্ঞানিক সুস্পষ্ট ব্যখ্যা রয়েছে।

ঘুমের মধ্যে হঠাত পড়ে যাওয়ার এই অনুভূতি কে বলা হয় হাইপোনিক জার্ক। আসলে মস্তিষ্ক আর শরীরের মধ্যে এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টির ফলেই এই ঘটনার উৎপত্তি। ঘুমানোর সাথে সাথেই আমাদের মাংসপেশীগুলো শিথিল হওয়া শুরু করে। কিন্তু অনেক সময় এই ঘটনা শুরুর সাথে সাথেই মস্তিষ্ক সেটা বুঝে উঠতে পারে না। হঠাত করে শরীর ছেড়ে দেবার এই ঘটনাকে সে উপর থেকে নিচে যাওয়া ভেবে ভুল করে। সুতরাং উপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার এই বিপদ মোকাবেলা করার জন্য মস্তিষ্কের মাতব্বরীতে হাত-পা শক্ত হয়ে যায় আর হঠাত ঝাকি দিয়ে আমরা ঘুম থেকে জেগে উঠি।

খেয়াল করলে দেখবেন যে প্রচণ্ড কাজ বা পড়াশুনার চাপে থাকলে এই ঘটনা বেশি ঘটে। এর কারণ হলো এসব চিন্তার মধ্যে থাকলে দেখা যায় আমরা ঘুমানোর সময় ও এগুলা ভাবতে ভাবতেই ঘুমাই। যার ফলে ব্রেন ঐ দিকে ব্যস্ত থাকে আর আপনাকে যে ঘুমের পর মাংসপেশি শিথীল হয়ে যাওয়া যে স্বাভাবিক এই কথা বেমালুম ভুলে যায়। তাই সাধারণ এই ঘটনাকে উপর থেকে পড়ে যাবার দূর্ঘটনা ভেবে ভুল করে।

এতো গেল এক ধরনের সমস্যা, কিন্তু বোবায় ধরা আসলে কী? প্রথমে বলি এর নামকরণ বৃত্তান্ত। প্রাচীনকালে মানুষের ধারণা ছিল বোবা নামে এক ধরনের ভূত ঘুমের মধ্যে মানুষের বুকে চেপে বসে সাময়িক ভাবে তাকে বোবা করে দেয়। তাই কালক্রমে এই ঘটনাকে বোবায় ধরা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সাধারণভাবে একে স্লিপ প্যারালাইসিস বলা হয়।

আমাদের ঘুমের দুইটি পর্যায় আছে। আরইএম (র‍্যপিড আই মুভমেন্ট) আর নন আরইএম (নন র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায়। এই দুই পর্যায়ের মধ্যে যদি কখনও আমাদের ঘুম ভেংগে যায় তাহলে আমাদের জেগে থাকা সম্পর্কে মস্তিষ্ক অবগত থাকে না। খেয়াল করলে দেখবেন এইরকম অবস্থা স্বপ্ন দেখতে দেখতেই বেশি হয়, অর্থাৎ হঠাত করে স্বপ্ন ভেঙে যাবার পর এরকম ঘটনার উতপত্তি হয় অধিকাংশ সময়ে।

আরইএম পর্যায়ে আমরা মূলত স্বপ্ন দেখি আর হঠাত ঘুম ভেঙ্গে গেলে আমরা ননআরইএম পর্যায় পরিভ্রমণ করে তারপর জেগে উঠি। অর্থাৎ গাঢ় ঘুম আগে হালকা হয় তারপর আমরা জাগি। কিন্তু কখনও কখনও মস্তিষ্ক এত দ্রুত ব্যপারটা ধরতে পারে না। তাই সে ভেবে বসে আমরা এখনও ঘুমিয়েই আছি। তাই শরীর ঘুমের মতোনই শিথীল থাকে। আমরা যে জেগে আছি এটা জানতে তার কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৭

খালি পেটে ভুলেও খাবেন না এই ৬টি খাবার

ঘুম থেকে উঠে অনেকে অনেক কাজ করে থাকেন। কেউ খালি পেটে পানি পান করেন কেউ বা চা আবার কেউ খালি পেটে কফি পান করে থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন খালি পেটে কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত আর কোন খাবারগুলো খাওয়া একেবারেই উচিত নয়? খালি পেটে লেবু পানি বা রসুনের কোয়া খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তা আমরা জানি। এমন কিছু খাবার আছে যা দারুন স্বাস্থ্যকর, কিন্তু খালি পেটে খাওয়া একদমই উচিত নয়।

১। সোডা জাতীয় পানি পান : খালি পেটে কোক, মিরিন্ডা, বা সোডা জাতীয় খাবার খেলে কি হবে? এই খাবারগুলো অ্যাসিড লেভেল বৃদ্ধি করে দেয়, যার কারণে অ্যাসিডিটি সমস্যা, বমি বমি ভাব এমনকি জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।

২। কলা : স্বাস্থ্যকর এই ফলটি খালি পেটে খাওয়া বেশ ক্ষতিকর। আমরা সবাই জানি কলা ম্যাগনেসিয়ামের একটি বড় উৎস। কিন্তু খালি পেটে কলা খেলে শরীরের ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেয়। যার কারণে শরীরে ম্যাগনেশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। যা হৃদয় ও রক্ত ধমনী জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে।

৩। টমেটো : টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন এবং ট্যানিক অ্যাসিড রয়েছে। টমেটো খালি পেটে খেলে, ট্যানিক এবং পেকটিন অ্যাসিডের সাথে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের বিক্রিয়া ঘটিয়ে থাকে। যা পাকস্থলীতে পাথর সৃষ্টি করে।

৪। টক দই : স্বাস্থ্যকর টকদই ও খালি পেটে খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। এটি আপনার হজম শক্তি নষ্ট করে দেয়। এমনকি টকদইয়ে পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায় খালি পেটে এটি খাওয়ার কারণে।

৫। মিষ্টি আলু : মিষ্টি আলুতে টমেটোর মত পেকটিন এবং ট্যানিক অ্যাসিড রয়েছে। যার কারণে খালি পেটে খেলে পাকস্থলীতে পাথর হতে পারে। এমনকি এটি বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাসিটের ব্যথার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

৬। মশলা জাতীয় খাবার : অতিরিক্ত ঝাল মশলা জাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খালি পেটে ঝাল মশলা জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে গ্যাস সৃষ্টি হয়ে থাকে, যা অ্যাসিডিটিসহ পেটে ব্যথার কারণ হয়ে থাকে।

দুধ ও কলা একসাথে খেলে শরীরের কি উপকার করে???

দুধ পান কিংবা কলা খাওয়ার উপকারিতা সবারই জানা আছে৷ কিন্তু যদি দুটোই একই সাথে খাওয়া হয় তবে কিন্তু উপকারিতা বা লাভ আরো বেড়ে যায় তা কি লক্ষ্য করেছেন? এটিকে দুধ-কলা ডায়েট বলা হয়৷ ১৯৩৪ সালে ডা: জর্জ হারোপ দুধ-কলা ডায়েট প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন। চলুন জানা যাক এর উপকারিতাঃ

ক্যালরি

এই খাবারটিতে প্রচুর ক্যালরি আছে৷ সাধারণত তিনটি কলা ও এক কাপ ফ্যাটমুক্ত দুধ খেতে হয়৷ কলা ও দুধ আগে পরেও খাওয়া যায়৷ এটি আপনার ত্বক মশৃণ করবে৷ তবে এর পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হয়৷এর দ্বারা আপনি দৈনিক এক হাজারের মত ক্যালরি পাবেন৷
প্রতিটি কলায় ১০০ ক্যালরি শক্তি থাকে৷ আর এক কাপ দুধে ৮০ থেকেও বেশি ক্যালরি থাকে৷ তাই দৈনিক তিনবার ৯০০ ক্যালরি পাওয়া যায়৷ এই ক্যালরি ওজন কমাতে সহায়ক।

ক্যালরি

এই খাবারটিতে প্রচুর ক্যালরি আছে৷ সাধারণত তিনটি কলা ও এক কাপ ফ্যাটমুক্ত দুধ খেতে হয়৷ কলা ও দুধ আগে পরেও খাওয়া যায়৷ এটি আপনার ত্বক মশৃণ করবে৷ তবে এর পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হয়৷এর দ্বারা আপনি দৈনিক এক হাজারের মত ক্যালরি পাবেন৷
প্রতিটি কলায় ১০০ ক্যালরি শক্তি থাকে৷ আর এক কাপ দুধে ৮০ থেকেও বেশি ক্যালরি থাকে৷ তাই দৈনিক তিনবার ৯০০ ক্যালরি পাওয়া যায়৷ এই ক্যালরি ওজন কমাতে সহায়ক৷

ত্বক ও দাঁতের যত্নে

কলা-দুধ ডায়েট ত্বক উজ্জ্বল ও মশৃণ করে৷ ব্রণের চিহ্ন দূর করে৷ দাঁত সাদা করতে এটি খুবই কার্যকরি৷ এটি আপনার সৌন্দর্য বাড়াতে সক্ষম৷

পুষ্টিতে ভরপুর কলা

কলায় প্রচুর ভিটামিন এ, বি, সি ও ই রয়েছে৷ এতে খনিজ, পটাশিয়াম, জিংক, আয়রন রয়েছে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারি৷

ফ্যাটমুক্ত দুধের গুণ

এতে চর্বির মাত্রা কম বা থাকেই না৷ তাই এটি কোলোস্টেরল কমাতে খুবই উত্তম আহার৷ ফ্যাটমুক্ত দুধে ফ্যাট বা চর্বি ছাড়া বাকি উপাদানগুলো যথাযথ পরিমাণে থাকে৷ দুধের প্রোটিন মাংসপেশী মজবুত করে৷
যখন দুধ-কলা একসাথে খাওয়া হয় তখন শরীর প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার অথবা খনিজ পদার্থের যোগান হয়৷ এই ডায়েট প্রোগ্রামে কোন ফ্যাট থাকে না৷ এই খাবার একবার খেলে তিন চারদিনের শক্তির যোগান হয়ে যায়৷

সাবধানতা

ওজন কমানোর জন্য আপনি শুধু এই কলা-দুধ ডায়েটের উপর নির্ভর করতে পারেন৷ তবে এতে শরীরে ক্যালরির যোগান কিছুটা কম হওয়ায় দূর্বল লাগতে পারে৷ সেক্ষেত্রে দিনে দুইবার খেতে হবে৷ আর একবার অল্পকিছু স্বাভাবিক খাবার (ভাত ও অন্যান্য তরকারি) খেয়ে যান৷ মহিলাদের মাসিকের সময় এই প্রোগ্রাম পরিহার করতে হবে৷ কারণ এই প্রোগ্রামে আয়রনের ঘাটতি আছে৷